২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং || সোমবার||

তোফা-তহুরা পেল সোলার প্যানেল

About The Author

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
তোফা-তহুরার সুষ্ঠু সেবা নিশ্চিতকরণে তাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সরকার। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে প্রায় একমাস বিলম্ব হওয়ার কারণে তোফা-তহুরার নানার বাড়িতে লাগানো হল সোলার প্যানেল। বর্তমানে তারা রামজীবন ইউনিয়নের কাশদহ গ্রামের নানা শহিদুল ইসলামের  বাড়িতে অবস্থান করছেন।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পালের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক গতকাল মঙ্গলবার সকালে সুন্দরগঞ্জের ইউএনও এসএম গোলাম কিবরিয়া ও পিআইও নুরুন্নবী সরকার তোফা-তহুরার নানার বাড়িতে গিয়ে ৫০ ওয়ার্ড ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সোলার প্যানেল  চালু করে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ফ্রেন্ডশিপের গাইবান্ধা জেলা সমন্বয়কারী আব্দুস সালাম, ইনর্চাজ এসইডি বিজয় কুমার।
সোলার প্যানেলের ফ্যানের মৃদু বাতাসে তোফা-তহুরা যেন শান্তির পরশ পেল। তারা যেন ফিরে পায় ঢাকা মেডিকেলের সেই আরামদায়ক পরিবেশ। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায়  তোফা-তহুরার মা শাহিদা বেগম জানান, ঢাকা থেকে ফিরে আসার পর তার দুই মেয়ে গরমে অস্বস্তি বোধ করছিল বিদ্যুৎ না থাকায়। সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ফ্যান চালু হওয়ার পর তাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
রোববার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে রিলিজ দেয়া হয় তাদের। পরে তারা গাড়ীতে রওনা হয় বাড়ির উদ্দেশে। রোববার  রাত ২.৩০ মিনিটের সময় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের কাশদহ গ্রামের নানার বাড়িতে পৌঁছায় তারা। এখবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকে তোফা-তহুরাকে দেখতে  মানুষের ঢল নামে।
২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নানার বাড়িতে গ্রামের দাইয়ের হাতে যমজ সন্তানের জন্ম দিলেন শাহিদা বেগম। দুই বোন শুধু যমজ নয়  একজন আর একজনের সাথে জোড়া লাগানো। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় খবর প্রকাশ হলে বিষয়টি প্রধান মন্ত্রীর নজরে আসে । পরে ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশে শুরু হয় তাদের চিকিৎসা। ২০১৬ সালের ২০অক্টোবর তাদের প্রথম অস্ত্রোপচার করা হয় । ২০১৭ সালের ১ আগষ্ট তাদেরকে আলাদা করার জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়। ঢাকা হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক আশরাফুল হকের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক তার অস্ত্রোপচার করেন। দীর্ঘদিন পর ১০ সেপ্টেম্বর তাকে রিলিজ দেযা হয়। তোফা-তহুরা শাহিদা বেগমের ২য় সন্তান। দীর্ঘ ৮বছর আগে দহবন্দ ইউনিয়নের ঝিনিয়া  গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে রাজু মিয়ার সাথে বিয়ে হয় শহিদার।
কাশদহ গ্রামের  শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, মেয়ে দুটি অত্যন্ত ভাগ্যবান। তাদের উপলক্ষে গ্রামটি আলোকিত হয়ে পড়ল। গ্রামবাসী পেতে যাচ্ছে বিদ্যুৎ সংযোগসহ রাস্তাঘাট ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।
ইউএনও এসএম গোলাম কিবরিয়া  জানান, তোফা-তহুরার  তত্ত্বাবধানে সরকার সর্বদায় সচেষ্ট থাকবে। সন্তান দুটিকে সুষ্ঠুভাবে লালন পালনের জন্য যা ব্যবস্থা করা দরকার তা সরকারের পক্ষ হতে করা হবে।

ব্যস্ত সময় কাটছে রাজশাহীর প্রতিমা শিল্পীদের
রাজশাহী অফিস
