,



প্রতিরোধে প্রস্তুত হচ্ছে দেড় লাখ রোহিঙ্গা যুবক! হ মংডুতে নদীতে শত শত নারী-পুরুষের লাশ হ রাখাইনে ইকোনমিক জোন করছে মিয়ানমার হ রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক আজ

[author ]মাসুদ শায়ান[/author]
মিয়ানমার জান্তার বর্বর নির্যাতনের জবাব দিতে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে রোহিঙ্গা তরুণ ও যুবকরা। যে কোনো সময় রাখাইনে ভয়াবহ প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে আজ বুধবার  বৈঠকে বসছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর চালানো নৃশংসতায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এ  বৈঠক আহ্বান করেছে বৃটেন ও সুইডেন। মিয়ানমার জান্তার বর্বর নির্যাতনের জবাব দিতে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে রোহিঙ্গা তরুণ ও যুবকরা। যে কোনো সময় রাখাইনে ভয়াবহ প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাদের মা, বোন, স্ত্রীর সম্ভ্রম কেড়ে নেওয়া হয়েছে, বোনকে তুলে নেওয়া হয়েছে। বাবা ও ভাইকে হত্যা করেছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা। এমন পরিস্থিতিতে অনেক রোহিঙ্গা যুবকই এখন প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে জানিয়েছেন বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কয়েকটি সূত্র। তারা জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের হারানোর আর কিছু নেই। তাই এখন থেকে প্রতিরোধের প্রস্তুুতি নিচ্ছে রোহিঙ্গা যুবকরা। রোহিঙ্গাদের স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে দেড় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা যুবক প্রস্তুতি নিচ্ছে। মিয়ানমারের বিভিন্ন দুর্গম জঙ্গলে পালিয়ে থাকা রোহিঙ্গা যুবকরা প্রতিরোধের জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের কয়েকটি সূত্রও রোহিঙ্গা যুবকদের প্রস্তুতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
সূত্রগুলো জানিয়ে, মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর দমনপীড়নের পর থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ঢল নামে। যাদের বেশির ভাগই নারী, শিশু, মধ্য বয়সী ও বৃদ্ধ। যুবকদের সংখ্যা খুবই কম। যে সব যুবক এসেছে তারা অধিকাংশই সবল নয়। এর মানে হলোÑ  রোহিঙ্গা যুবকরা সেখানেই রয়ে গেছেন এবং সেখানে তারা কিছু একটা করছেন। কিন্তু কয়েকজন রোহিঙ্গা শরণার্থী জানান, মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা রোহিঙ্গা যুবকদের হত্যা করেছে। সহিংসতার শুরু হওয়ার পূর্বেই মিয়ানমার বাহিনীর পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে টার্গেট করা হয় রোহিঙ্গা যুবকদের। এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যা করা হয়। তবে স্থানীয় রোহিঙ্গা সূত্রগুলো বলছে, রোহিঙ্গা যুবকরা বেশ কয়েক বছর ধরেই মিয়ানমার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা মাঝে-মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশেও অবস্থান করেছে। হয়তো সামরিক অভিযানের সময় কিছু নিরীহ যুবককে হত্যা করা হয়েছে। তবে বেশি সংখ্যক যুবকই জঙ্গলে অবস্থান করে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।
