মঙ্গলবার, আগস্ট ১৪, ২০১৮ | ৩০, শ্রাবণ, ১৪২৫
 / শেয়ার বাজার ও বাণিজ্য / ভোটের আগে টাকার অবাধ প্রবাহ কমবে
সংযত মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Tuesday, 31 July, 2018 at 10:07 PM, Update: 31.07.2018 10:09:21 PM, Count : 104
ভোটের আগে টাকার অবাধ প্রবাহ কমবে

ভোটের আগে টাকার অবাধ প্রবাহ কমবে

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য (জুলাই-ডিসেম্বর) সংযত মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বাজারে মুদ্রা সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমানে বাজারে পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, এখন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় গভর্নর এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন মুদ্রানীতিতে খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। কারণ, এই বছর জাতীয় নির্বাচনের কারণে কালো টাকার প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজারে নগদ অর্থের প্রবাহে লাগাম টানার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল গত অর্থবছরের (জানুয়ারি-জুন) দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতিতে। এছাড়া ঋণ প্রবৃদ্ধি মাত্রাতিরিক্ত বাড়ার কারণে ঋণের লাগাম টেনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঋণ-আমানত অনুপাত কমিয়ে দেয়া হয়েছিল। তবে ব্যাংকগুলোর চাওয়া অনুযায়ী নতুন এ হার কার্যকরের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে অর্থ পাচার বেড়ে যাওয়ার শঙ্কাও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ সময় ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান, এস এম মনিরুজ্জামান, আহমেদ জামাল, বাংলাদেশ ব্যাংকের চেইঞ্জ ম্যানেজমেন্ট পরামর্শক আল্লা মালিক কাজমী, ব্যাংকিং রিফর্ম অ্যাডভাইজার এস কে সুর চৌধুরী, প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. ফয়সল আহমেদ, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মো. আখতারুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সংযত মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে কি না- এ প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বলেন, সরকার বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির যে লক্ষ্য ধরেছে, তা বাস্তবায়নে সহায়তা করতেই নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। সুদহার কমানোর কারণে পুঁজিবাজারে কোনো প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে গভর্নর বলেন, বর্তমানে বাজারে পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। পুঁজিবাজারে মিস ম্যাচ কমে গেছে। এ ছাড়া আন্তঃব্যাংক লেনদেনের সুদহার কম রয়েছে। এগুলো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াবে। তাই এখন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। ফজলে কবির বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি প্রণয়নের সময় সবসময় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ আকর্ষণীয় কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে থাকে। এ জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণার পর থেকে মূলধন বাজারে ইকুইটি এবং বন্ড ইস্যু কার্যক্রম বিকাশের জন্য বারবার বলা হচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সঙ্গে চীনা কনসোর্টিয়ামের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারের চুক্তি হয়েছে। চায়নিজদের জড়িত হওয়ার কারণে বর্তমান পুঁজিবাজার আরো গতিশীল হবে। তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর জন্য আলোচনা চলছে। এটি সমন্বয় করা হবে। এতে করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়বে। এ ছাড়া দেশের পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক সবসময় পাশে থাকবে। ব্যাংকগুলোর ছয়-নয় সুদহার বাস্তবায়ন নজরদারিতে আছে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ব্যাংকগুলো কী হারে আমানত সংগ্রহ করছে এবং ঋণ কী হারে দিচ্ছে, তা নজরদারির মধ্যে রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আমদানির সঙ্গে টাকা পাচার হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, অনুসন্ধানে চার হাজার কোটি টাকা পাচারের একটা তথ্য পাওয়া গেছে। আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তা পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে আরো কাজ চলছে।

এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় সংযত মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ জোগান যেন বাধাগ্রস্ত না হয় সেদিকেও নজর রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ। সরকারি ঋণের প্রাক্কলন করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। গভর্নর বলেন, ২০১৮ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির নির্ধারিত ৭ দশমিক ৪ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রকৃত অর্জন বেশি অর্থাৎ ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ হয়েছে। তবে গড় বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশে পরিমিত রাখার লক্ষ্যমাত্রাটি অর্জিত হয়নি। এ বছরের জুনে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আমদানি পণ্যের খরচ বাড়ায় এ মূল্যস্ফীতি বেড়েছে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি বছর দুবার মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে থাকে। ছয় মাস অন্তর এই মুদ্রানীতি একটি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই মাসে এবং অন্যটি জানুয়ারি মাসে। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে পরবর্তী ছয় মাসে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।



দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162