বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮ | ২৯, অগ্রহায়ণ, ১৪২৫
 / ফিচার / ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন কেওক্রাডং
ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Thursday, 26 July, 2018 at 1:05 PM, Count : 263
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট

উৎসব মানেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানে ভ্রমণপিপাসু মানুষদের বাড়তি চাপ। এবারও ঈদুল আজহার লম্বা ছুটিতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত এখন পাহাড়ি জেলা বান্দরবান। এ জেলাতেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া তাজিং ডং এবং কেওক্রাডং পাহাড় অবস্থিত। কেওক্রাডং (Keokradong) পাহাড় বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় বাংলদেশ ও মায়ানমারের সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশের পঞ্চম উচ্চতম পর্বত। এর উচ্চতা ৯৮৬ মিটার (৩২৩৫ফুট প্রায়, জি পি এস রিডিং হতে প্রাপ্ত)। কেওক্রাডং শব্দটি মারমা ভাষা থেকে এসেছে। মারমা ভাষায় কেও মানে ‘পাথর’ ক্রা মানে ‘পাহাড়’ আর এবং ডং মানে ‘সবচেয়ে উঁচু’। অর্থাৎ কেওক্রাডং মানে সবচেয়ে উঁচু পাথরের পাহাড়। বাংলাদেশের ট্র্যাকারদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় রুটটি হচ্ছে বগা লেক-কেওক্রাডং-জাদিপাই। দু-তিন দিন হাতে সময় নিয়ে অসম্ভব সুন্দর কিছু মুহূর্ত আর দুর্দান্ত রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিয়ে আসতে পারবেন।

ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট

বাংলাদেশের ভ্রমণপিয়াসী মানুষের কাছে বান্দরবান এক প্রিয় নাম। দেশি-বিদেশি পর্যটকে সব সময় সরগরম এই এলাকা। কিন্তু এখানে ট্যুর প্ল্যান করলে সবার আগে মাথা ধরে যায় কোথায় যাব সেটা ভাবতে ভাবতে। শহরের পাশে নীলগিরি, নীলাচল, স্বর্ণ মন্দির, চিম্বুক পাহাড় আর মেঘলা জায়গাগুলো বেশ জনপ্রিয় পর্যটকদের কাছে। কি পরিবার কি বন্ধুবান্ধব, সবাইকে নিয়ে ঘোরার জন্য দারুণ জায়গা। চাইলেই চট করে একটা গাড়ি নিয়ে সবাই মিলে ঘুরে আসা যায়। তবে অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী হলে আপনার যেতে হবে বান্দরবানের গহিনে, তাহলেই মিলবে ট্র্যাকিংয়ের রোমাঞ্চ। বাংলাদেশের ট্র্যাকারদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় রুটটি হচ্ছে বগা লেক-কেওক্রাডং-জাদিপাই। দু-তিন দিন হাতে সময় নিয়ে অসম্ভব সুন্দর কিছু মুহূর্ত আর দুর্দান্ত রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিয়ে আসতে পারবেন, গ্যারান্টি দিচ্ছি। সাথে চাইলে জিতে আসতে পারবেন বাংলাদেশের পঞ্চম উচ্চতম (উইকিপিডিয়া) পাহাড়চূড়া। একদম শুরু থেকে শেষপর্যন্ত কীভাবে কী করবেন, তার বিশদ বিবরণ জেনে নিন।

ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট

কিভাবে যাবেনঃ

ঢাকা থেকে বান্দরবান যেতে চাইলে বাস এবং ট্রেন, দুভাবেই যাওয়া যায়। তবে সরাসরি যেতে চাইলে যেতে হবে বাসে। বিভিন্ন কোম্পানির বাস আছে, যেগুলো বিভিন্ন সময় ঢাকা ছেড়ে যায় বান্দরবানের উদ্দেশে। কল্যাণপুর কিংবা আরামবাগ থেকে বাসে উঠতে হবে। টিকিট করতে হবে অন্তত একদিন আগে। আর যদি কোনো কারণে বান্দরবানের টিকিট না পান, তাহলে যেতে হবে চট্টগ্রাম হয়ে। প্রথমে চট্টগ্রামে পৌঁছে যেতে হবে বহদ্দারহাট বাসস্ট্যান্ডে। সেখান থেকে ধরতে হবে বান্দরবানের বাস। ট্রেনে করে গেলেও প্রথমে চট্টগ্রামে নেমে বাস ধরতে হবে। ঢাকা থেকে বান্দরবানের নন এসি বাসের টিকিট মূল্য ৬২০ টাকা। এসি বাসে গেলে গুনতে হবে কমপক্ষে ৯০০ টাকা। আর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গেলে ভাড়া ৪৮০ টাকা নন এসি, এসি ৮০০ থেকে শুরু।
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট


