,



আবারো পিছিয়ে ‘২৫০০ কোটি টাকা জমার শর্তে জামিন’ আগামী শুনানি ১৯ অক্টোবর

আবারো পেছাল ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনের জামিনের রিভিউ আবেদনের শুনানী।মঙ্গলবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে মামলাটি শুনানীর জন্য দিন ধার্য ছিল।

কিন্তু ডেসটিনি’র আইনজীবী প্যানেলের প্রধান, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিষ্টার আজমালুল হোসেন কিউসি দেশের বাইরে থাকায় ডেসটিনি’র পক্ষে মামলাটির শুনানীর জন্য আদালতে এক সপ্তাহের সময়ের আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন আমলে নিয়ে আগামী ১৯ অক্টোবর ২০১৭ইং তারিখ নতুন করে শুনানীর দিন ধার্য করেন।মঙ্গলবার ডেসটিনির সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আইনজীবী প্যানেলের প্রধানের অনুপস্থিতির বিষয়টি জানতে চাইলে ডেসটিনির লিগ্যাল টিমের প্রধান সমন্বয়কারীর বলেন, ডেসটিনি’র আইনজীবী প্যানেলের প্রধান জরুরি কাজে দেশের বাইরে আছেন। আশা করছি, আগামী ধার্য্য তারিখে তিনিসহ অন্য সকল আইনজীবী আদালতে উপস্থিত থাকবেন এবং সেদিন শুনানী অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী ধার্য তারিখের শুনানী শেষে শীর্ষ কর্মকর্তাদের জামিন বহাল থাকার ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিগত সময়ে অনেক সাজাপ্রাপ্ত আসামী আইনী প্রক্রিয়ায় জামিন পেয়েছেন। এমন কী রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায়ও জামিনের নজির আছে। মানি লন্ডারিং মামলা যেহেতু জামিনযোগ্য সেহেতু আমরা আশা করছি ডেসটিনি’র শীর্ষ ব্যক্তিদের হাইকোর্টের দেয়া শর্ত সাপেক্ষে জামিনাদেশ বহাল থাকবে।

২০১২ সালের ১১ অক্টোবর আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ডেসটিনির তিনজন শীর্ষ ব্যক্তি আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন চাইলে, আদালত জামিন না মঞ্জুর করে দুই দফায় ২৪ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং আসামীদের কারাগারে প্রেরণ করেন এবং পরবর্তীতে হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল হারুন-অর-রশিদ এর জামিন মঞ্জুর করলেও জামিন আটকে থাকে ডেসটিনি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের।

জানা গেছে, ২০১২ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ৫ বছর ধরে বিনাবিচারে তাঁরা কারাগারে আটক আছেন। মানি লন্ডারিং মামলায় যেখানে সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছর সেখানে সাজা ঘোষণা হওয়ার আগেই ৫ বছর কারাবন্দি থাকা নজিরবিহীন ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন ডেসটিনি আইনজীবী প্যানেলের প্রধান ব্যারিষ্টার আজমালুল হোসেন কিউসি। তবে, আইনী প্রক্রিয়ায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনের প্রক্রিয়ায় খুব শীঘ্রই তাঁরা রেড়িয়ে আসবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ডেসটিনির আরেক সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিষ্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ জানান, উচ্চ আদালতকে তিনি ডেসটিনি’র মামলার প্রধান আসামী ডেসটিনি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীনকে উচ্চ আদালতে সরাসরি হাজির করে তাঁর বক্তব্য আদালতে রেকর্ড করার জন্য আবেদন জানাবেন। তাহলে উচ্চ আদালত বুঝবেন, রিমান্ডকালীন সময়ে তাঁকে জোর জরবদস্তি করে ১৬৪ ধারায় স্ববিরোধী জবানবন্দি নেয়া হয়েছে। যাতে করে তাঁর জামিনের বিষয়টি আটকে থাকে। উচ্চ আদালত বিবাদীপক্ষের আইনজীবীর আবেদন মঞ্জুর করলে মোহাম্মদ রফিকুল আমীন স্বশরীরে সুপ্রীম কোর্টে হাজির থেকে তিনি তাঁর বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন।

এ ব্যাপারে ডেসটিনি’র আইনজীবী প্যানেলের আরেকজন সমন্বয়কারী রঞ্জিত কুমার চক্রবর্তী ডেসটিনি অনলাইনকে জানান, আইনানুগভাবে তাঁদের জামিন পাওয়ার যথেষ্ট কারণ ও সুযোগ রয়েছে।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ২০ জুলাই ডেসটিনি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত দুদকের মানি লন্ডারিং মামলায় ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও ডেসটিনি-২০০০ লি: এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন হাইকোর্ট থেকে তাদের পাসপোর্ট আদালতে জমার রাখার শর্তে জামিন আদেশ পেয়েছিলেন।

কিন্তু জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুদক আপীল করলে তাঁদের মুক্তির বিষয়টি আটকে যায়।পরবর্তীতে একই বছরের নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টের আপীলেড ডিভিশন নতুন কিছু শর্ত সাপেক্ষে ডেসটিনির শীর্ষব্যক্তিদের জামিনে মুক্তির আদেশ বহাল রাখেন।

আদেশে শর্ত দেয়া হয় যে, ছয় সপ্তাহের মধ্যে গাছ বিক্রি করে দুই হাজার আটশত কোটি টাকা দুদকের কাছে জমা দিতে হবে। কিন্তু শর্ত পূরণ তথা অসম্ভবকে সম্ভব করতে না পারা ও আইনী জটিলতার কারণে বিগত প্রায় এক বছরেও তাঁদের কারামুক্তি ঘটেনি।

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