আর মাত্র কিছু দিন পরই শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব। ম-পে ম-পে উঠবে দেবী দুর্গার প্রতিমা। তাই এখন প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত রাজশাহীর শিল্পীরা। সময়মতো প্রতিমা সরবরাহ করতে দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছেন তারা।
রাজশাহীতে এ বছর মোট ৪২০টি ম-পে দুর্গা পূজার আয়োজন করা হবে। এর মধ্যে শুধু রাজশাহী মহানগরীতে ৬৭ থেকে ৭০টি পূজা ম-প হবে। নগরীতে ১০ থেকে ১২ জন এবং জেলার ৬০ থেকে ৭০ জন কারিগর এসব ম-পে প্রতিমা সরবরাহ করবেন। তাই একেকজন কারিগরকে তিন থেকে পাঁচটি প্রতিমা তৈরির কাজ করতে হচ্ছে।
রাজশাহী নগরীর আলুপট্টির প্রতিমা তৈরির কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, কার্তিক চন্দ্র পাল ও গণেশ কুমার পালের কারখানার শিল্পীরা প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। সবাই ব্যস্ত প্রতিমার গায়ে কাদা মাটির প্রলেপ লাগাতে। আর কদিন পর এসব প্রতিমার গায়ে রঙ-তুলির আঁচড় পড়বে বলে জানান শিল্পীরা।
ঋষি কান্ত পালের ছেলে প্রতিমা শিল্পী কার্তিক চন্দ্র পাল। ২৫ বছর বয়সের কার্তিক ১৪ বছর বয়স থেকেই এ পেশায় জড়িত। তিনি জানালেন, পঞ্চমীর রাতের আগেই তাদের প্রতিমার সব কাজ শেষ করতে হবে। তাই বাংলা আষাঢ় মাসের ১৫ তারিখ থেকেই তারা প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। সময় মতো প্রতিমা সরবরাহ করতে দিনরাত এক করে তারা কাজ করছেন।
প্রতিমা শিল্পীরা জানিয়েছেন, একটি প্রতিমা তৈরিতে শিল্পীদের ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতিমা তৈরির জন্য লাগে তিন থেকে চার ভ্যান মাটি। খড় লাগে পাঁচ থেকে ছয় পৌন। এছাড়া কাঠ, বাঁশ, দড়ি, পেরেক, সুতা, ধানের তুষ ও কয়েক ধরনের রঙ কিনতে তাদের এই টাকা খরচ হয়। রাজশাহীতে একেকটি প্রতিমা ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
শিল্পীরা জানান, একটি প্রতিমা তৈরি করতে সময় লাগে ১০ থেকে ১২ দিন। প্রতিমা তৈরিতে কয়েকজন শিল্পী একসঙ্গে কাজ করেন। একেকজন শিল্পী প্রতিমার এক এক কাজে হাত দেন। সবার সম্মিলিত কাজে পূর্ণতা পায় একেকটি প্রতিমা। প্রতিমা বিক্রির পর যে টাকা লাভ হয়, তা তারা সবাই মিলেই ভাগ করে নেন। এভাবে সারা বছরই টুকটাক তারা কাজ করতে থাকেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অনিল কুমার সরকার বলেন, চলতি মাসের ২৬ তারিখ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হবে। এ জন্য ম-পে ম-পে এখন প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে।
জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজশাহীর সব পূজা ম-পে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ম-পগুলোতে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকে থাকবেন গোয়েন্দারা। ম-প এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। কেউ যেন কোনো প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে সে জন্য সর্বদা তৎপর থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বদলে গেছে বৈশাখী টিভি
দুলাল খান
বদলে গেছে বৈশাখী টিভি। দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে এখন এ চ্যানেলটি। এমন তথ্য পাওয়া গেছে টিআরপি রিপোর্ট থেকে।  ঈদুল আজহাতেও এ সাফল্য অব্যাহত থাকবে তা বলা যায় নিঃসন্দেহে। ৭ দিনের ঈদ আয়োজন ছিল চোখে পড়ার মতো। ৭টি একক নাটক আর ৩টি ধারাবাহিকসহ সব অনুষ্ঠানই দারুণ প্রশংসা  কুড়িয়েছে দর্শকদের। এ সাফল্যের নেপথ্য কারিগর হলেন বৈশাখী টিভির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক টিপু আলম। শুধুমাত্র তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণেই দেশীয় অনেক চ্যানেলকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে এসেছে এবং দর্শকনন্দিত হয়েছে বৈশাখী টিভি। ঈদের পর বৈশাখী টিভি ভবনে কথা হয় তার সঙ্গে।
