রবিবার, জুলাই ২২, ২০১৮ | ৬, শ্রাবণ, ১৪২৫
 / বিনোদন / একজন সুস্থধারার সফল কমেডিয়ানের গল্প
নাঈম হোসেন পলাশ, ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Tuesday, 10 July, 2018 at 9:33 AM, Count : 168
একজন সুস্থধারার সফল কমেডিয়ানের গল্প

একজন সুস্থধারার সফল কমেডিয়ানের গল্প

এ ব্যস্ততম শহরে মানুষের মনমানসিকতা বলতে গেলে খিটখিটেই থাকে সবসময়। সমাজের নানা সমস্যায় জর্জরিত মানুষের জনজীবনে শান্তি বা প্রশান্তিতম শব্দটি হারিয়ে যাচ্ছে বলা যেতে পারে। পারিবারিক কলহ, সামাজিক অবক্ষয়, রাষ্ট্রের বিভিন্ন সমস্যায় কোথাও আর আনন্দ খুজে পাওয়া দুস্কর হয়ে পড়েছে। কিন্তু এতসব সমস্যার মধ্যেও অনেক গুনীব্যক্তি সমাজে আছে যারা মানুষের মনে প্রশান্তি এনে দিতে পারে এবং সুস্থ ধারার কৌতুক দিয়ে মনকে চাঙ্গা করে দিতে পারে। যা সমাজের জন্য খুবই দরকারী একটি বিষয়। আমাদের সমাজের এমনই এক গুনীব্যক্তি হচ্ছেন নাভিদ মাহবুব।


ব্যক্তি জীবন

নাভিদ মাহবুবের বাবা মাহবুবুর রহমান একজন সচিব ছিলেন। মা অধ্যাপক আরিফা রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক। নাভিদ মাহবুব এসএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডে সম্মিলিত মেধাতালিকায় ১৩তম, এইচএসসিতে প ম স্থান অধিকার করেছিলেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ভর্তি পরীক্ষায় হয়েছেন দ্বিতীয়। সেখান থেকে তড়িৎ প্রকৌশলে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক। উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৯২ সালে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। স্নাতকোত্তর মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে। চাকরি করেছেন ফোর্ড মোটর কোম্পানি, কোয়ালকম, কিয়োশেরার মতো প্রতিষ্ঠানে। এছাড়া নিজ দেশে নকিয়া সিমেন্স নেটওয়ার্ক এবং পরে আইবিএমের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করেছেন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করেছেন কিছুদিন। একসময় সব ছেড়ে দেন মানুষকে হাসাবেন বলে। এছাড়া ব্যক্তিগত জীবনে দুই সন্তানের জনক। স্ত্রী জারা মাহবুব বেসরকারি ব্যাংকের হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড কমিউনিকেশনের দায়িত্বে আছেন।


প্রবাস জীবন ও কমেডিয়ানের যাত্রা শুরু

আমেরিকার প্রায় প্রতিটি শহরে একাধিক কমেডি ক্লাব আছে। প্রবাসে চাকরিজীবনের একঘেয়েমি কাটাতে সময়-সুযোগ পেলেই সেসব ক্লাবে ঢুঁ মারতেন তিনি। কমেডির প্রতি ভালোবাসার শুরুটা সেখান থেকেই। দেখতেন, শুনতেন আর বাসায় এসে প্র্যাকটিস করতেন। একসময় ঠিক করলেন, নিজেও কমেডি করবেন। ২০০৪ সালে আমেরিকার স্যান্ডিয়াগো শহরের “দ্য কমেডি স্টোর”-এর কর্ণধার বিখ্যাত কমেডিয়ান স্যান্ডি শোর। তাঁর কাছ থেকেই কমেডির ওপর তালিম নিলেন দুই মাস। এরপর নিয়মিত বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে কমেডি উপস্থাপন করতে লাগলেন। তখন কমেডির নেশা যেন পেয়ে বসেছিল তাঁকে। স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় শো করতে করতে একসময় মাথায় আসে, দেশে ফিরে একটা কমেডি ক্লাব করলে কেমন হয়। যেখানে লোকজন আসবে এবং কৌতুক শুনে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাবে। যেই ভাবা সেই কাজ। চাকরি জীবন ছেড়ে দিয়ে দেশে ফিরে আসেন ২০০৯ সালে।

