মঙ্গলবার, আগস্ট ১৪, ২০১৮ | ৩০, শ্রাবণ, ১৪২৫
 / রাজনীতি / অক্টোবরে ঢাকা অচলের পরিকল্পনা বিএনপির
মাসুদ শায়ান, ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Wednesday, 8 August, 2018 at 10:09 PM, Update: 08.08.2018 10:10:19 PM, Count : 327
অক্টোবরে ঢাকা অচলের পরিকল্পনা বিএনপির

অক্টোবরে ঢাকা অচলের পরিকল্পনা বিএনপির

আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বড় ধরনের আন্দোলনের পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে বিএনপি। এ জন্য জোটের অন্য শরিকদেরও ইতোমধ্যে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ নির্বাচনের দাবি আদায়ে অক্টোবরকে টার্গেট করেই এগুচ্ছে দলটি।

বিএনপির দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, যৌক্তিক দাবি আদায়ে সব দলকে নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু করেছে দলটি। সাম্প্রতিক সময়ের কোটা আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে কিশোর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে বিএনপি অনেক কিছু শিখেছে বলে দাবি করেছেন দলের সিনিয়র নেতারা। সূত্রমতে, এবার বিএনপির আন্দোলন হবে ঢাকাকেন্দ্রিক। ঢাকাকে ঘিরেই বিএনপি সব আন্দোলনের কৌশল তৈরি করছে। পাশাপাশি সারাদেশেও কর্মীরা মাঠে থাকবেন।

বিএনপির একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন, ২০০৬ সালের অক্টোবরে আওয়ামী লীগ যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল, এবার বিএনপি ঢাকার রাস্তায় তেমনি পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। ওই নেতা বলছেন, লন্ডন থেকে আন্দোলনের কৌশলপত্র আসছে। বিএনপির অন্য একজন নেতা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক দুটি আন্দোলনে সরকার এবং আওয়ামী লীগের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা গেছে। দুর্বলতাগুলো কী জানতে চাওয়া হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক দুটি আন্দোলনের ধাক্কা সামলাতে সরকারকে হিমশিম খেতে হয়েছে। রাজনৈতিকভাবেও বেশ চাপে থাকতে হয়েছে। সরকারকে বাধ্য হয়ে পিছু হটতে হয়েছে। সূত্রমতে, সরকার যে কৌশলে দুটি আন্দোলন দমন করেছে এতে আওয়ামী লীগের প্রতি আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের মনোভাব বেশ নেতিবাচক পর্যায়ে চলে গেছে। আন্দোলন দমাতে সরকার সম্পূর্ণভাবে পুলিশের ওপর নির্ভর করেছে। ছাত্রলীগকে বেপরোয়াভাবে মাঠে নামিয়েছে। এতে সরকারের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমছে। বিএনপির নেতারা মনে করছেন, সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলনে মানুষের ক্ষোভের প্রকাশ দেখেছে বিএনপি। নেতারা বলছেন, সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রতি সাধারণ মানুষ ও ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ তাদের আশান্বিত করে তুলেছে। এটা সারাদেশের বিএনপি জোটের নেতাকর্মীদের জন্য খুবই আশার খবর। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মনে করেন, সরকারি লোকজনের ভয়াবহ দুর্নীতি ও বেপরোয়া লুটপাটের কারণে সরকারের বেপরোয়া আচরণে জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। সরকার ক্রমশ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, এখনই আন্দোলনের ভালো সময়।

বিএনপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, সরকার আবারো ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো ভয়াবহ নির্বাচনের ফর্মুলা নিয়ে এগুচ্ছে। যেনতেন একটি নির্বাচন করে আবারো ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চাইছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার যত ষড়যন্ত্রই করুক খালেদা জিয়াকে ছাড়া আমরা নির্বাচনে যাব না। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য আমরা অচিরেই আন্দোলনে নামছি। ২০ দলীয় জোট একযোগে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব আন্দোলনে অংশ নেবে। শিগগিরই বিএনপির কঠোর আন্দোলন দৃশ্যমান হবে। লন্ডন থেকে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক জিয়া তার নিজস্ব লোকদের ঢাকাকে অচল করার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। বিএনপি তার নিজস্ব বৈঠকেও সর্বাত্মক আন্দোলন নিয়ে কথা বলেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেলার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকাকেন্দ্রিক কঠোর এবং সর্বাত্মক আন্দোলনের দাবি এসেছে। দলের মধ্যে এতদিন যারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন, শিক্ষার্থীদের পরপর দুটি আন্দোলনে তারা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান দাবি করেছেন, ২০১৪-এর পরিস্থিতি আর এখনকার পরিস্থিতি এক নয়। সরকারের ভিত্তি দুর্বল হয়ে গেছে। বড় আন্দোলনের ধাক্কা সামাল দেয়ার ক্ষমতা সরকারের নেই। তবে আন্দোলনের ধরন কি হবে, সে সম্পর্ক স্পষ্ট করে নজরুল ইসলাম খান কিছু বলেননি।

বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, মূলত রাজপথ দখল করে ঢাকাকে অচল করাই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য। আর এটা করতে দলটি কি ধরনের কর্মসূচি নেবে তা ঠিক হচ্ছে লন্ডনে। বিএনপির একটি সূত্র বলছে, চূড়ান্ত আন্দোলনের আগে তারা চাইছে ২০ দলীয় জোট সম্প্রসারণ করে আরো বড় করতে। ২০ দলের বাইরে আরো কয়েকটি দলকে এ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করতে। জোটগত না হোক অন্তত যেন যুগপৎ আন্দোলন হয়, যে লক্ষ্যে দলটির নেতারা অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকেও বিএনপির মহাসচিব আন্দোলনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, অপেক্ষা করেন, দেখেন। আমরা কি করতে পারি দেখাব। আমাদের আর কোনো উপায় নেই। এখন অস্তিত্বের জন্যই আমাদের আন্দোলনে যেতে হবে। আগামী আন্দোলনে বিএনপির সাথে সাধারণ মানুষও অংশ নেবে বলে মনে করে দলটি। আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি সরকারের পতন ঘটানো এবং সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ আদায় করে নেবে। দলের সিনিয়র বেশ ক’জন নেতা মনে করেন, কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে কারারুদ্ধ দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি আদায় এবং অবাধ নির্বাচনের দাবিদাওয়া আদায় করা হবে। সরকারকে কিছু যৌক্তিক দাবি মানতে বাধ্য করা হবে। সরকারকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করা হবে। সবচেয়ে বড় কথা, একটা আন্দোলনের মোমেন্টাম নিয়ে বিএনপি নির্বাচনে যাবে। এতে বিএনপি অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। 


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162