আমাদের মূল লক্ষ্য আসলে বিদেশি চ্যানেলগুলোর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে
টিপু আলম
উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক, বৈশাখী টিভি
টিপু আলম বলেন, চলতি ২৯ থেকে ৩৪তম এই ৬ সপ্তাহের মধ্যে টিআরপি রিপোর্টে বৈশাখী টিভি তিনবার প্রথম, একবার দ্বিতীয় এবং ২বার চতুর্থ হয়। আমরা জানি, টিআরপি একটা বিষয় কিন্তু আমরা আমাদের স্ক্রিন সাজাই আপামর দর্শক চাহিদার কথা চিন্তা করে। যে করেই হোক তারা যাতে সেরা বিনোদনটা উপভোগ করতে পারে আমাদের দৃষ্টি থাকে আসলে সেদিকেই। সে কারণেই ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে আমাদের চ্যানেলটি। এ অর্জন বৈশাখী টিভির কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার। আমার একার কৃতিত্ব নয়, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণেই আমরা এতদূর আসতে পেরেছি। সে চেষ্টা আমরা অব্যাহত রাখতে চাই

‘আমরা নিধনের মুখোমুখি’
ডেসটিনি ডেস্ক
আমার ২৪ বছরের পুরো সময়ে রাখাইনের খোলা আকাশের নিচে একজন বন্দির মতো ছিলাম। আমি মিয়ানমারে জন্মগ্রহণ করেছি; আমার বাবা-মা ছিলেন। কিন্তু মায়ের গর্ভে থাকাকালীন আমার নাগরিকত্ব ছিনিয়ে  নেয়া হয়।
আমার জাতিগত পরিচয়ের কারণে চলাফেরা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়। সরকারি কাজে আমাকে নিষিদ্ধ করা হয়, উচ্চশিক্ষা গ্রহণের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়, রাজধানী ইয়াঙ্গুনে যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এমনকি উত্তরাঞ্চলের রাখাইন রাজ্য ত্যাগের সুযোগও বাতিল করা হয়। বৈষম্যের সর্ব-নিকৃষ্ট বিষয়ে পরিণত হয়েছি আমি, আর আমার সঙ্গে এসব করা হয়েছে, কারণ আমি একজন রোহিঙ্গা- একজন রোহিঙ্গা মুসলিম।
কয়েক বছর ধরে আমার সম্প্রদায়ের জনগণকে প্রতিনিয়ত হত্যা করা হয়েছে। যাদের সব মৌলিক অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে। সাধারণ সৃষ্টিতে দেখলে গুলি চালিয়ে হত্যা, জোরপূর্বক ও পরিকল্পিত উপায়ে আমাদের গৃহহীন করা হচ্ছে। আমাদের চোখের সামনেই বাড়ি-ঘর ধ্বংস করা হচ্ছে; আমরা একটি রাষ্ট্রের নৃশংসতা শিকার। আমাদের বর্তমান অবস্থা আপনার উপলব্ধির জন্য বলছি, আমি একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরছি, মনে করুন, একটি ক্ষুধার্ত বিড়ালের সঙ্গে খাঁচায় আটকা আছে একটি ইঁদুর। রোহিঙ্গাদের অবস্থা ঠিক এটার মতোই। আমাদের বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় হলো পলায়ন অথবা এই দশা থেকে মুক্তি দিতে কেউ এগিয়ে আসবে; সেই প্রত্যাশা। রাখাইনে আমাদের যারা আছেন, সেখানে বৃহত্তর রাখাইন সম্প্রদায় থেকে আমাদের পৃথক করার জন্য একটি সুসংগঠিত অভিযান চলছে। রাখাইনে আমাদেরকে ‘কালার’ (মুসলিমদেরকে গালি দেয়ার জন্য এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়) হিসেবে ডাকেন বৌদ্ধরা। শিশু, বৃদ্ধ কেউই এই গালমন্দ থেকে রেহাই পান না। আমরা স্কুল, হাসপাতালে বৈষম্যের শিকার এবং যেকোনো ভাবেই হোক সেখানে বৌদ্ধরা সব সময় আমাদেরকে প্রত্যাখ্যানের অভিযান জারি রেখেছে। তারা বলেন, শুধুমাত্র বৌদ্ধদের কাছ থেকে কেনাকাটা করুন। ‘আপনি যদি কোনো বৌদ্ধকে একটি পয়সা দেন, তাহলে তার একটি প্যাগোডা (মন্দির) তৈরিতে সহায়তা করতে পারবে। কিন্তু আপনি যদি কোনো মুসলিমকে এক পয়সা দেন, তাহলে তারা একটি মসজিদ তৈরি করবে। এ ধরনের মন্তব্য তারা নীতি-নৈতিকতায় পরিণত করেছে। আমাদের ওপর হামলা চালাতে চরমপন্থী বৌদ্ধদের উৎসাহ দিচ্ছে। শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সু চি ২০১৫ সালে যখন সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয় এবং সেনাবাহিনী অর্ধ-শতাব্দির আধিপত্যের অবসান ঘটে, তখন আমরা অনেক আশা করেছিলাম যে পরিবর্তন আসছে। আমাদের আত্মবিশ্বাস ছিল যে, গণতন্ত্রের বাতিঘর হিসেবে পরিচিত এই নারী আমাদের হয়রানি ও নিপীড়নের অবসান করবেন। দুঃখজনক হলেও খুব দ্রুতই এটা পরিষ্কার হয়, তিনি শুধু আমাদের কণ্ঠ রোধ করা থেকেই বিরত থাকবেন না বরং তিনি আমাদের দুঃখ-কষ্টকেও উপেক্ষা করবেন। তার নীরবতা দেখিয়েছে, সহিংসতায় তার ইন্ধন আছে। শেষে, তিনি আমাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছেন, আমাদের শেষ আশাও ব্যর্থ হয়েছে।
