রবিবার, জুলাই ২২, ২০১৮ | ৬, শ্রাবণ, ১৪২৫
 / তথ্য ও প্রযুক্তি / কঠোর নজরদারিতে ফেসবুক টুইটার ইউটিউব
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনো অপপ্রচার প্রতিহত করা হবে-মন্ত্রী
মাসুদ শায়ান, ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Monday, 9 July, 2018 at 10:02 PM, Update: 09.07.2018 10:10:27 PM, Count : 535
কঠোর নজরদারিতে ফেসবুক টুইটার ইউটিউব

কঠোর নজরদারিতে ফেসবুক টুইটার ইউটিউব

সর্বত্র ব্যাপক প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো এখন অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। প্রচারের সাথে সাথে বাড়ছে অপপ্রচারও। তাই সামাজিক সুরক্ষার স্বার্থে নজরদারি বাড়াচ্ছে সরকার।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ভিডিও শেয়ারিং পোর্টাল ইউটিউব, মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারসহ বিভিন্ন ধরনের ব্লগ ও ওয়েবসাইট মনিটরিংয়ের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সার্বক্ষনিক নজরদারী বাড়াতে সাইবার সিকিউরিটি টুলসকেনা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে, ইতিমধ্যে অন্যতম সোস্যাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুকের কাছ থেকেও পাওয়া গেছে ইতিবাচক সাড়া। ফেসবুক সর্বাত্বক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। অন্য সোস্যাল মিডিয়াগুলোর সাথেও সরকার যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীরা এবার অনেকেই নির্বাচনী প্রচার মাধ্যম হিসেবে সামাজিকে যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করবেন। প্রার্থীরা অনলাইনে নিজের ও দলের ইতিবাচক প্রচারণা চালাবেন। সেই সাথে এ প্রচারনার সুযোগ কাজে লাগিয়ে অপপ্রচারেও মেতে উঠতে পারেন কোনো গোষ্ঠী। তাই এখনই সতর্কতামূলক ব্যাবস্থা নিতে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকার মনে করছে- নির্বাচন উপলক্ষে প্রচারণায় সরকার ও প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বাজে পোস্ট দিতে পায়ে কুৎসা রটাতে পারে, যা ভোটারদের কাছে দলের ও প্রার্থীর ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে। সরকারের উন্নয়নের তথ্যর বদলে বিকৃত তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তিও তৈরি করার চেষ্টা করা হতে পারে। এতে সামাজিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট হতে পারে। হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে সারাদেশ। এসব বিবেচনায় মনিটরিংয়ের বিষয়টি সামনে এসেছে। কেউ যাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিতর্কিত পোস্ট, ঘৃণাসূচক বক্তব্য প্রচার ও কদর্য ভিডিওবার্তা প্রচার করে সামাজিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে না পারে সেজন্যই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে টুইটারে মিথ্যা ক্ষুদ্র-ব্লগ লিখে সরকারবিরোধী অপপ্রচার যাতে কেউ চালাতে না পারে সেদিকেও নজরদারি করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন ব্লগ ও এ ধরনের ওয়েবসাইট যাতে কেউ কোনো ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালাতে না পারে, বিনা কারণে উস্কানি দিতে না পারে. সেগুলোও মনিটরের আওতায় আসবে।
 
জানা গেছে, ফেসবুক বাংলাদেশকে কিছু প্রস্তাবনা পাঠিয়ে জানিয়েছে- তারা বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চায়। এর একটা হলো ব্লাড ডোনেশন বা রক্তদান কর্মসূচি। এরকম আরও কিছু কাজ ফেসবুক বাংলাদেশের সঙ্গে করবে। জানা যায়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী গত ফেব্রুয়ারি মাসে স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সম্প্রতি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশে এসে মন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, এটা নির্বাচনের বছর। আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জের সময়। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, অপপ্রচার যাতে ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়াতে না পারে সেই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমটি আমাদের সহযোগীতা করবে। আমরা কোনো মিথ্যা তথ্য সরাতে বললে তারা সরিয়ে দেবে, অপকর্মে জড়িত আইডি ব্লক করা, আইপি চিহ্নিত করার মতো পদক্ষেপগুলো এখন তাৎক্ষণিকভাবে নেওয়া সম্ভব হবে।

মন্ত্রী বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ নিতেই হতো। কারণ অনলাইন দুনিয়াকে খারাপভাবে ব্যবহারের নজির রয়েছে। আমরা সেই ঝুঁকি নিতে চাই না। এরইমধ্যে ফেসবুকের অপব্যবহার শুরু হয়েছে। তিনি বলেন- ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে। এখন চাইলেই ফেসবুক থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য পাওয়া সম্ভব। ফেসবুক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত সহযোগীতার হাত বাড়াতে প্রস্তুত। মন্ত্রী বলেন, আগে ফেসবুকের কাছে তথ্য চাইলে অনেক সময় লাগতো সেই তথ্য দিতে। অনেক সময় দিতো না। এখন যেটা হয়েছে, আমরা তথ্য চাইলে সঙ্গে সঙ্গে সেই তথ্য ফেসবুক দেবে। আসল কথা হলো, ফেসবুকের সঙ্গে ন্যূনতম কমিউনিকেশনটা আছে। মন্ত্রী জানান, দেশে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে ফোকাল পয়েন্ট নির্বাচন করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আইসিটি বিভাগ, বিটিআরসিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। সেই ফোকাল পয়েন্ট ফেসবুকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য ও সাড়া পাওয়া সম্ভব। তিনি আরও বলেন, ফেসবুক কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছেন, তোমরা ‘ইন্সট্যান্টলি’ কিছু সরাতে বললে আমরা তা ‘ইন্সট্যান্টলি’ সরিয়ে দেব। আগে ফেসবুকের সঙ্গে যোগাযোগটাই ছিল না। এখন এটা নিশ্চিত করা গেছে।

নজরদারি বাড়াতে সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা সাইবার নিরাপত্তার জন্য কিছু সিকিউরিটি টুলস সংগ্রহ করছি। এগুলো দিয়ে ইউটিউব, টুইটারসহ আরও যা কিছু আছে তা মনিটর করা হবে। কেউ যাতে এসব মাধ্যম দিয়ে অনিষ্ট করতে না পারে তা চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে এই টুলস। তিনি আরোও বলেন, আগামী নির্বাচনের আগে ও পরে কেউ যাতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে তার জন্য সর্বাত্বক প্রতিরোধ মূলক ব্যাবস্থা সরকার গ্রহন করেছে।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162