সূত্রগুলো জানায়, রোহিঙ্গা যুবকরা মিয়ানমার বাহিনীকে উচিত জবাব দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে তারা সব কিছু ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সময়-সুযোগ বুঝে তারা প্রতিরোধ সৃষ্টি করবে এবং বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিবে। টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া কয়েকজন রোহিঙ্গার কাছে প্রশ্ন রেখেছিলাম, যুবকদের কি হয়েছে? উত্তরে তারা জানান, লড়াই করার জন্য যুবকরা রয়ে গেছে। তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে মিয়ানমার বাহিনীকে উচিত জবাব দেওয়ার জন্য। ঘুমধুম সীমান্ত কথা রোহিঙ্গা নেতা ইয়াকুব আলির সঙ্গে। তিনি জানান, সীমান্তবর্তী ১০টি গ্রামের অন্তত দুই শতাধিক যুবক ‘স্বাধীনতার যুদ্ধে’ যোগ দিয়েছে আরাকান রোহিঙ্গা স্যানভেশন আর্মিতে (এআরএসএ)। ইয়াকুব আলি প্রশ্ন রেখে বলেন, তাদের কী-ইবা করার ছিল! মা-বোন ও স্ত্রী সম্ভম কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। বাবা-ভাইকে পশুর মতো খুন করা হচ্ছে। এর চেয়ে লড়াই করে মারা যাওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন তারা। এআরএসএ বিদ্রোহীদের ভারি অস্ত্র বলতে কিছুই নেই। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে ছুরি, ঘরে তৈরি বোমা এবং আগ্নেয়াস্ত্র। ফলে মিয়ানমারের সুসজ্জিত সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে কতটুকু টিকতে পারবে বিদ্রোহীরা, সে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। কিন্তু তাতে দমছেন না রোহিঙ্গারা। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা আশাবাদী যে তাদের তরুণ সন্তানরা মিয়ানমার জান্তার কবল থেকে তাদের ভূমিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হবেন। মুহাম্মাদ হুসাইন নামের এক রোহিঙ্গা জানান, আমাদের শত শত যোদ্ধা পাহাড়ে অবস্থান নিয়েছে। আমরা আরাকানকে রক্ষায় শপথ নিয়েছি, সেটা চাকু এবং লাঠি দিয়ে হলেও আমরা করব। কুতুপালং ক্যাম্পে এক রোহিঙ্গা যুবকের মন্তব্য ছিল এমন, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমাদের তরুণরাও চিন্তা করছেন যুদ্ধে যোগ দেওয়ার। আমরা প্রতিজ্ঞা করেছি, প্রথম সুযোগেই আমরা সীমান্ত অতিক্রম করব। এদিকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারীরাও তাদের স্বামী ও যুবক সন্তানদের প্রতিরোধ যুদ্ধের জন্য উৎসাহিত করছেন। তারা মনে করেন, মিয়ানমার জান্তার কবল থেকে দেশকে উদ্ধার করতে হলে লড়াই করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। মরিয়ম বেগম (৪৫) বলেন, আমার তিন ছেলে আমাদের সীমান্ত পাড় করে আবার রাখাইনে ফিরে গেছেন। তারা বলে গেছে, মা আমাদের জন্য দোয়া কর, যাতে আমরা আমাদের অধিকার আদায় করতে পারি। আমরা সবাই দ্রুত আবারো রাখাইনে ফিরে যাব ইনশাল্লাহ। সাবিনা আক্তার (২৪) নামে আরেক রোহিঙ্গা গৃহবধূ বলেন, আমার স্বামী ও ২ দেবর আমাদের সীমান্তে পৌঁছে দিয়ে চলে গেছে। তিনি বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী  ও বৌদ্ধদের হামলায় আমাদের পরিবারের পুরুষ মহিলাসহ ৫ জন মারা গেছে, এর মধ্যে দুজনকে ঘরের মধ্যে আটকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে। আমাদের লোকজন আমাদের অধিকারের জন্য লড়াই করছে , আমরা যে কোনো মূল্যে আমাদের ভূমিতে ফিরে যেতে চাই। এর জন্য প্রয়োজন হলে আমরাও লড়াইয়ে যোগ দিব।
এদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত বৃটেনের স্থায়ী রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ রাইক্রোফট রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি আজ বুধবারের নিরাপত্তা পরিষদের  বৈঠক নিয়ে বলেছেন, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে কি অবর্ণনীয় অবস্থা চলছে তাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা কি পরিমাণে উদ্বিগ্ন সে বিষয়টি ফুটে উঠেছে এতে। ওই সব রোহিঙ্গা পালিয়ে রাখাইন ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকারের নৃশংস অত্যাচারকে জাতিসংঘ ‘জাতি নির্মূল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক সভ্যতায় একটি জাতিকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে অং সান সুচির সরকার। জাতিসংঘের তথ্য মতে, ২৫ আগস্ট সহিংসতা শুরুর পর কমপক্ষে তিন লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে।
এর আগে সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জায়েদ রাদ আল হোসেন মিয়ানমারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ওপর ‘সিস্টেম্যাটিক আক্রমণ’ চালাচ্ছে মিয়ানমার। তিনি এটাকে জাতি নির্মূল বা এথনিক ক্লিনজিং বলে আখ্যায়িত করেন। হোয়াইট হাউজ থেকেও রোহিঙ্গাদের ভয়াবহ পরিণতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা বলেছে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের বাস্তুচ্যুত হওয়া দেখে বোঝা যায়, সেখানকার নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা বেসামরিক সাধারণ মানুষদের নিরাপত্তা দিচ্ছে না। হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা আইনের প্রতি সম্মান দেখাতে, সহিংসতা বন্ধ করতে ও সব সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়া বন্ধের জন্য মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই। এর আগে আগস্টের শেষের দিকে মিয়ানমারের এই ভয়াবহ সহিংসতা নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। তবে তারা তখন কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। জাতিসংঘের কূটনীতিকরা বলছেন, বুধবার রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে জাতিসংঘের শীর্ষ এই সংস্থা যখন জরুরি  বৈঠক ডেকেছে তাতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে চীন। এদিকে মিয়ানমার জান্তা ও উগ্রবৌদ্ধদের নির্যাতনের চিহ্ন ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। শত শত লোকের লাশ মিলছে পথে ঘাটে নদীতে। এমনই এক লাশের নদীর খবর পেয়েছে সাংবাদিকরা। বার্মা-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা মংডুর শাহাব বাজারে একটি লাশের নদীর সন্ধান পেয়েছে রোহিঙ্গারা। গতকাল বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের একটি দল গোপনীয়ভাবে তাদের গ্রামে খাদ্যদ্রব্য নিতে আসলে পথ হারিয়ে ফেলে। দুর্গম পাহাড়ি পথ মাড়িয়ে সম্মুখে যেতে যেতে একটি নদীর পাড়ে গিয়ে থামে তারা। বাতাসে দুর্গন্ধ ভেসে আসায় নদীর পাড় ধরে এগিয়ে যায় রোহিঙ্গারা। এসময় নদীর হাঁটুজলে লাশের পর লাশ ভাসতে দেখে ভড়কে যায় দলটি।
প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গা দলটির ভাষ্য, নারী, শিশু ও পুরুষের অগণিত লাশ পড়ে আছে ওই নদীতে। লাশের বিদঘুটে পচা গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে। শেয়াল-কুকুরের খাওয়া লাশের হাড়গোড় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিলের ধারে ও নদীর পাড়ে। সব লাশই রোহিঙ্গার বলে জানান তারা। তাদের ধারণা পাঁচশর চেয়ে কম হবে না লাশের সংখ্যা। প্রত্যক্ষদর্শী দলটি আরো জানান, নদীটি টেকনাফের নাফ নদীর কোন শাখা নদী হতে পারে। শাহাব বাজারের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীটির সাতকাইন্না পাড়া এলাকায় লাশগুলো ফেলা হয়েছে বলে আন্দাজ করছে তারা। ২৪ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া চলমান সেনাবাহিনীর গণহত্যায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা হত্যার শিকার হয়েছে। এদের অনেকের লাশ গণকবর দিয়েছে সৈন্যরা। আবার অনেক লাশ জঙ্গলে ও লোকালয় থেকে বিচ্ছিন্ন নদীতে ফেলে দেয়। এ লাশগুলোও সৈন্যরা হত্যা পরবর্তী ফেলে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এবার রাখাইনে ইকোনমিক জোন করছে মিয়ানমার
মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সহিংসতার পর দেশটির সরকার এখন সেখানকার মংগদু শহরে স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়তে যাচ্ছে। এ নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর। ইকোনোমিক জোন গড়তে ইতিমধ্যে একটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘নাফ রিভার গ্যালাক্সি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলভমেন্ট গ্রুপ। দেশটির মিডিয়া ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমার এ খবর দিয়ে বলছে এধরনের উদ্যোগকে ‘রহস্যজনক’ বলে অভিহিত করেছে। স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় এধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে মিয়ানমার সরকার। রাখাইন অঞ্চলের ফিন্যান্স এন্ড প্লানিং প্রতিমন্ত্রী উ খেওয়া আই থেইন ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমারকে বলেন, মিয়ানমার সরকার এ ব্যাপারে একটি সমঝোতা স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে। নাফ নদীর পাশেই রোহিঙ্গা মুসলিমদের গ্রাম কানয়িন চাউংএ এধরনের ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা হবে। এ গ্রামটিতে চোরাকারবারীরা এতটাই সক্রিয় যে মিয়ানমার পুলিশ সেখানে দিনের বেলা যেতেও ভয় পায়। এছাড়া এধরনের উদ্যোগ কতটা সফলতা পাবে যেখানে গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন অঞ্চলে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর অভিযান চলছে এবং মিয়ানমার সরকারের হিসেবেই ৪শ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যা আরো বেশি বলা হচ্ছে। তবে মিয়ানমারের প্রতিমন্ত্রী খেওয়া আই বলছেন, সমঝোতা স্বাক্ষরের দিন সেখানে পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, এর আগে মিয়ানমার সরকার রাখাইনের ওই এলাকায় ‘ ট্রেড জোন’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছিল। কিন্তু এখন তা স্পেশাল ইকোনমিক জোনে উন্নীত করা হয়েছে। এধরনের জোন পরিচালিত হবে আঞ্চলিক সরকারের পরিবর্তে ইউনিয়ন পর্যায়ের সরকারের মাধ্যমে। যারা সেখানে বিনিয়োগ করবেন তাদের মিয়ানমার সরকার জমি লিজ দেবে স্বল্পমূল্যে এবং কর মুক্ত সুবিধা দেওয়া হবে। নাফ রিভার গ্যালাক্সি প্রকল্পের পেছনে কারা ? এমন প্রশ্ন তুলে ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমার জানিয়েছে গত ৫ সেপ্টেম্বর নাফ রিভার গ্যালাক্সি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভলপমেন্ট গ্রুপের রেজিস্টার্ড হয়। মিয়ানমারের ডাইরেক্টরেট অব ইনভেস্টমেন্ট এন্ড কোম্পানি অ্যাডমিনেস্ট্রেশন নথিভুক্ত করে এ গ্রুপকে। প্রতিমন্ত্রী খেওয়া আই জানান, মংগদু ও ইয়াঙ্গুনের অন্তত ৭ শীর্ষ ব্যবসায়ী এ প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত। তবে প্রতিমন্ত্রী তাদের নাম জানাননি।
ইতিমধ্যে মিয়ানমার সরকার মংগদুর বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের নিয়ে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা করেছে। বিনিয়োগ করতে বলেছে, কনসোর্টিয়াম গড়ে তুলতে বলেছে। যাতে ইয়াঙ্গুনের আরো ব্যবসায়ী এ প্রকল্পে যোগ দিতে পারে। আপাতত প্রস্তাবিত এ গ্রুপটির দুজন পরিচালকের পরিচয় পাওয়া গেছে। এদের একজন হচ্ছেন, উ খেওয়া নাইং থান যিনি মংগদু শহরে সিটিজেনশিপ স্ক্রুটিনি কার্ড ইস্যু করে থাকেন এবং অন্যজন হচ্ছেন উ খেওয়া টিন্ট। এ প্রস্তাবিত কোম্পানিটির আর কোনো পরিচালক এখনো নিয়োগ করা

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