২০১২ সালে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় রাখাইনে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়। অভ্যন্তরীণভাবে অন্তত ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। ২০১৬ সালেও একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। (সংক্ষেপিত)।
(কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার কাছে লেখা এক রোহিঙ্গা মুসলিমের চিঠির অনুবাদ। মিয়ানমারের সরকারি নিপীড়নের ভয়ে নাম না প্রকাশের অনুরোধ রয়েছে তার।)

রোহিঙ্গাদের বন্ধু হয়েও যে কারণে নীরব পাকিস্তান
ডেসটিনি ডেস্ক
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে শরণার্থী হওয়া রোহিঙ্গাদের এখন পর্যন্ত যে কয়েকটা দেশ আশ্রয় দিয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশের পরই আছে পাকিস্তানের নাম। দেশটিতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। সারা বিশ্ব, বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলো রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে সরব হলেও মুসলিম উম্মাহর লাঠিয়াল হিসেবে পরিচিত পাকিস্তানের ভূমিকা একেবারেই নীরব। রোহিঙ্গা নিয়ে যেসব পাকিস্তানি সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তার মধ্যে ঘুরেফিরেই আসছে কেবল মালালার নামটি। যদিও তার অবস্থান পাকিস্তানের বাইরে। ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি অধ্যয়নরত।
এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আওয়াজ তোলা আর কোনো পাক নেতার হদিশ মিলেনি। সরকারী তরফ থেকে তো নয়ই, এমনকি যে ইমরান খান প্রতিবেশী দেশগুলোর ছোট খাটো বিষয়গুলো নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেখাতে ভুলেন না তিনিও যেন মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন! কিন্তু এর কারণ কি?
অভিযোগ উঠেছে, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানো তো দূরের কথা তলে তলে মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। কারণ গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের প্রভাবশালী ডন পত্রিকার সূত্রে জানা যায়, এ বছর ডিসেম্বর মাস নাগাদ পাকিস্তানে তৈরি ১৬টি জেএফ-১৭ যুদ্ধ বিমানের একটি চালান যাবে মিয়ানমারে। জেএফ-১৭ বিমানটি পাকিস্তান অ্যারোনোটিক্যাল কমপ্লেক্স ও চীনের চেংডু এয়ারক্রাফট ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশনের যৌথ প্রচেষ্টার ফসল। এই যুদ্ধবিমান ক্রয়কারী প্রথম দেশ হতে যাচ্ছে মিয়ানমার। জানা গেছে, চীন এবং পাকিস্তান মিলে সম্প্রতি মিয়ানমারকে সামরিক সহায়তাও করেছে। বিশেষ করে নিজেদের সামরিক সরঞ্জাম রফতানির প্রয়োজনে মিয়নামারকে বেছে নিয়েছে পাকিস্তান। মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে অস্ত্র রফতানিকারক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায় পাকিস্তান।
