,



মৃত ব্যক্তির নামে বয়স্ক ভাতার অর্থ উত্তোলন ও আত্মসাৎ

 

তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নের মাছিমপুর গ্রামের মৃত নায়েব আলীর ছেলে ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো.কামাল হোসেন প্রকাশে জুয়ারি কামাল (৩৬), সহোদর ভাই বশির আহম্মেদ প্রকাশে ল্যাংরা বশির (৪৫) ও মো. মনির হোসেন প্রকাশে জুয়ারি মনিরসহ (৪২) এলাকার কিছু দুষ্ট লোকের সহযোগিতায় মাছিমপুর গ্রামে জুয়ার আসর বসাচ্ছে প্রতিনিয়ত এবং প্রতিটি বোর্ড থেকে চাঁদা গ্রহণ করে মেম্বার কামাল এবং তার ভাই মনির। জুয়ার আসর বসিয়ে এলাকাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এই অসাধু চক্র। এতে এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো নানা অপরাধমূলক কর্মকা- বৃদ্ধি পাচ্ছে দিনকে দিন। তাদের বৈধ কোনো আয়ের উৎস না থাকায় ওই কথিত জনপ্রতিনিধি অসাধু মেম্বার কামাল হোসেন ও তার সহোদর ভাইদের দিয়ে এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে বলে অভিযোগ উঠে। তাদের একমাত্র আয়ের উৎসই জুয়া এবং জুয়ার বোর্ড বসিয়ে প্রতি বোর্ড থেকে অর্থ আদায় করা। মাদক ব্যবসা, ঘুষ বাণিজ্য, ভূমিদস্যূতা ও নিরীহ মানুষদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে এলাকায় এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে এই বাহিনী।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, লম্বট কামাল মেম্বার একাধিক নারী কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। সে কলাকান্দি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের একাধিক মৃত ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে বয়স্ক ভাতার টাকা উত্তোলন করে আসছে। গত ছয় মাসে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে যেমন- ১. মৃত ফাতেমা, স্বামী মৃত গিয়াস উদ্দিন তার মৃত্যু তারিখ ৮ মে ২০১৭ ইং, ২. মৃত গণি মিয়া পিতা মৃত গফুর তার মৃত্যু তারিখ ২ এপ্রিল ২০১৭, ৩. মৃত খুফিয়া বেগম স্বামী বাচ্চু মিয়া মৃত্যু তারিখ ১২ মার্চ ২০১৭ এবং ৪. মৃত জামিলা খাতুন স্বামী মৃত সুরুজ মিয়া, মৃত্যু তারিখ ১৫ জুন ২০১৭। প্রত্যেকের নামে বরাদ্দকৃত বয়স্ক ভাতার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে কামাল মেম্বার।

শুধু এগুলোই নয় তার আরো কু-কীর্তির কথা এলাকায় চাউর হয়ে আছে। দুর্নীতিবাজ কামাল একটি চার্জশিটভুক্ত মামলার আসামি ও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে একাধিক সূত্র থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। বয়স্ক ভাতা আত্মসাতের বিষয়ে মেম্বার কামাল হোসেনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটি আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত। আমি বয়স্ক ভাতার বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি কোন দুর্নীতির সাথে জড়িত না। মেম্বার হওয়ার আগে টুকটাক তাস খেলতাম কিন্তু জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর আর খেলি না। আর এমন কোন ব্যক্তি নাই বলতে পারবে আমাদের ভাইদের বিরুদ্ধে কোনো কেলেঙ্কারির কথা। গ্রামের সকল মানুষই জানে আমরা দুর্নীতির সাথে জড়িত নয়। কিছু দিন আগে আমার সাথে কিছু ব্যক্তির ঝগড়া হয়েছে তারাই আমার বিরুদ্ধে এই সব রটাচ্ছে। আমি এই সবের কিছুই জানি না।

 

 

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