রবিবার, জুলাই ২২, ২০১৮ | ৬, শ্রাবণ, ১৪২৫
 / জাতীয় / দলগুলোর সর্বাত্মক প্রস্তুতি চলছে
মাসুদ শায়ান, ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Tuesday, 10 July, 2018 at 10:15 PM, Count : 124
দলগুলোর সর্বাত্মক প্রস্তুতি চলছে

দলগুলোর সর্বাত্মক প্রস্তুতি চলছে

* অক্টোবরে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল, * আন্দোলন ও নির্বাচন দুটোতেই বিএনপি, * তৃতীয় দফা ক্ষমতায় আসতে মরিয়া আওয়ামী লীগ।


একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি চলছে বেশ ঘটা করে গেল কয়েক মাস ধরেই। আন্দোলনের মুখে থাকা বিএনপিও অন্তড়ালে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। মুখে যাই বলুক আগামী নির্বাচন কোনোভাবেই হাতছাড়া করবে না দলটি। নির্বাচনী জোট নিয়েও দলগুলোর মধ্যে চলছে শেষ মুহূর্তের হিসাব নিকাস।


মঙ্গলবার (১০ জুলাই) নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেছেন, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল হতে পারে। এ জন্য দেশের ৩শ’ সংসদীয় আসনের ভোটার তালিকা সিডি আকারে প্রস্তুতের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে বৈঠকে অপর নির্বাচন কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করার জন্য মাঠ পর্যায়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তফসিলের আগেই নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে। প্রতি বছরের ১ মার্চ ভোটার তালিকা দিবস হিসেবে সরকার ঘোষণা দিয়েছেন। এ দিবসটি জাঁকজমকভাবে পালনের জন্য মাঠ পর্যায়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ জন্য প্রতিটি জেলা উপজেলায় কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি জানান, আসন্ন তিন সিটি নির্বাচনে (রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল) ইভিএম ব্যবহারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। বরিশালে ১০টি, সিলেট ও রাজশাহীতে ২টি করে কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। আসন্ন কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনেও তিনটি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। তিনি আরো বলেন, সরকার হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে পরিচয়ের সিদ্ধান্ত দিলেও আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় বিষয়টি থাকছে না। তবে তারা (হিজড়া) নারী কিংবা পুরুষ হিসেবে ভোট দিতে পারবেন। তবে কেউ যদি দরখাস্ত করেন তবে তাদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সচিব জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হবে না। তবে কেউ নিজে এসে ভোটার হতে চাইলে তাকে ভোটার করা হবে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।

আগামী নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তুতি চলছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের মাঠে নেমেছেন। অনানুষ্ঠানিকভাবে মাঠে আছে বিএনপিও। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩০ জানুয়ারি সিলেটে তিনটি মাজার জিয়ারত শেষে জনসভা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন। বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সিলেটে গিয়ে মাজার জিয়ারতের পর নির্বাচনী প্রচার শুরুর ঘোষণা দেন। আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা না দিলেও প্রস্তুতিতে পিছিয়ে নেই মাঠের বিরোধী দল বিএনপি। প্রার্থী বাছাই, ইশেতাহার তৈরি থেকে শুরু করে ভেতরে ভেতরে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। একইভাবে প্রধান দুই দলের শরিকরাও যার যার মতো করে নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছে। এলাকায় গণসংযোগসহ তারা দলীয়ভাবেও প্রস্তুতিগ্রহণ করছেন। আসন ভাগাভাগি নিয়ে প্রধান শরিকের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু করেছেন।