আবার ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের উত্তর পশ্চিম রাখাইন প্রদেশে দেশটির রোহিঙ্গা মিলিশিয়াদের সংগঠন আকায়ামুল মুজাহিদিন (এএমএম) যে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়েছিল-মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে এর দায়ভার আকারে ইঙ্গিতে পাকিস্তানের ওপরই দিয়েছিলো। মিয়ানমারের কয়েকটি পত্রিকা আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে সেসময় লিখেছিল এই হামলার পেছনে কলকাঠি নেড়েছে পাকিস্তানের রাষ্ট্রিয় গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিস ইন্টিলিজেন্স (আইএসআই)। এই প্রসঙ্গ নিয়ে কথা উঠেছে, এএমএম জানতো এরকম দু-একটা মিয়ানমার পুলিশ মেরে আদতে কিছুই হবে না। এর ফল ভোগ করবে সাধারণ রোহিঙ্গারা। আর এতে কার্যসিদ্ধি হবে মিয়ানমারের সামরিক ক্ষমতাপুষ্ট সরকারের। তারা ঢালাওভাবে রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িঘর পুড়িয়ে দেবে। এর ফলে এটাও নিশ্চিত যে, রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে আদতে আসল চাপটা পড়বে বাংলাদেশের উপরই। কারণ জীবন বাঁচাতে রোহিঙ্গারা বরাবরের মতোই ছুটে আসবে বাংলাদেশের দিকে। ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমনটি ঘটলে অন্তত পাকিস্তানের কিছু যায় আসে না। এছাড়াও বিশ্ব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তুরস্ক রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সরব হলেও নীরব সৌদি আরব। কৌশলগত অবস্থানের জন্য মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে চীনেরও সমঝোতা ভালো। চীন প্রতিবেশী পাকিস্তানকে নিজের করে রেখেছে ভারতকে চাপে রাখার জন্য। আর সৌদি আরব তো অনেক আগে থেকেই পাকিস্তানের ধর্মীয় বড় ভাই। সুতরাং রোহিঙ্গা নিয়ে মোড়ল দুই দেশের নীরবতা স্বাভাবিকভাবেই নীরব করে রেখেছে পাস্তিানকেও। টিআরটি।

পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে দ্রুতগতিতে
ডেসটিনি ডেস্ক
পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।  সেতুর ৩৮ নম্বর পিলারের ওপরের ক্যাপের খাঁচা উঠে  গেছে। রড ঝালাই করে লাগানো হচ্ছে। খুঁটিটির শেষ ধাপ এই পিলার ক্যাপের ঢালাই ১৩ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে ৩৭ নম্বরের পিলার ক্যাপের খাঁচা কুমারভোগের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে জাজিরায় নেয়ার কাজ শুক্রবার রাতে শুরু হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর খাঁচাটি ৩৭ নম্বর খুঁটিতে স্থাপন করা হবে। ৩৭ নম্বর ক্যাপটি অপেক্ষাকৃত বড়। এর পরে ১৫ সেপ্টেম্বর এর ঢালাই করার কথা রয়েছে। এই নিয়ে পদ্মায় এখন ভীষণ ব্যস্ততা। ৪ আগস্ট ৩৮ নম্বর পিলারের উপরের ক্যাপের খাঁচা লাগানো হয়। এর আগে রডের বিশাল ক্যাপের খাঁচা তৈরি করা হয় কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের পাশে ভাসমান জেডিতে।
এই ক্যাপ ঢালাইয়ের ১৪ দিনের মাথায়ই সুপার স্ট্রাকচার (স্প্যান) স্থাপন উপযোগী হবে। তাই এখন পদ্মা সেতুর দৃশ্যমানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্টরা চাচ্ছেন সেপ্টেম্বরের মধ্যেই স্প্যান স্থাপন করতে। সেই লক্ষ্যে সব প্রচেষ্টাই চলছে এখন। এই নিয়ে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘন ঘন কাজের তদারকি করছেন।
এদিকে হ্যামার সঙ্কটে দু সপ্তাহেরও বেশি সময় পাইল ড্রাইভ বন্ধ থাকার পর আবার পুরোদমে শুরু হয়েছে। ১৯শ কিলোজুলের নতুন হ্যামার মাওয়া প্রান্তের ১৪ নম্বর পিলারে পাইল ড্রাইভ করছে। আর ২৪শ কিলোজুলের হ্যামারটি নিয়মিত মবিল পরিবর্তনসহ সংস্কার শেষে আবার কাজে নেমেছে। এটি পাইল ড্রাইভ করছে জাজিরা প্রান্তের ৪১ নম্বর পিলারে। পদ্মায় এখন প্রবল  স্রোত। এরই মধ্যে সেতুর ভীত তৈরিসহ সব কাজই চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত পদ্মা মূল সেতুর নদীতে ৭৯টি পাইল ড্রাইভ হয়েছে। আর তীরের ৪২ নম্বরে আর ১৬টি পাইল স্থাপন হয়েছে। সব মিলিয়ে পাইল বসেছে ৮৫টি। এছাড়া জাজিরা প্রান্তে সংযোগ সেতুর ১৬৬টি পাইল বসেছে। আর সদ্য শুরু হওয়া মাওয়া প্রান্তের সংযোগ সেতুর পাইল বসেছে একটি। আরও একটি পাইল স্থাপনের কাজ চলছে। মাওয়া প্রান্তে ১৭২টি পাইল বসবে। অপর প্রান্ত জাজিরায় এই সংযোগ সেতুর ১৯৩টি পাইলের মধ্যে ১৬৬টি পাইল বসে গেছে। দু’পাড়ের সংযোগ সেতুর পাইল ৩৬৫টি।
