,
সংবাদ শিরোনাম :
ইংরেজির চেয়েও কোডিং শেখা বেশি দরকারি: টিম কুক জীবন বাঁচাল অ্যাপল স্মার্টওয়াচ! যেভাবে পর্নোগ্রাফি ব্লক করবেন অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ডব্লিউডব্লিউই’র সঙ্গে ভারতের প্রথম নারী রেসলারের চুক্তি বিটিসিএলের ২,৫৭৩ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন আইএস-সমর্থিত শক্তিশালী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সিরিয়ার রাজধানী রাকা রাজবাড়ী জেলার পাংশা হতে বিপুল পরিমান কারেন্ট জাল ও মা ইলিশ জব্দ, আটক ০৫ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জন্ম এরদোগান ও এমিনির! আদমদীঘিতে সাবেক পাটমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীসহ দুইজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা বাঁশখালীতে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে জমি জবর দখলের অভিযোগে মালিকদের ফের বিক্ষোভ সমাবেশ

চট্টগ্রামে র‌্যাব সদস্যদের মাজার লুটের মামলায় অভিযোগ গঠন

[author ]চট্টগ্রাম অফিস[/author]
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তালসরা দরবার শরিফের টাকা লুটের মামলায় চার র‌্যাব সদস্যসহ সাতজনের বিচার শুরু হল। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নুরে আলম ভুঁইয়ার আদালতে অভিযোগপত্রভুক্ত সাত আসামির সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়। আদালত সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২৩ অক্টোবর দিন ধার্য করেছে বলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আ ক ম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী সাহাবুদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আসামিরা মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন। আদালত তা নামঞ্জুর করে দ-বিধির ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় (দস্যুতা ও ডাকাতি) অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আসামিরা হলেন- র‌্যাব-৭-এর তৎকালীন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (চাকরিচ্যুত) জুলফিকার আলী মজুমদার, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট (বাধ্যতামূলক ছুটিতে) শেখ মাহমুদুল হাসান, র‌্যাব-৭-এর সাবেক ডিএডি আবুল বাশার, এসআই তরুণ কুমার বসু, র‌্যাবের তিন সোর্স দিদারুল আলম ওরফে দিদার, আনোয়ার মিয়া ও মানব বড়ুয়া। অভিযোগ গঠনের সময় জামিনে থাকা সাত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পিপি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর মামলা। এলিট ফোর্স র‌্যাবের ওপর জাতি কত আশা করে। অথচ এরা দরবার শরিফে ঢুকে সেখানকার লোকজনকে আটকে রেখে দরবার ও মসজিদ সংস্কারের জন্য মানুষের দেওয়া দুই কোটি টাকা লুণ্ঠন করে নেয়।
তালসরা দরবারে ২০১১ সালের ৪ নভেম্বর রাতে র‌্যাব সদস্যরা গিয়ে তল্লাশির নামে ২ কোটি ৭ হাজার টাকা লুটের অভিযোগে ২০১২ সালের ১৩ মার্চ আনোয়ারা থানায় র‌্যাব সদস্যসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি হয়।
তালসরা দরবারের পীরের গাড়িচালক মো. ইদ্রিসের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, জুলফিকার মজুমদারের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল অভিযান চালিয়ে দরবার শরিফে রাখা আলমারি ভেঙে দুই কোটি সাত হাজার টাকা নিয়ে যায়।
ওই রাতে দরবার শরিফ থেকে মিয়ানমারের পাঁচ নাগরিককে র‌্যাব সদস্যরা আটক করে। তাদের থানায় হস্তান্তর করা হলেও টাকার বিষয়ে কোনো কিছুই উল্লেখ করেনি র‌্যাব।
এ ঘটনা পরে জানাজানির পর র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে করা তদন্ত কমিটির প্রাথমিক তদন্তে টাকা লুটের ঘটনায় র‌্যাব সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
২০১২ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকার মগবাজার থেকে গ্রেপ্তার হন জুলফিকার। তবে ২১ জুন উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে মুক্ত হন তিনি।
এরপর ২০১২ সালের ২৬ জুলাই জুলফিকারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন আনোয়ারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুস সামাদ।
২০১২ সালেই মামলা বাতিল চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করেন জুলফিকার ও মাহমুদুল হাসান। ২০১৫ সালের ১১ মার্চ জুলফিকারের করা রুল আবেদনটি হাই কোর্টে বাতিল হয়ে যায়।
সর্বশেষ গত বছরের ১৮ আগস্ট মাহমুদুল হাসানের পক্ষে আবেদনটি না চালানোর কথা জানানো হলে সেটিও বাতিল করে দেয় হাই কোর্ট।
এরপর সংশ্লিষ্ট জিআরও শাখায় প্রায় চার বছর আগে জমা পড়া অভিযোগপত্রটি আদালতের নির্দেশে বিচারিক আদালতে আসে।
পিপি সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তা জুলফিকার আলী মজুমদারের গাড়িচালক ও দেহরক্ষী ডাকাতির বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া অন্য তিনজন সাক্ষীও জবানবন্দি দিয়েছেন। আশা করি, অভিযোগ প্রমাণিত হবে।

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