রবিবার, জুলাই ২২, ২০১৮ | ৬, শ্রাবণ, ১৪২৫
 / শেয়ার বাজার ও বাণিজ্য / ঋণের সুদহার নিয়ে এবিবির উল্টো সুর
মাসুদ শায়ান, ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Tuesday, 3 July, 2018 at 9:57 PM, Update: 03.07.2018 9:59:09 PM, Count : 444
ঋণের সুদহার নিয়ে এবিবির উল্টো সুর

ঋণের সুদহার নিয়ে এবিবির উল্টো সুর

* সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ দিলে নীতিগত সহায়তা দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক,
* ৬ শতাংশ সুদে আমানত পেলে সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণ,
* সরকারি ব্যাংক এবং বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের আমানত ৬ শতাংশের কম সুদে চায় এবিবি ও বিএবি।


ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার বিষয়ে উল্টো সুরেও কথা বলছে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)।


গত ১ জুলাই থেকে ব্যাংক ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামানোর ঘোষণা থাকলেও সেটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এখন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা বলছেন, ৬ শতাংশ সুদে আমানত পেলে এক অঙ্কে তথা ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করতে পারবেন তারা। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)।

সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য হলো, ব্যাংকগুলো যদি ৬ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করতে পারে, তাহলে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করা সহজ হবে। এর আগে ২৫ জুন এবিবি নেতারা সরকারি ব্যাংক এবং বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের আমানত ৬ শতাংশের কম সুদে পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এবিবির চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, যেভাবেই হোক আমরা ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনবো। বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্সের (বিএবি) সিদ্ধান্ত আমরা অবশ্যই বাস্তবায়ন করব। তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পড়ে থাকা অলস টাকা (বিভিন্ন বন্ডে রাখা স্বল্প সুদের বিনিয়োগ) এবং বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের আমানত ৬ শতাংশের কম সুদে পাওয়া গেলে ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা আমাদের জন্য সহজ হবে। এজন্য আমরা কম সুদে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের টাকা পেতে চেষ্টা করছি। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যোগ নিলে সরকারি ব্যাংকের টাকা কম সুদে পাওয়া যাবে। ব্যাংক খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্য হলো- যেসব ব্যাংক ৬ শতাংশ সুদে আমানত পাবে, কেবলমাত্র তারাই ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করতে পারবে। দীর্ঘমেয়াদি আমানত ৬ শতাংশ সুদে পাওয়া না গেলে ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে বলে তাদের আশঙ্কা। ব্যাংকগুলো ৬ শতাংশ সুদে ১০০ টাকার আমানত সংগ্রহ করলে সেখান থেকে সর্বোচ্চ ৮৫ টাকা ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে পারবে। আর ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলো ১০০ টাকার আমানত থেকে ঋণ দিতে পারবে সর্বোচ্চ ৯০ টাকা।