এখন চারদিকে কমর্যজ্ঞ। এসব কর্মযঞ্জে আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার হচ্ছে। সবমিলিয়ে শরতে পদ্মা ও পদ্মা তীরে এখন বিশেষ পরিবেশ বিরাজ করছে। আর তাই অনেকে কৌতূহলী হয়ে আসছেন বাঙালির এই বীরত্বের সেতুর নির্মাণ শৈলী দেখতে। দেশি-বিদেশি কর্মীদের অবিরাম শ্রমে ক্রমেই স্বপ্নের সেতুটি দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে এখন।
আগামী ১৪, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর বিশেষজ্ঞ প্যানেলের গুরুত্বপূর্ণ সভা। এই সভায় দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা সরেজমিন সভা করবেন এবং সেতুর কাজের খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণ করবেন। পরে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিবেন। তাই গুরুত্বপূর্ণ সভাটি ঘিরে নানারকম প্রস্তুতি শুরু হয়েগেছে।
এদিকে নানা চ্যালেজ্ঞে পদ্মা সেতুর বাকি ১৪টি পিলারের চূড়ান্ত ডিজাইন অনুমোদনের কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বৃটিশ ‘কাউই’ নামের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এই ডিজাইনের কাজটি এগিয়ে এনছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনুমোদিত ডিজাইনটি পেশ করার কথা রয়েছে।
এদিকে ঈদেও পদ্মা সেতুর কাজ অন্যান্য ঈদের মতই চলমান ছিল। তবে যেসব প্রকৌশলী, কর্মকর্তা ও শ্রমিকরা ঈদ ছুটিতে ছিলেন, তাদের অধিকাংশই কাজে যোগদান করেছে। তাই পুরোদমেই ঈদের পরে আবার সেতুর কাজ শুরু হয়েছে।
এদিকে আসন্ন শুষ্ক মৌসুমকে ঘিরে কিছুটা পিছিয়ে পড়া পদ্মা সেতুর নদী শাসনের কাজ মাওয়া প্রান্তে পুরোদমে শুরুর প্রস্তুতি চলছে। জাজিরা গ্রান্তে ও মাঝেরচর এলাকায় নদী শাসনের নানা কাজ চলমান রয়েছে বলে দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন।
পদ্মা সেতুর ১০তম স্প্যান মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের খালাস হয়েছে। চীন থেকে সমুদ্র পথে আসা এটি নিয়ে ১০টি স্প্যান পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৭টি স্প্যানের ফিটিং সম্পন্ন হয়েছে। পদ্মা সেতুর জন্য মোট ৪১টি স্প্যান প্রয়োজন হবে। চীনে এপর্যন্ত ২০টি স্প্যান তৈরি সম্পন্ন হয়েছে। তৈরি হওয়া বাকি আরও ১০টি স্প্যান পর্যায়ক্রমে মাওয়া আনার কাজ চলছে। এছাড়া নতুন করে আরও ৮টি স্প্যান তৈরির কাজ এখন চীনে চলমান রয়েছে। এরপরই বাকি আরও ১৩টি স্প্যানের কাজ শুরু হবে। তবেই পূর্ণ হবে ৪১ স্প্যান। প্রতিটি স্প্যানের গড় ওজন প্রায় ৩ হাজার টন। ফিটিংয়ের পর এক একটি করে এই স্প্যান নিয়ে বসিয়ে দেয়া হবে পিয়ারের (খুঁটির) ওপর। আর ১৫০ মিটার দীর্ঘ এই সেতু বিশাল স্প্যান কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে খুঁটি পর্যন্ত বহন করে নিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৩৬শ টন ওজন ধারণের ক্ষমতার ভাসমান ক্রেন। এই ক্রেনটিই পাজা করে ধরে দিয়ে যাবে স্প্যান। ইতোমধ্যে এই স্প্যান বহনের মহড়াও সম্পন্ন হয়ে গেছে। এখন অপেক্ষা শুধু বাস্তবে এই স্প্যান বাসানো।

রোহিঙ্গা ইস্যু
ভারতের সমালোচনায় জাতিসংঘ
ডেসটিনি ডেস্ক
রোহিঙ্গাদের বিষয়ে এবং সাংবাদিক গৌরি লঙ্কেশ খুনের ঘটনায় ভারতের অবস্থানের সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ। যদিও জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের এই সমালোচনার বিষয়ে ভারত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
