,



রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ’৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মতো মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ওপর দমন নিপীড়ন করছে

[author ] কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া [/author]
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন নিপীড়ন অত্যচার, হত্যা ধর্ষণের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টায় কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। এর আগে বেলা সোয়া ১০টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে করে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে গাড়ি বহরে কুতুপালংয়ের উদ্দেশে রওনা হন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ক্যাম্পে পৌঁছান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন আমাদের ওপর হামলা করেছিল, সেসময় আমরা ঘরবাড়ি ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। একসময় হানাদার বাহিনীরা আমাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছিল এবং গণহারে হত্যা করেছিল।  ঠিক একইভাবে মিয়ানমার সরকার রাখাইন রাজ্যে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ওপর দমন, নিপীড়ন শুরু করেছে। সেখানে তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গা আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছে। আমরা তাদেরকে সাময়িক সময়ের জন্য আশ্রয় দিয়েছি। আমরা মিয়ানমার সরকারকে অনুরোধ করছি, দমন ও নিপীড়ন, জুলুম অত্যচার, ধর্ষণ বন্ধ করে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হোক। এ বিষয়ে আমরা কমিটিও করে দিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের খাদ্য, আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। আমি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে আহ্বান জানাচ্ছি। তবে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমাদের যা করা দরকার আমরা সেটি করব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে যেভাবে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে তাতে কি তাদের বিবেককে নাড়া দেয় না? একজনের ভুলে এভাবে লাখ লাখ মানুষ ঘরহারা হচ্ছে। আমরা শান্তি চাই। তিনি আরো বলেন, আমরা ১৬ কোটি মানুষের দেশ। সবার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছি। সেখানে আরো ২/৫/৭ লাখ মানুষকেও খেতে দিতে পারবো।
এ সময় তিনি স্থানীয়দের উদ্দেশে বলেন, এখন যারা যুবক তারা হয়তো মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি। কিন্তু আমরা দেখেছি। তাই রোহিঙ্গাদের যেন কোনো কষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
শেখ হাসিনা স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, আমি জেনেছি যারা আশ্রয় নিতে এসেছেন তাদের অনেকেই অসুস্থ। তাদের দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা দেওয়া হোক। এ সময় রোহিঙ্গাদের যেন কোনো কষ্ট না হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন ভালো থাকে সেজন্য প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বেসরকরি সংস্থা বা অন্য কোনো সংগঠন রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বা সাহায্য সহযোগিতা করতে চাইলে তা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে করতে হবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন কোনো ধরনের বাণিজ্য করতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন, তার ছোট বোন শেখ রেহেনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ভূমিপ্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, চিপ হুইপ আ.স.ম ফিরোজ, হুইপ ইকবালুর রহিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, সংসদ সদস্য আবু রেজা, মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন নদভী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম, মুখ্য সচিব কামাল আব্দুর নাসের চৌধুরী, সেনাবাহিনী প্রধান আবু হেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, পুলিশের আইজি একেএম শহিদুল হক, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম, উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীসহ সরকারি, বেসরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রোহিঙ্গাদের মাঝে জনসভা শেষে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