এদিকে ২ জুলাই সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকে ব্যাংকার্স সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় সুদহার কমানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা দেয়া হয় ব্যাংকগুলোর এমডিদের। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে কিছু নীতিগত সহায়তা ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের করার কিছুই নেই। মুক্তবাজার অর্থনীতির নিয়ম ভেঙে সুদ হার কমানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কোনো নির্দেশনা দেবে না। বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকগুলোর ওপর ছেড়ে দিয়েছে। নতুন প্রজন্মের একটি ব্যাংকের এমডি বলেন, ১১ শতাশে আমানত নিয়ে ৯ শতাশেং ঋণ দেয়া সম্ভব নয়। সব ব্যাংক যদি একসঙ্গে আমানতের সুদহার ৬ শতাংশে নামিয়ে আনে, তবে ধাপে ধাপে সব ধরনের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। তিনি জানান, তার ব্যাংক গত মাসেও সাড়ে ১০ থেকে ১১ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করেছে। এর সঙ্গে পরিচালন ব্যয় ২ থেকে ৩ শতাংশ যোগ করলে ওই আমানত থেকে ১৪ শতাংশের কম সুদে ঋণ বিতরণ করার সুযোগ সীমিত। তবে ব্যাংকের মালিকরা চাইলে ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ঝুঁকি নিয়ে ঋণ বিতরণ সম্ভব নয়। ব্যাংক লোকসান দিয়ে ৯ শতাংশ সুদে বিতরণ করলে পরে এমডিদের চাকরি নিয়ে টানাটানি হবে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স (বিএবি) থেকে ব্যাংকগুলোকে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণের ঘোষণা দিলেও আমানতের সুদহারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা দেয়া হয়নি। ফলে এক ব্যাংক তাকিয়ে আছে আরেক ব্যাংকের দিকে। বিএবির ঘোষণা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে তিন মাস মেয়াদি আমানতের সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৬ শতাংশ আর ঋণের সুদহার হবে ৯ শতাংশ। কিন্তু তা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এদিকে যে সব ব্যাংক সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ দেবে, সেগুলো বিভিন্ন ধরণের  সুবিধা পাবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নীতিগত সহায়তা দেবে। গত ২ জুলাই সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ব্যাংকগুলোর এমডিদের এই আশ্বাস দেন। সভা শেষে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। ব্যাংকার্স সভায় ব্যাংকিং খাতের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও গুরুত্ব পায় সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণ দেয়ার বিষয়টি। বৈঠকে জানানো হয়, মুক্তবাজার অর্থনীতির নিয়ম ভেঙে সুদ হার কমানো বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো নির্দেশনা দেবে না। ব্যাংকগুলোকেই বাস্তবায়ন করতে হবে।

ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, অধিকাংশ ব্যাংক সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণ দেয়ার ব্যাপারে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন আমানত কম সুদে না পেলেও সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণ দেয়ার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকবে ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য হলো, সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনার সিদ্ধান্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের। এ কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকেই ভূমিকা রাখতে হবে। দেশ ও অর্থনীতির স্বার্থে এটা করতে হবে। এটা করতে গিয়ে যেন কোনো বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয়। সেদিকেও খেয়াল রাখতে বলেছে। ঢাকা ব্যাংকের এমডি আরো বলেন, সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনতে গিয়ে কোনো সমস্যা হলে বাংলাদেশ ব্যাংক দেখবে। প্রয়োজনে ঋণ-আমানত অনুপাতসীমা কিছুটা লঙ্ঘন হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে। অনেকটা নমনীয় থাকবে। ঋণে সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে আসতে সময় লাগলেও বাস্তবায়ন হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না। তবে কনভেনশনাল ব্যাংকের ক্ষেত্রে আগের আমানত যে সুদ নির্ধারণ করে চুক্তি আছে, সেভাবেই থাকবে। ফলে আগের ঋণও আগের হারেই হিসাবায়ন হবে। শুধু দুই-একটি খাতে সিঙ্গেল ডিজিটে আসবে, নাকি সব খাতে এমন প্রশ্নে এবিবির চেয়ারম্যান বলেন, সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে আনার দায়িত্ব স্ব-স্ব ব্যাংকের। কারণ, প্রতিটি ব্যাংকের বোর্ড আলাদা। তারা কে কোন খাত দিয়ে শুরু করবে, সেটা তাদের বিষয়। সিঙ্গেল ডিজিটে আসতে সময় লাগতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময় লাগলেও আমরা করবো। আর সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানত চাইলে তো এখন পাবো না। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নির্দেশনা আসতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক চেষ্টা করছে। ৬ শতাংশ সুদে আমানত না পেলে কিভাবে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ দেবে এমন প্রশ্নের জবাবে এবিবি’র চেয়ারম্যান বলেন, ৮ শতাংশ সুদে কেউ আমানত নিয়ে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করতে চাইলেও করতে পারে। এদিকে এবিবিও বিএবি যে সরকারি ব্যাংক এবং বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের আমানত ৬ শতাংশের কম সুদে পেতে চাচ্ছে তা নিয়ে শংকা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162