গতকাল মঙ্গলবার টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৪০ হাজার রোহিঙ্গাকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার হুমকির বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ভারতের সমালোচনা করেছে।
সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৩৬তম অধিবেশনে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ রাদ-আল হুসেইন নয়াদিল্লির সমালোচনা করেন।
মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সহিংস অভিযান চালাচ্ছে। এই সময়ে রোহিঙ্গাদের ভারত থেকে বের করে দেওয়ার হুমকির বিষয়ে নয়াদিল্লির সমালোচনা করেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার।
জেইদ রাদ-আল হুসেইন বলেন, প্রথাগত আইন ও আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী ভারত সমষ্টিগতভাবে রোহিঙ্গাদের বহিষ্কার করতে পারে না। নির্যাতনের শঙ্কা আছে বা গুরুতর সহিংস এলাকায় তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে পারে না।
এ ছাড়া গো-রক্ষার নামে ভারতে চলা তৎপরতা ও সম্প্রতি সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ খুন হওয়ার বিষয়েও নয়াদিল্লি জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সমালোচনার মুখে পড়েছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকেও জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ভারতের সমালোচনা করেছিল। সাম্প্রদায়িকতা বৃদ্ধি, জাতিগত সহিংসতাসহ বিভিন্ন মানবাধিকার ইস্যুতে তখন ভারতের সমালোচনা করা হয়েছিল। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েছে বলে মনে করে দেশটি।
গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি চৌকিতে হামলা করে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা। হামলার পর রাখাইনে সহিংস অভিযান শুরু করে দেশটির সেনা ও পুলিশ। অভিযানের মুখে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাখাইন থেকে তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।
সম্প্রতি মিয়ানমার সফর করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশটির ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রাখাইনে ‘উগ্রবাদী সহিংসতায়’ উদ্বেগ জানান মোদি। তবে তখন তিনি রাখাইনে সহিংসতার মুখে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল নিয়ে কোনো কথা বলেননি। রাখাইন পরিস্থিতির কারণে সেখান থেকে এই অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর ঢলে গতকাল শনিবার গভীর উদ্বেগ জানায় ভারত। রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ করে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার ওপরও ভারত জোর দেয়।

ফের অস্থিতিশীল চালের বাজার
হিলি প্রতিনিধি
দেশে চালের দাম সহনশীল রাখাসহ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার চাল আমদানিতে শুল্কের হার দুই দফা কমিয়েছে। শুল্ক কমিয়ে ২৮ ভাগ থেকে ২ ভাগ নির্ধারণ করেছে। তবে এর কোনো সুফল পাচ্ছে না সাধারণ জনগণ। শুল্ক কমানোর খবরে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা চালের দাম তিন দফা বাড়িয়ে ৩৯০ ডলার থেকে বর্তমানে ৫শ ডলার নির্ধারণ করেছে। এর  ফলে চালের দাম বেড়ে  প্রতি কেজি ৪২ থেকে ৪৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যেখানে ১০ ভাগ শুল্ক থাকাকালে চাল বিক্রি হতো ৩৭ থেকে ৩৮ টাকা কেজি দরে। এখন বন্দরের ব্যবসায়ীরা বলছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণেই দেশের বাজারে চালের দাম কমছে না।