বড় দলের পাশাপাশি নির্বাচন ঘিরে ছোট ছোট দলও নানা তৎপরতায় ব্যস্ত। চলছে তৃতীয় জোট গঠনের তোড়জোড়। নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে দুই দলের নেতারাই এখন তৃণমূল সফরে আছেন। আগামী নির্বাচনে দলকে সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত করতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনের পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারেও তারা খোঁজখবর নিচ্ছেন। দুই দলের কেন্দ্রীয় নেতারা তৃণমূল সফর শেষে কেন্দ্রে আলাদা প্রতিবেদন জমা দেবেন। নির্বাচনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা প্রণয়নে তাদের প্রতিবেদনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই মেরুতে অবস্থান করছে। তবে খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার প্রেক্ষিতে বিএনপি এখন বিষয়টি নিয়ে আপাতত কিছু বলছে না। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেই নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে মাঠে নামার টার্গেট আছে তাদের। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা না দিলেও ভিতরে ভিতরে প্রস্তুতিতে পিছিয়ে নেই বিএনপি। দলটির বর্তমান হাইকমান্ড এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন। প্রার্থী বাছাই, ইশেতাহার তৈরি থেকে শুরু করে ভেতরে ভেতরে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। সূত্র জানায়, দলের থিঙ্কট্যাঙ্কদের সহায়তায় সিনিয়র কয়েক নেতা আগামী নির্বাচনে ইশতেহার তৈরির কাজ করছেন। ভিশন-২০৩০ আলোকে এ ইশতেহার তৈরি করা হচ্ছে। চলেছে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইও। তিন ক্যাটাগরিতে প্রার্থী বাছাই করা হচ্ছে। এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রত্যেক প্রার্থীকেই এলাকায় গিয়ে কাজ করতে বলেছেন শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের ১৫টি টিম সারাদেশে কাজ শুরু করে দিয়েছে। টিমের নেতারা বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছেন, সাংগঠনিক সভা করছেন। কোনো জেলায় কোনো সমস্যা থাকলেও সেটারও সমাধান করছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের মধ্যে অন্তঃকোন্দলও মিটিয়ে ফেলছেন। জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (এ) বলছে, নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও মাঠে থাকবে তারা। অর্থাৎ বিএনপি না এলে জাপাসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবে না। গত ২০ ফেব্রুয়ারি রংপুরে এক অনুষ্ঠানে জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেয়া না নেয়ার বিষয়ে বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করুক আর না করুক তাতে কিছু যায় আসে না। তাদের জন্য নির্বাচন বন্ধ হবে না, নির্বাচন হবে। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (এ) অংশ নেবে। জানা গেছে, ইতোমধ্যে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সার্বিক প্রস্তুতিও নিয়েছে দলটি। চূড়ান্ত করা হয়েছে ৩০০ আসনের প্রার্থীও। ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের প্রস্তুতিও চলছে। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ইতোমধ্যেই জেলা কমিটিগুলোকে নির্বাচনী প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা পাঠিয়েছে। দলটি প্রার্থী মনোনয়নের জন্য জেলা থেকে প্রস্তাব আহবায়নের পাশাপাশি যেসব স্থানে কমিটি গঠন বাকি আছে সেগুলো দ্রুত শেষ করছে। জাসদেরও নির্বাচনী প্রস্তুতি রয়েছে। যারা নির্বাচন করতে ইচ্ছুক তারা এলাকায় যাচ্ছেন, গণসংযোগ করছেন। বিভিন্ন ইসলামী দলসহ বাম ধারার দলগুলোও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করবে ১৪ দলীয় জোট। এর সঙ্গে বেশ কয়েকটি প্রগতিশীল ধারার রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে যুক্ত হতে পারে। এর বাইরে গণফোরাম, বিকল্পধারা, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, কমিউনিস্ট পার্টি, ইসলামী ধারার দলগুলো নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

আগামী ডিসেম্বরেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এমনটা ধরে নিয়েই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। হ্যাটট্রিক জয়ের লক্ষ্যে ছক কষে দেশজুড়ে প্রচারণায় নেমেছে আওয়ামী লীগ। মার্চ মাসের প্রথম থেকে আওয়ামী লীগ সারা দেশে কেন্দ্রভিত্তিক ১২ লাখ পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করবে। দুর্নীতি দায়ে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার মুক্ত করতে আইনি লড়াই ও ভোটের প্রস্তুতি দুটিই চালাচ্ছে বিএনপি। জাতীয় পার্টি (এ) সহ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোও নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছে। সব দলেই চলছে প্রচার, প্রার্থী বাছাই, নির্বাচনী ইশেতহার তৈরিসহ নির্বাচনভিত্তিক সার্বিক প্রস্তুতি।

