বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮ | ২৯, অগ্রহায়ণ, ১৪২৫
 / লাইফস্টাইল / কতটা অপরাধ পরকীয়া প্রেম?
নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Friday, 10 August, 2018 at 4:01 PM, Count : 327
কতটা অপরাধ পরকীয়া প্রেম?

কতটা অপরাধ পরকীয়া প্রেম?

বিয়ের পরে শারীরিক সম্পর্ক বা পরকীয়া প্রেম নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম আইন রয়েছে। কিন্তু সে আইন সর্বদা অধরায় থেকে যায়। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, কতটা বৈধ এই পরকীয়া প্রেম? এটা কী আদৌ অপরাধ না কেবলই একটি সামাজিক ব্যাধি হিসেবে পরিচিত। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সুপ্রিম কোর্ট থেকে এমনই প্রশ্ন উঠেছে এই পরকীয়া প্রেম নিয়ে।

ভারতীয় দন্ডবিধির ৪৯৭ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, বিবাহ বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক কিংবা পরকীয়া প্রেম অপরাধ। যদি আদালতে এ ধরণের সম্পর্কে যুক্ত থাকার বিষয় প্রমাণিত হয় তাহলে দোষী পুরুষের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদন্ড ভোগ করতে হবে। কিন্তু এখন থেকে প্রায় দেড়শ বছর আগের এই বিধানের বিষয়ে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত থেকেই এবার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।

গত বুধবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের গঠিত একটি বেঞ্চ পরকীয়া প্রেম নিয়ে কোন চূড়ান্ত নির্দেশ না দিলেও বেশ কিছু বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন।

কোর্টের কাছে কেরালার এক বাসিন্দা আবেদন করেছিলেন যে, দন্ডবিধি থেকে ৪৯৭ ধারাটি বাতিল করা হোক। এই মামলার শুনানিতেই প্রশ্ন তোলে যে, সম্পর্কে দুজন মানুষ জড়িত হলেও সেখানে কেবল পুরুষের সাজা হবে বিপরীতে নারীর কোন সাজা হবে না, এটা অনুচিত।

কলকাতার হাইকোর্টের আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চ্যাটার্জী এ প্রসঙ্গে বলেন, দেড়শ বছর আগে নারী-পুরুষের সম্পর্ককে যেভাবে দেখা হত এখন তো আর সেটা হয় না। এখন নারী-পুরুষ উভয়েই একসাথে কাজ করে। তারা অফিসের কাজের প্রয়োজনেও একসাথে বাইরে যান। সেদিক থেকে মেলামেশার ধরণ যেভাবে পাল্টে গিয়েছে ঠিক সেভাবে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও অনেকটা বদলে গিয়েছে। সেদিক থেকে দেড়শ বছরের আগের এই ধারাটি বদলানোর প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও নারী অধিকার আন্দোলনের কর্মী ভারতী মুৎসুদ্দি বলেন, অনেক আগে থেকেই প্রশ্ন ওঠেছে যে, পরকীয়া প্রেমে পুরুষের সাজা হবে আর নারীর সাজা হবে না কেন? পুরুষের যেমন সাজা দেয়ার আইন রয়েছে ঠিক তেমনি সম্পর্কে জড়িত নারীরও শাস্তি হওয়া উচিত। তবে বিয়ের পর যদি নারীর স্বামীর সম্মতি থাকে তাহলে সেটা কী অপরাধ বলে বিবেচ্য হবে না? বিচারপতিরা এমন প্রশ্নও তুলেছেন। মন্তব্যে উঠে আসে, এ ধারায় কেবল বিবাহিত নারীদের সম্পর্কে জড়ানোর বিষয় থাকবে কেন? অবিবাহিত নারী কিংবা বিধবা নারীর সাথে তো পুরুষ সম্পর্ক গড়তে পারে। আইনে কেন এমন কিছু উল্লেখ থাকবে না?

মুৎসুদ্দি বলেন, ‘কোনো নারী যদি ব্যভিচারে লিপ্ত হন, সে স্বামীর অনুমতি নিয়েই হোক বা বিনা অনুমতিতেই হোক, সাজা তারও হওয়া দরকার। আইনটা থাকাই উচিত, না হলে পারিবারিক-সামাজিক যে মূল্যবোধগুলো রয়েছে, সেগুলো রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।’

কিন্তু আইনজীবী চ্যাটার্জী মনে করেন, বিধানটি একেবারে তুলে দিলে পুরো সমাজে ব্যাভিচার বাড়বে। সেটাও অনুচিত হবে। তবে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরকীয়া বা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ককে নতুন আইনি দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত। 


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162