,



ধূমপান মুক্ত ক্যাম্পাস চাই

প্রকৌশলী সাব্বির হোসেন,ডেসটিনি অনলাইন:

শিক্ষকের সদিচ্ছা ও অনুশাসন পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ধূমপান মুক্ত রাখতে। একটি বিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী পারিবারিক অনুশাসনের গ-ি পেরিয়ে যখন বিদ্যালয়ে আসে তখন সে শিক্ষকদের অনুকরণ করতে শুরু করে।

একটা ভয় কাজ করে তাদের ছোট মনে। শিক্ষকের কথা না শুনলে শাস্তি পেতে হবে এই ভয়ে তারা লেখাপড়ায় মনোযোগী হয়। আর আয়ত্ব করতে থাকে প্রিয় স্যার/ম্যাডামের কালচার, বাচন ভঙ্গী, পোশাক পরিচ্ছদসহ নানা বিষয়। যতই উপরের ক্লাসে যেতে থাকে ততই সম্পর্ক গাঢ় হয়, সাথে ক্লাস টাইম কিংবা অফটাইমে শুরু হয় শিক্ষকের সান্নিধ্যে সময় কাটানো। ততক্ষণে একজন প্রাথমিকের ৪র্থ বা পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া শিক্ষার্থীর আচার আচরণে ফুটে উঠে শিক্ষকের চারিত্রিক ছাপ। ভাল মন্দ শিক্ষাটা যতটা বলে শিখানো যায় তার থেকে বেশি শিখে থাকে জীবন আদর্শ দেখে দেখে। তাই শিক্ষক যে কাজ গুলো করেন এবং শিক্ষার্থীকে করতে বলেন সেগুলো ভাল বা মন্দ না বুঝেই কর্তব্য হিসেবে তা করতে হবে, এই মানসিকতা নিয়ে শিক্ষার্থী তা করতে থাকে। ধূমপান একটি অনুকরণীয় বদভ্যাস। কোন শিক্ষক যখন শিক্ষার্থীদের সামনে ধূমপান করে তখন তারা মনে করে এটি ভাল কাজ, বড় হলে আমরাও স্যারের মতো স্টাইল করে সিগারেট খাব। অনেক ক্ষেত্রে একটু চঞ্চল প্রকৃতির শিক্ষার্থী হলে তারা ভাবে পরে কেন? স্যার যখন থাকবে না তখন স্যারের ড্রয়ার থেকে একটা নিয়ে রাখব, পরে টেস্ট করে দেখব কেমন লাগে। হয়তো সুযোগ পেয়েও যায় আর ধূমপানের হাতেখড়ি হয় প্রিয় শিক্ষককে অনুকরণ করে যা অজানা থেকে যায়। এই শিক্ষার্থী যখন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আসে তখন সে নিজেকে একটু বড় ভাবতে শুরু করে। প্রাইভেট পড়া বা অন্য যে কোন ভাবে শিক্ষকের সাথে ঘনিষ্ঠ হয় এবং স্যারকে অনুকরণ করতে শুরু করে। ৮ম শ্রেণীতে উঠার পর যখন নিয়মিত ধূমপানে আসক্ত হয় তখন সহপাঠিদের মাধ্যমে তা অভিভাবকগণ প্রথমে জানতে পারে, পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এলাকার মানুষ সবাই জেনে যায়। বয়ঃসন্ধিকালে এই কিশোর মনে করে সে অনেক বুঝে, আর মনের ভিতর একটা সংকল্প থাকে খারাপ হলে নিশ্চয় স্যার ধূমপান করতোনা। তাই সে কারো কথা শুনতে চায়না এতে খুব সহজে আমাদের সমাজ তাকে বখাটে নাম দিয়ে দেয়। বিশেষ করে সেই প্রিয় স্যারের শাসন আর ভাল লাগে না। এতে শিক্ষকসহ অনেক সহপাঠি বা পরিবার ও সমাজের চোখে বখাটে হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীকে নানাভাবে ক্রিটিসাইজ করা হয়। সে তখন আশ্রয় পায় সমাজের প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীর কাছে। চলে ব্রেইনওয়াশ, নাম মাত্র টাকায় তুলে দেয়া হয় মাদক। আসক্ত হলে একাই টাকা নিয়ে আসবে একথাটা সেই মাদক বিক্রেতা ভাল করেই জানে। অনেক আদরে বড় হওয়া শিক্ষার্থীটির জীবনে আমূল পরিবর্তন হওয়ার সূত্রপাতটি কেউ খেয়াল করেনা আর এজন্য প্রতিটি ব্যাচ একই ধারাবাহিকতায় আসক্ত হয় মাদকের প্রথম স্তর ধূমপান কিংবা অন্যকোন প্রাণঘাতী নেশার দিকে। এই শিক্ষার্থী যখন সর্ব নিম্ন পয়েন্ট নিয়ে কলেজে আসে ততক্ষনে সেও কোন না কোন ভাবে প্রভাবশালী এবং ভাইরাসের মতো গ্রাস করে হতাশা গ্রস্থ যুবকদের যারা তারই সহপাঠি কিংবা সিনিয়র বা জুনিয়র। এভাবেই অতি আদরে খুব বেখেয়ালে আবির্ভাব হয় ধূমপায়ী ও মাদক রাজের।

প্রাথমিকভাবে বাবাকে সতর্ক হতে হবে, সন্তানের সামনে ধূমপান করা থেকে বিরত থাকতে হবে, বুঝাতে হবে এর ক্ষতিকর দিকগুলো, কষ্ট হলেও বাবাকে ছেড়ে দিতে হবে এই বদভ্যাস। একই কথা সেই শিক্ষকের জন্য যিনি শিক্ষার্থীদের সামনে ধূমপান করেন কিংবা বিদ্যাপীঠের অফিস কক্ষে। আদর্শ কেবল বাবা শিক্ষা দিবে তা নয়। একজন শিক্ষক হলো শিক্ষার্থীর কাছে রোল মডেল, তাই গুরুকেই গুরু দায়িত্বটা নিতে হবে। সপথ নিতে হবে শিক্ষককে নিজ নিজ বিদ্যালয় যে কোন মূল্যে ধূমপান মুক্ত রাখতে। তবেই সম্ভব হবে ধূমপান মুক্ত ক্যাম্পাস বাস্তবায়ন। আর এতে করে আর তৈরি হবেনা শিক্ষিত কোন ধূমপায়ী বা মাদকসেবী।

 

 

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