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চাল আমদানিতে শুল্ক ১০ ভাগ থেকে ২ ভাগ করার ফলে বর্তমানে বন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ ট্রাক চাল আমদানি হচ্ছে। শুল্কহার কমার পর গত ১৯ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বন্দর দিয়ে ১০৫৪টি ট্রাকে ৩৭,৩৬৬ টন চাল আমদানি হয়েছিল। আর পুরো আগস্ট মাস জুড়ে বন্দর দিয়ে ১৯৪৩টি ট্রাকে ৬৯ হাজার ৫২ টন চাল আমদানি হয়েছে। ঈদের ছুটি শেষে চলতি মাসের ৬ তারিখ বন্দর দিয়ে ৬০টি ট্রাকে ২ হাজার ১৮৮টন চাল আমদানি হয়েছে, ৭ আগস্ট ৭৩টি ট্রাকে ২ হাজার ৫৪৯ টন, ৯ আগস্ট ৯২টি ট্রাকে ৩ হাজার ১৯০টন, ১০ আগস্ট ১১১টি ট্রাকে ৪ হাজার ৪৭ টন চাল আমদানি হয়েছে। এভাবে গত চার দিনে বন্দর দিয়ে ৩৩৬টি ট্রাকে ১১ হাজার ৯৭৪ টন চাল আমদানি হয়েছে। আর গত জুলাই মাসে বন্দর দিয়ে ১ হাজার ৬৮৯টি ট্রাকে ৫৭ হাজার ৪৮১টন চাল আমদানি হয়েছে।
হিলি স্থলবন্দরে চাল কিনতে আসা পাইকারি ক্রেতারা জানান, সরকার চাল আমদানিতে শুল্ক ১০ ভাগ থেকে কমিয়ে ২ ভাগ করায় চালের দাম কেজিতে আড়াই থেকে ৩ টাকা কমার কথা থাকলেও চাল কিনতে এসে দেখছি দাম কমার পরিবর্তে আরো বেড়েছে। প্রতিদিনই ২০ পয়সা থেকে ৫০ পয়সা করে দাম বাড়ানো হচ্ছে। ভারতীয়রা চালের রফতানি মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। যার কারণে দেশের বাজারে চালের দাম বাড়ছে বলে আমদানিকারকরা জানান।
হিলি বাজারের পাইকারি চাল বিক্রেতা অনুপ বসাক জানান, সরকার চাল আমদানিতে শুল্কহার যে কমলো তার কোনও প্রভাব দেশের চালের বাজারের ওপর পড়েনি। শুধুমাত্র বন্দর দিয়ে চাল আমদানি বেশি হওয়ায় দেশের বাজারে চালের সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে। বাজারে চালের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি, উল্টো দু’সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম কেজি প্রতি ৩ থেকে ৪ টাকা করে বেড়েছে। বর্তমানে ভারত থেকে আমদানিকৃত স্বর্ণা জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে পাইকারিতে (ট্রাকসেল) ৪১ টাকা থেকে ৪১ টাকা ৫০ পয়সা কেজি দরে। আর রতœা জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৩ টাকা থেকে ৪৩ টাকা ৫০ পয়সা কেজি দরে। অথচ চাল আমদানির শুল্ক ১০ ভাগ থাকা কালে ভারত থেকে আমদানিকৃত স্বর্ণা জাতের চাল বাজারে বিক্রি হয়েছিল ৩৭ থেকে ৩৮ টাকা কেজি দরে। আর রতœা জাতের চাল বিক্রি হয়েছিল ৪১ টাকা কেজি দরে।
হিলি স্থলবন্দরের চাল আমদানিকারক মামুনুর রশিদ লেবু ও হারুন উর রশীদ হারুন জানান, দেশের জনগণ যাতে কম দামে চাল খেতে পারে সে কারণে চালের আমদানি পর্যায়ে আরোপিত শুল্ক ১০ ভাগ থেকে কমিয়ে ২ ভাগ নির্ধারন করেছে সরকার। কিন্তু ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কারণে সরকারের সেই আশা পূরণ হচ্ছে না। আমদানিকারকরা ভারতীয় রফতানিকারকদের কাছে পুরোপুরি জিম্মি হয়ে গেছে।
তারা আরো জানান, দেশের বাজারে চালের সরবরাহ বাড়াতে ও চালের দাম সহনশীল পর্যায়ে রাখতে ভারত থেকে আমদানির পাশাপাশি ভিয়েতনাম, চায়নাসহ অন্যান্য দেশ থেকে চাল আমদানি করতে হবে তাহলে দেশের চাহিদা যেমন মিটবে তেমনি ভারতীয় ব্যবসায়ীরা শুল্ক কমানোর সেই ফায়দাও হাসিল করতে পারবে না।
হিলি স্থলবন্দর পরিচালনাকারী পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো.সোহরাব হোসেন জানান, চাল আমদানিতে শুল্কহার কমানোর ফলে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানির পরিমাণ অনেকটা বেড়েছে। বর্তমানে বন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ ট্রাক করে চাল আমদানি হচ্ছে। ঈদের ছুটি শেষে গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে বন্দর দিয়ে আমদানি রফতানির পর  ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত চার কার্যদিবসে ৩৩৬টি ট্রাকে ১১ হাজার ৯৭৪টন চাল আমদানি হয়েছে। আর গত আগস্ট মাসে বন্দর দিয়ে ১৯৪৩টি ট্রাকে ৬৯ হাজার ৫২ টন চাল আমদানি হয়েছিল।

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

দৈনিক ডেসটিনি অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি