বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮ | ২৯, অগ্রহায়ণ, ১৪২৫
 / আন্তর্জাতিক / সকালে মৃত্যু হবে, তাই নিজেই তৈরি করলেন খাটিয়া!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Thursday, 9 August, 2018 at 6:32 PM, Update: 09.08.2018 6:36:48 PM, Count : 362
সকালে মৃত্যু হবে, তাই নিজেই তৈরি করলেন খাটিয়া!

সকালে মৃত্যু হবে, তাই নিজেই তৈরি করলেন খাটিয়া!

প্রেমানন্দ, বছর ষাটেক বয়স হবে। সে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কালনা শহরের বাসিন্দা। পেশায় একজন খেতমজুর। মনযোগ সহকারে ওঠানে বসে বাঁশ চাঁছছিলেন। লম্বা লম্বা বাঁশ। তবে এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য আছে। একটি খাটিয়া বানানোই সেই মূল উদ্দেশ্য। বাবার এমন দৃশ্য দেখার পরে ছেলে খাটিয়া বানানোর কারণ জিজ্ঞেস করেন। উত্তর, আত্মহত্যা করব তাই। খাটিয়াটা অনেক মজবুত করে বানাচ্ছি। খাটিয়া বহন করতে কারও অসুবিধা হবে না। আর আমাকে এইটা করে নিয়ে যাবি।

স্বাভাবিক ভাবেই বাবার এই উত্তরে ছেলে আঁতকে উঠবেন। তখন ছেলে বলে উঠে, কী করছো তুমি, পাগল হয়ে গেলে? ছেলের কাছ থেকে এমন উত্তর শুনা মাত্রই বৃদ্ধ বাবা ক্ষেপে উঠেন। ছেলেকে সাথে সাথে কাটারি নিয়ে তাড়া করতে থাকেন। বাবার এমন ব্যবহারে বাকী ছেলেরা আর বাবার ধারের কাছে আসার সাহস পায় না।

বৃদ্ধ বাবা তার খাটিয়ার কাজ শেষ করেন। ঠিক তার পরের দিন ছেলেরা দেখতে পান, সত্যি সত্যি বৃদ্ধ বাবা আত্মহত্যা করেছেন।

দেশটির গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃদ্ধ বাবা তার জন্য খাটিয়া বানানোর এক সময়ে পেরেক শেষ হয়ে যায়। সে জন্য দোকান থেকে আবার পেরেক নিয়ে আসেন। খাটিয়ার কাজ শেষ করে মহল্লায় বেড়িয়ে পড়েন। প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলেন। প্রেমানন্দ তাদের বলেন, ‘সকলেই ভালো থেকো গো। কাল থেকে আমি আর থাকব না।’

প্রতিবেশীরা ভাবেন, বৃদ্ধ বুঝি আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে যাবেন। হঠাৎ করেই একজন জানতে চান, কোথায় যাবেন কালকে?  আমি মারা যাব, বলেন প্রেমানন্দ। তার অবশ্য মদ্যপানের অভ্যাস ছিল। প্রায়ই মদ খেতেন। সেজন্য প্রতিবেশীরা ভাবলেন, বৃদ্ধ হয়তো আজ মদ খেয়েছেন। সে জন্য তার কথায় প্রতিবেশীরা কোন পাত্তাই দিলেন না।

রাত শেষে সকালে প্রেমানন্দ তার চালাঘরে ঝুলছিলেন। নিথর দেহ ঝুলছে। তাকে তার নাতনিই সবার আগে দেখে। বাড়ির সকলেই অবাক। প্রতিবেশীরা তো বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। নিজের জন্য তিনি নিজেই তার খাটিয়া বানালেন আর তারপরে আত্মহত্যা করলেন। এ যেন ফেসবুক লাইভে আত্মহত্যা করার থেকেও এক ধাপ ওপরে।

এ বিষয়ে ছেলে হরিবৃন্দ বলেন, কেমন যেন লাগছিল বাবাকে। বাবাকে বলতে যাওয়ায় দৌঁড়ানি খেলাম। তবে তার বাবা যে হার্ট ও কিডনি রোগে ভোগছিলেন সেটা তার পরিবারের লোকজনই জানিয়েছেন।

অদ্ভুত এই আত্মহত্যার কারণ?

বৃদ্ধের স্ত্রী বকুল মাঝি জানান, ‘সারা রাতই তার দিকে নজর ছিল। কিন্তু সকালে ঘুম ভাঙলে অবাক হই তার এই অঘটন দেখে।

গতকাল বুধবার তার ময়নাতদন্তের পর নিহতের মরদেহ ওই খাটিয়াতে করেই শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। আর যে খাটিয়া বৃদ্ধা নিজেই আগে তৈরি করেছিলেন।  

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এটা অনেক দিনের পরিকল্পনার ফলাফল। সে এমনটাই ভেবে রেখেছিলেন যা কিনা সে করেছেন। এমনি কিছু সমস্যা তার মধ্যে ছিল যা থেকে তিনি কোনোভাবেই বেরিয়ে আসতে পারেনি। সে জন্যই আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিয়েছেন। কিন্তু এরকম ঘটনা খুব কম ঘটে।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162