ট্রেন ভাড়া শোভন চেয়ার ৩২০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবানের বাস আছে দুটি। পূর্বাণী এবং পূরবী নামক বাস দুটিতে এসি খুঁজে লাভ নেই। নন এসি বাস দুটির ভাড়া ১০০ করে।কেওক্রাডং যেতে হলে আপনাকে প্রথমে যেতে হবে বান্দরবান। বান্দরবান শহর থেকে চান্দের গাড়ি(ফোর হুইল ড্রাইভ), বাস, সি এন জি করে রুমা যাওয়া যায়। চান্দের গাড়ি/জীপ রিসার্ভ করলে প্রায় ৩০০০/৪০০০ টাকার মত ভাড়া পড়বে যা মৌসূম ও পর্যটকদের সমাগম ভেদে ভিন্ন হয়ে থেকে।
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট


আর সার্ভিস এর বাসে করেও রুমা যেতে পারেন সে ক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ১০০ টাকা। বাসের সিট তেমন ভালো মানের নয়। বান্দরবান শহর থেকে রুমা যেতে সময় লাগবে কমবেশি ২ ঘণ্টার মত। রুমা নেমে সার্ভিস এর চান্দের গাড়ি করে যেতে হবে রুমা বাজার, ভাড়া ৩০ টাকা জনপ্রতি।


নিয়ম অনুযায়ী রুমা বাজার থেকে পাহাড়ে কোথাও বেড়াতে যেতে হলে আপনাকে গাইড নিতে হবে, দিনপ্রতি গাইড সার্ভিস চার্জ ৫০০ টাকা। বাজারে গাইড সমিতি আছে তাদের কাছে গেলেই গাইড পাবেন । গাইডকে সাথে নিয়ে আর্মি ক্যাম্পে গিয়ে নিয়ম অনুযায়ী নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর ইত্যাদি তথ্য নিবন্ধন করতে হবে। বড় দল গেলে আগে থেকে একটি কাগজে সবার নাম, ঠিকানা, পেশা, ফোন নম্বর ও বাসায় যোগাযোগের নম্বর সহ একটি তালিকা আগে থেকে প্রস্তুত করে নিয়ে যেতে পারেন।
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট


যেহেতু পাহাড়ি পথে হাঁটতে(ট্রে্কিং)হবে তাই, বিশেষত বৃষ্টির দিনে আপনাকে অবশ্যই ট্রেকিং এর উপযুক্ত জুতা বা স্যান্ডাল সাথে রাখতে হবে। তেমন জুতা সাথে না থাকলে রুমা বাজার থেকে ট্রেকিং এর উপযুক্ত রাবার এর স্যান্ডেল কিনে নিতে পারেন। দোকানে গিয়ে পাহাড়ে ওঠার জন্য ভালো স্যান্ডেল বললেই তারা বের করে দেবে আপনাকে।


এর পর আপনাকে পায়ে হেঁটে (ট্রেক করে) বগালেক উঠতে হবে। এই ঊঠাটা প্রথম যারা পাহাড়ে উঠছেন তাদের জন্য একটু কষ্টের হ্যে থাকে , কিন্তু তা কেওক্রাডং এর পথে ট্রেক করার প্রাক প্রস্তুতী ও হয়ে যায় বটে। আধাঘন্টা(ধীরে হাঁটলে ১ ঘন্টা) ট্রেক করে পৌছে যাবেন পাহাড়ের উপরের অনিন্দ্য সুন্দর বগালেক এ । সাধারনত এ যাত্রায় পর্যটকগন বগালেকে রাত্রীযাপন করে থাকেন।
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট


গাইড ই আপনার জন্য কটেজ ঠিক করে দিবে। ভাড়া জনপ্রতি ১২০-১৫০ টাকা। বিভিন্ন কটেজ আছে এখানে একতলা দু তলা। তবে সিয়াম দিদির কটেজের ভালো নাম ডাক আছে। পরদিন সকালে খুব ভোরে শুরু হবে আপনার ফাইনাল মিশন। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে গাইড সহ রওয়ানা দিবেন কেওক্রাডং এর উদ্দেশ্যে। খুব হেলেদুলে হেটে গেলেও সময় লাগবে তিন থেকে সারে তিন ঘণ্টার মত।

কোথায় থাকবেনঃ

আপনি বগালেক এ রাত্রি যাপন করবেন। গাইড ই আপনার জন্য কটেজ ঠিক করে দিবে। ভাড়া জনপ্রতি ১২০-১৫০ টাকা। বিভিন্ন কটেজ আছে এখানে একতলা দু তলা। তবে সিয়াম দিদির কটেজের ভালো নাম ডাক আছে। আর যদি কেওক্রাডং রাত যাপন করতে চান তাহলে কেওক্রাডং চুড়ায় উঠার আগেই একটা রেস্টুরেন্ট পাবেন উনাদের কটেজ আছে বললে ব্যবস্থা করে দিবে। ভাড়ার হিসাব বগালেকের মতই।
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট


কোথায় খাবেনঃ

আপনি যে কটেজে থাকবেন সেখানেই খেতে পারেন। অথবা গাইড কে বললে মুরগীর ব্যবস্থা করে দিবে চাইলে নিজেরাও রান্না করতে পারেন। খাবার জনপ্রতি তারা নেই ১০০-১২০ টাকা। তবে গরু বা খাসি বলে কোন গোশত খাওয়াতে চাইলে মুসলিম রা না খাওয়াই ভালো। আমার মতে সবচেয়ে ভালো নিরামিষ খাবার খাওয়া অথবা মুরগি এনে নিজেরা জবেহ করে পাক করতে দেওয়া।বগালেক ছাড়াও আপনি কেওক্রাডং এ দুপুরে খেতে পারবেন খাবারের নিয়ম মান দাম একই বগালেকের মত। এছাড়া বগালেক থেকে কেওক্রাডং যাবার পথে কয়েকটা পাড়া পাবেন সেখানেও কিছু খাবারের দোকান পাবেন যেমন চা , কলা, রুটি ও পাহাড়ি ফল পেপে,কমলা খেতে পারবেন।
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট


মনে রাখা জরুরি


১. খুব বেশি জামাকাপড় নেবেন না। শুধু যেগুলো একদম না নিলেই নয়, সেগুলো নেবেন। ভারী হওয়া ব্যাগই পরবর্তীকালে আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে উঠতে পারে যাত্রাপথে।

২. মজবুত কেডস অথবা স্যান্ডেল নেবেন। দুটির মাঝে আপনি যেটিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সেটিই পরবেন।

৩. ব্যাকপ্যাক নেবেন। হাতের কোনো ব্যাগ নিলে চলবে না।

৪. পানির বোতল নেবেন হাফ লিটারের। সেটাতে যেন সব সময়ই পানি থাকে। স্যালাইন রাখবেন সাথে।

৫. জোঁকের সংক্রমণ আছে। তাই লবণ নেবেন সাথে।

৬. মশার কামড় থেকে বাঁচতে ওডমস ক্রিম রাখুন সাথে।

৭. ট্র্যাকিংয়ের সময় শুকনা খাবার এবং এমনিতে সারা দিন কলা খান। কলা আপনার পেশিকে কর্মক্ষম রাখবে।

৮. হালকা কিছু ওষুধ আর অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম রাখুন সাথে।

৯. একটা টর্চলাইট নেবেন সাথে। অনেক কাজে আসবে।

১০. মোবাইল চার্জ দেওয়ার ফুসরত খুব একটা মিলবে না। তাই পারলে একটি পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে নিন সাথে।

১১. রবি আর টেলিটক ছাড়া বাকি অপারেটরদের নেটওয়ার্ক সব সময় থাকে না। তাই এই দুটি মোবাইলের সিম সাথে নিয়ে যাবেন।

১২. ক্যাপ পরে নেবেন সব সময়।

১৩. সিগারেটের ফিল্টার, বিস্কুট, চানাচুর, চিপসের প্যাকেট যেখানে সেখানে ফেলবেন না দয়া করে। ডাস্টবিনে কিংবা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় ফেলুন।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162