দলের চেয়ারপারসনের মুক্তি না মিললে নির্বাচনে যাওয়া ঠিক হবে না বলে স্থায়ী কমিটির বেশির ভাগ সদস্য একমত। অর্থাৎ সরকারের সঙ্গে দর কষাকষির সুযোগ তৈরি হলে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে বিএনপি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে নির্বাচনও ছিল। তবে আমাদের স্পষ্ট কথা, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি নির্বাচনের আগে অবশ্যই দিতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি এখনো নির্বাচনের পথেই আছে। দলে এ জন্য প্রস্তুতিও আছে। তবে সব কিছু নির্ভর করছে সরকারের মনোভাবের ওপর। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে চাইলে সরকারকে অবশ্যই ছাড় দিতে হবে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ৩০০ আসনে বিএনপির কমপক্ষে ১২০০ আগ্রহী প্রার্থী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু এই প্রস্তুতিই শেষ কথা নয়। কারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি মানে গণসংযোগ মিছিল মিটিং এবং জনগণের কাছে যাওয়া। কিন্তু সেই পরিবেশ নেই। একটি থানা কমিটির মিটিং পর্যন্ত সরকার করতে দিচ্ছে না। ফলে এখনকার প্রস্তুতি আসলে মনে মনে নেয়া। বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে যাওয়ার জন্য বিএনপির মতো দলের আলাদা করে কোনো প্রস্তুতির দরকার নেই। কারণ বিএনপির নির্ভরশীলতা জনগণ এবং জনগণ বিএনপির সঙ্গে আছে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়াই এখন মূল ইস্যু। সরকার নির্বাচন করবে নাকি ক্ষমতা দখল করবে এটাই হচ্ছে বড় প্রশ্ন। নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত এখনো বহাল আছে। একাধিক প্রার্থীও আছে সব আসনে। সুতরাং মনোনয়নে কোনো সমস্যা নেই। এক প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু জানান, ‘ভিশন ২০৩০’-এর আলোকে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি হবে। এ জন্য সম্ভাব্য প্রস্তুতিও চলছে। এদিকে আন্তর্জাতিকমানের একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে আসনভিত্তিক জরিপের কাজ চলছে তারেক রহমানের তত্ত্বাবধানে। লন্ডনে বসেই তিনি এসব দেখাশোনা করছেন। এ ছাড়া কারাগারে যাওয়ার আগেই খালেদা জিয়া দলের প্রভাবশালী তিন নেতাকে আসনভিত্তিক ফল পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়ে গেছেন। ওই নেতারা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির আগের তিনটি নির্বাচনের ভোটের ফল পর্যালোচনা করে আসনভিত্তিক সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা তৈরি করে রেখেছেন। এর সঙ্গে আসনভিত্তিক জরিপের ফল যুক্ত করে আরো একটি তালিকা তৈরি করা হবে। বিএনপির দলীয় সূত্র মতে, নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হলে ওই তালিকা ধরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেবে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরাই পদাধিকারবলে ওই বোর্ডের সদস্য। তবে সাক্ষাৎকারের সময় নির্বাচনী আসনের সংশ্লিষ্ট জেলা বিএনপির সভাপতি উপস্থিত থাকেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে সাড়ম্বরে নির্বাচনী প্রস্তুতিও শুরু করেছে। দলটি ভোটকেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের জন্য তৃণমূলে চিঠি দিয়েছে। আর সম্ভাব্য পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ নেয়ার জন্য জেলা-মহানগর-উপজেলা কমিটিকে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নির্দেশও দিয়েছে। দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটানোর পাশাপাশি সারা দেশেই চলছে নির্বাচনী প্রচারও। ২৬ জানুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা শুরু করেছেন সাংগঠনিক সফর। সেই থেকে প্রতিদিনই কোনো না কোনো জেলা বা উপজেলায় কর্মিসভা কিংবা বর্ধিত সভা চলছে। এ ধরনের প্রায় প্রতিটি সভায় নৌকায় ভোট চাইছেন দলটির নেতারা। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড এবং বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসলীলা তুলে ধরছেন তারা। অবশ্য আরও আগে থেকেই মনোনয়ন পেতে ইচ্ছুকরা নিজ এলাকায় গিয়ে প্রচার শুরু করেছেন। জোরেশোরে চালাচ্ছেন গণসংযোগও। পিছিয়ে নেই বড় নেতারাও। আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্লাহ, ড. আবদুর রাজ্জাক, মাহবুবউল আলম হানিফসহ শীর্ষ নেতারাও যার যার নির্বাচনী আসনে যাচ্ছেন সপ্তাহান্তর। একইভাবে বিএনপিও ভোটের জন্য মাঠে নেমে পড়েছে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনী কর্মকান্ডের মধ্যে আছে, নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছে। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবেই প্রচার শুরু করেছেন। আমরা কেন্দ্রীয় নেতারা সারা দেশ চষে বেড়াচ্ছি। যে যেখানেই যাচ্ছি, সেখানেই সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এসব কর্মসূচিতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড এবং বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসন ও ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড জনগণের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। দলের ভেতরেও নির্বাচন নিয়ে নানা প্রস্তুতি চলছে। কাজেই সার্বিকভাবে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, আগামী নির্বাচনের জন্য জাতীয় পার্টিও প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের চেয়ারম্যান সিলেটে মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। আসলে একটি দলের রাজনীতি নির্বাচনকে ঘিরেই আবর্তিত হয়। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজগুলো শুরু হয়েছে। ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি করা, প্রচারণার জন্য কমিটি করা, নির্বাচনে নেতারা কে কোন দায়িত্ব পালন করবে তা ঠিক করা এবং পোলিং এজেন্ট প্রস্তুত করার মতো কাজগুলো আমরা গুছিয়ে আনছি।

এদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা না দিলেও প্রস্তুতিতে পিছিয়ে নেই মাঠের বিরোধী দল বিএনপিও। দলটির হাইকমান্ড এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন। সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই, ইশতেহার তৈরিসহ সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দলের চেয়ারপারসনের রায়কে কেন্দ্র করে শনিবার নির্বাহী কমিটির সভা হলেও সেখানে উঠে আসে নির্বাচনের বিষয়। আগামী নির্বাচনে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের দলীয় মনোনয়ন দিতে তৃণমূল থেকে চেয়ারপারসনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। দলের হাইকমান্ডও আগামী দিনের আন্দেলন ও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকতে নেতাদের নির্দেশ দেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারপারসনের বক্তব্যে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়া ও প্রস্তুতির বিষয়টি উঠে আসে।

সূত্র জানায়, দলের থিঙ্কট্যাঙ্কদের সহায়তায় সিনিয়র কয়েক নেতা আগামী নির্বাচনে ইশতেহার তৈরির কাজ করছেন। ভিশন-২০৩০ আলোকে এ ইশতেহার তৈরি করা হচ্ছে। চলছে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইও। তিন ক্যাটাগরিতে এ প্রার্থী বাছাই করা হচ্ছে। দলের পাশাপাশি বেসরকারি কয়েকটি সংস্থা দিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন। বিএনপিও গোপনে প্রার্থীদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছে। সংগ্রহ করছে তাদের নানা তথ্য।


নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকতে তারেকের নির্দেশনা
বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত যাই হোক না কেন, আপাতত নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকতে দলীয় হাইকমান্ডকে নির্দেশনা দিয়েছেন লন্ডনে অবস্থারত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সরকারের বাইরে থাকা দলগুলোর সঙ্গে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার পাশাপাশি সেটিকে নির্বাচনী ঐক্যে পরিণত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দলের স্থায়ী কমিটিকে যৌথভাবে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার পরামর্শ দিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি সব সময় একমত থাকবেন। তারেক রহমান লন্ডন থেকে টেলিফোনে দলের স্থায়ী  কমিটির একাধিক সদস্যকে ওই নির্দেশনা দেন এবং নিজের মনোভাব জানান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া সম্প্রতি লন্ডন সফরের সময় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা করেন তারেক। অবশ্য নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নে খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যুটিকে ‘ট্রাম্প কার্ড’ হিসেবে নেয়ার সিদ্ধান্ত অনানুষ্ঠানিকভাবে নিয়ে রেখেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি।

এদিকে এ বছর বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (১০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, এ বছরের শেষ দিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনি কাজে ব্যস্ততার কারণে ইসির পক্ষে এবছর বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা সম্ভব হবে না। এছাড়াও পরবর্তীতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময় হিজড়াদেরও ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ পরিচয়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ইসি সচিব বলেন, বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা না হলেও কেউ নিজে এসে ভোটার হতে চাইলে তাকে ভোটার করা হবে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ইসি জানিয়েছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ না করলেও আইনি কোনো ব্যত্যয় হবে না। এ বিষয়ে ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এর ১১ ধারায় বলা হয়েছে, যদি ভোটার তালিকা পূর্বোল্লেখিতভাবে হালনাগাদ না করা হয়, তাহলে এর বৈধতা ও ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ণ হবে না। এতে আরো বলা হয়, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম গ্রহণ না করলেও আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না। এরূপ ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম গ্রহণ না করার নজির রয়েছে। তবে ইসির কেউ কেউ শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনা করা না হলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। কারণ ভোটার তালিকা বিধিমালা, ২০১২ এর ৩ বিধির ৯ (গ) এ বলা হয়েছে, বাড়ি বাড়ি গমনপূর্বক ভোটারদের মধ্যে নির্ধারিত ফরম বিতরণ ও প্রয়োজনীয় তথ্যসংগ্রহের জন্য কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত তথ্য সংগ্রহকারীগণের দ্বারা সম্পন্ন করা হয়।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162