মঙ্গলবার, আগস্ট ১৪, ২০১৮ | ৩০, শ্রাবণ, ১৪২৫
 / প্রথম পাতা / টিকিটপ্রত্যাশীদের উপচেপড়া ভিড় কমলাপুর রেলস্টেশনে
ডেসটিনি রিপোর্ট
Published : Friday, 10 August, 2018 at 9:07 PM, Count : 14
টিকিটপ্রত্যাশীদের উপচেপড়া ভিড় কমলাপুর রেলস্টেশনে

টিকিটপ্রত্যাশীদের উপচেপড়া ভিড় কমলাপুর রেলস্টেশনে

ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের দেয়া হচ্ছে দ্বিতীয় দিনের ট্রেনের অগ্রিম টিকিট। গতকাল বৃহস্পতিবার দেয়া হয় ১৮ আগস্টের টিকিট। সকাল আটটায় বিক্রি শুরু হওয়া টিকিট পেতে টিকিট প্রত্যাশীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায় কমলাপুর রেলস্টেশনে। মধ্যরাত থেকেই স্টেশনে দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন হাজারও মানুষ। অন্যান্য ঈদে টিকিট বিক্রির দ্বিতীয় দিন দুপুর ১২টার দিকে লাইন ছোট হয়ে এলেও সেই লাইন ১২টার পরও কমছে না। চাহিদার তুলনায় টিকিট সীমিত হওয়ায় দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে টিকিট পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন।
যাত্রী ও রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, অন্যান্য বছর ঈদের দুই-তিনদিন আগে টিকিট কিনতে যেরকম ভিড় হয় গতকালের ভিড় তাকে ছাড়িয়ে গেছে। টিকিট পেতে অনেকে ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা ধরেও লাইনে আছেন।
সরেজমিন গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশন গিয়ে দেখা যায়, সেখানে লোকে-লোকারণ্য। যে ২৬টি কাউন্টার থেকে টিকিট দেয়া হয় এর প্রতিটিই ছিল মানুষের দীর্ঘ সারি। এই লাইন স্টেশন ছেড়ে সড়কে গিয়ে ঠেকেছে।
লাইনে অপেক্ষমাণ কয়েকজন টিকিট প্রত্যাশীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই টিকিট পেতে গভীর রাতে লাইনে এসে দাঁড়িয়েছেন। কেউ কেউ আবার রাত কাটিয়েছেন রেলস্টেশনে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে যাত্রীদের সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে দেখা যায়।
তবে কয়েকজন যাত্রী সকাল আটটা থেকে টিকিট বিক্রির করার ব্যাপারে সমালোচনা করে জানান, সকাল আটটার পরিবর্তে রেল কর্তৃপক্ষ যদি সকাল ছয়টা থেকে টিকিট বিক্রি করতেন তাহলে ভালো হতো। কারণ গরমের কারণে লাইনে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সকাল ছয়টা থেকে টিকিট বিক্রি করা হলে এই দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হতো।
উত্তরবঙ্গের লালমনি এক্সপ্রেসের টিকিট নিতে গত বুধবার রাত একটার দিকে লাইনে দাঁড়িয়েছেন সোহেল রানা। কিন্তু লাইনের একেবারে পেছনে দাঁড়ানোয় টিকিট পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় শঙ্কায় রয়েছেন তিনি। সোহেল বলেন, টিকিটের জন্য এলাম, কিন্তু আসতে একটু দেরি হয়ে গেছে, তাই লাইনের পেছনে পড়ে গেছি। যে অবস্থা দেখছি তাতে টিকিট পাব কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি।
আবার টিকিট পেয়ে অনেকের মুখে দেখা গেছে হাসির ঝিলিক। গত বুধবার রাত ১০টার দিকে লাইনে দাঁড়ানো তারেক সালমান প্রায় ১৪ ঘণ্টা অপেক্ষার পর টিকিট পেয়েছেন। টিকিট পেয়েই এমনভাবে উল্লাস প্রকাশ করেন যেন তিনি যুদ্ধ জয় করেছেন। তিনি বলেন, কষ্ট হলেও টিকিট পেয়ে ভালো লাগছে। এখন ভালোয় ভালোয় বাড়ি যেতে পারলেই হয়। ট্রেনের লাইন ঠিক থাকলে আর বাড়ি যাওয়া ঠেকাতে পারবে না কেউ।
গতকাল বৃহস্পতিবার দেয়া হয় ১৮ আগস্টের টিকিট। এভাবে ১০ আগস্ট ১৯ আগস্টের, ১১ আগস্ট ২০ আগস্টের ও ১২ আগস্ট ২১ আগস্টের অগ্রিম টিকিট দেয়া হবে।
আর ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১৫ আগস্ট থেকে। সেদিন দেয়া হবে ২৪ আগস্টের টিকিট। এছাড়া ১৬ আগস্ট ২৫ আগস্টের, ১৭ আগস্ট ২৬ আগস্টের, ১৮ আগস্ট ২৭ আগস্টের ও ১৯ আগস্ট ২৮ আগস্টের ফিরতি টিকিট দেয়া হবে।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী বলেন, আগাম টিকিট বিক্রিতে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ রেলওয়ের নিজস্ব বাহিনী তৎপর রয়েছে।
রেলসূত্রে জানা যায়, এবারো মোট টিকিটের ৬৫ শতাংশ দেয়া হয় কাউন্টার থেকে। বাকি ৩৫ শতাংশের ৩০ শতাংশ অনলাইন ও মোবাইলে। ৫ শতাংশ ভিআইপি ছাড়াও রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে।



দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162