তার আগে ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লাসভেগাসে আয়োজন হয়েছিল স্ট্যান্ড আপ কমেডি প্রতিযোগিতা “কমেডি ফেস্টিভাল”। ১৫০জন প্রতিযোগীদের মধ্যে মাত্র একজন বাঙালী নাম লেখান। বাকিরা আমেরিকান, ডাকসাইটে কমেডিয়ান। মেে  বাঙালী যখন উঠলো দর্শকদের ফিসফিসানি ছিল চোখে পড়ার মতো। কালো চামড়ার বাঙালি আবার ইংরেজিতে কমেডি করবে-অনেকের কথায় এমন তাচ্ছিল্যের সুর! কিন্তু যে ছয় মিনিট সময় পেলেন, সেটুকুতেই কৌতুক পরিবেশন করে ম  কাঁপালেন বাঙালি। মে  ওঠার সময় যাঁরা ফিসফিস করছিল, ম  থেকে নামার সময় তারাই দাঁড়িয়ে করতালি দিল। সবচেয়ে বড় চমকটা এলো বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময়। ১৪৯ জন আমেরিকানকে পেছনে ফেলে “সেরা পুরুষ কমেডিয়ান” নির্বাচিত হোন সেই কালো চামড়ার বাঙালি। তিনিই ছিলেন আজকের নাভিদ মাহবুব। স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান। দর্শকের সামনে সমাজের নানা বিষয়-আশয় নিয়ে কৌতুক উপস্থাপন করেন। কৌতুকের মধ্যে থাকে চারপাশের নানা অসংগতি নিয়ে সুচিন্তিত ইঙ্গিত। প্রতিযোগিতায় নাভিদ মাহবুবকে সেরা হিসেবে বেছে নেওয়ার ব্যাখ্যাও দিয়েছিলেন বিচারক- “ওর (নাভিদের) কৌতুক ছিল অশ্লীলতামুক্ত, হাস্যরসাত্মক এবং বুদ্ধিদীপ্ত। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ওর কৌতুকে ছিল দারুণ সব চিন্তার খোরাক।”

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, স্পেন এবং মিয়ানমারে কমেডি শো করেছেন। ২০১২ সালে ভারতের জি বাংলা চ্যানেলের কৌতুক অনুষ্ঠান “মীরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার্স সিজন সিক্স : অসম শালা’য় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে হাসিয়েছেন ওপার বাংলার মানুষদেরও।


বর্তমান চলার পথ


২০১০ সালের মাঝামাঝি বারিধারায় ছোট পরিসরে “নাভিদ’স কমেডি ক্লাব” খুলেন। বর্তমানে ঠিকানা বদলে গুলশান-২ গ্লোরিয়া জিন’স-এর ৭১ নং রোডে অবস্থান করছে। এর কাছে ওর কাছে শুনতে শুনতে লোকজনের কাছে পৌছে যায় কমেডি ক্লাবের খবর। একজন-দুজন করতে করতে এখন বেশ ভালোই লোক জমে। নগরের এই একটা জায়গায় সবাই আসে হাসতে আর হাসাতে। এ ক্লাবে অপেশাদার, পেশাদারদেরও আসা-যাওয়া আছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ডাকসাইটে স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান ববি কলিনস, এডি ব্রিল, ইয়ান ব্যাগ, আজহার ওসমানও এসেছিলেন নাভিদ’স কমেডি ক্লাবে। বর্তমানে ক্লাবে পেশাদার কৌতুকাভিনেতা আছেন ১৪জন। প্রতিনিয়ত অপেশাদাররাও এসে যুক্ত হচ্ছেন এখানে।

নাভিদ মাহবুব বর্তমানে বিভিন্ন টিভি অনুষ্ঠানও বেশ কিছু কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন । একসময় টিভিতে “হা শো” নামের কমেডি শো করেছেন। এনটিভিতে “বিজিদের ইজি শো” অনুষ্ঠানেরও উপস্থাপক হিসেবেও কাজ করেছেন অনেক আগে তবে এ শো’টি পুনরায় চালু হবার সম্ভাবনা আছে। তাঁর সৃজনশীল উপস্থাপনার ধরনটা অনেকে পছন্দ করেছেন। বিটিভির জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান “আনন্দ মেলা”র উপস্থাপনাও করেছেন একসময়। বর্তমানে এবিসি রেডিওতে গুডমর্নি বাংলাদেশ-এর হোস্টিং করছেন এবং এটিএন বাংলার জনপ্রিয় অনুষ্ঠান মি. টুইস্টস দ্য নাভিদ মাহবুব শো’র লেখক ও পাশাপাশি দারুন উপস্থাপনাও করে যাচ্ছেন যেখানে গেষ্ট হিসেবে থাকছে বাংলাদেশের গুনী ও জনপ্রিয় ব্যক্তিদের সাথে মজার ছলে আড্ডা দেওয়া হয়। কৌতুক নিয়েও লিখেছেন বই। নাম “হিউমারাসলি ইউরস'”। বিজ্ঞাপনও করেছেন বেশ কিছু।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162