রবিবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৮ | ৪, অগ্রহায়ণ, ১৪২৫
 / আন্তর্জাতিক / দিনে দর্জি, রাত নামলেই চেহারা পাল্টে ভয়ানক ডাকাত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Friday, 14 September, 2018 at 5:57 PM, Update: 14.09.2018 6:04:50 PM, Count : 324
ছবি : বিবিসি থেকে সংগৃহীত

ছবি : বিবিসি থেকে সংগৃহীত

আদেশ খামরা একজন দর্জি। তার বয়স ৪৮ বছর। শিল্পাঞ্চল বাজার এলাকায় তার একটি পোশাক তৈরির দোকানও আছে। ভাল একজন দর্জি হিসেবেই তাকে সবাই চিনেন। কিন্তু এর বাইরেও তার একটি পরিচয় রয়েছে। ভয়ানক সেই পরিচয়। যা কিনা ক’দিন আগেই প্রকাশ্যে এসেছে।

আদেশ খামরা মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপাল লাগোয়া শিল্পাঞ্চল মান্ডিদীপ এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের পর জানায়, রাত হলেই দর্জির পোষাক ছেড়ে অন্য এক চেহারা বেরিয়ে আসত তার। সঙ্গীদের সাথে হাইওয়ের ধারে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য দাঁড় করানো ট্রাক চালকদের সঙ্গে চুটিয়ে আলাপ জমাত। সেখানে মদ্যপানও করত। সেখানেই সকলের চোখের আড়ালে মদে মেশাতো মাদক। অচেতন ট্রাক চালকদের ও তাদের খালাসীদের হত্যা করার পর নির্জন কোথাও ফেলে দিত আদেশ ও তার সঙ্গীরা।

ভোপালের পুলিশ ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল ধর্মেন্দ্র চৌধুরী এ বিষয়ে জানিয়েছিলেন, সে আজও নতুন করে তিনটি খুনের কথা স্বীকার করেছে। এখন পর্যন্ত তার ৩৩টি খুনের কথা জানা গেছে। অধিকাংশ হত্যাকান্ডই নিশ্চিত করা গেছে। কেবল মধ্যপ্রদেশ নয়, আশেপাশের ৫-৬টি রাজ্যে খুন করেছে আদেশ ও তার সঙ্গীরা। আমরা সবগুলোই ভালো করে খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছি।

২০১০ সালে ঘটে প্রথম ঘটনাটি। তারা এগারো মাইল নামক একটি এলাকা থেকে দুটি ট্রাক ছিনতাই করে। সেখানেই শুরু। চালকদের মদের সঙ্গে মাদক মিশিয়ে অচেতন করে হত্যার পর পৃথক পৃথক স্থানে লাশ দুটি ফেলে দেয়।

রং বদলানো এই সিরিয়াল কিলার অদ্ভুতভাবেই ধরা পড়ে পুলিশের নিকট।

আগস্টের ১৫ তারিখ একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি ছিল আবদুল্লাগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মাখন সিংয়ের। পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, ট্রাক চালক লোহা নিয়ে মান্ডিদীপ থেকে যাত্রা শুরু করে। মরদেহ উদ্ধারের পর তার ট্রাকটিও খুঁজে পাওয়া যায় হাইওয়ের ধারে।

পুলিশ তদন্তে একজনকে গ্রেপ্তার করে। জেরা করা শুরু করতেই সে কয়েকজনের নাম প্রকাশ করে। আর তারপরেই ধারাবাহিকভাবে ধরা পড়ে নয় জন।

সেই মুহূর্তেও ভাবতে পারেনি পুলিশ, তারা ৩৩টি খুনের কোন কূল কিনারা করতে পারবে এবং খুঁজে পাবে কোন এক সিরিয়াল কিলারকে।

কিন্তু মি. চৌধুরীর কথায়, গ্রেপ্তারকৃতদের জেরা করতে গিয়ে কখনো মনে হয়নি তারা অন্যান্য সিরিয়াল কিলারদের মত মানসিকভাবে অসুস্থ। ওরা নিজ থেকে সকল হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে। এটাও জানায় যে, আদেশ সম্প্রতি নতুন একটি গ্যাঙও বানিয়েছিল। অন্য রাজ্যে গিয়ে  ও হত্যা ট্রাকচুরির ঘটনায় সে রাজ্যের দৃষ্কৃতিদেরও সহায়তা নিত।

পুলিশ আরও জানতে পারে, আদেশ খামরার চক্রটি কেবল মাত্র ১২ বা ১৪ চাকার বড় ট্রাকের দিকে নজর দিত। কেননা, সে ট্রাকগুলোর বিক্রি করতে পারলে অনেক টাকা পাওয়া যাবে। ট্রাকগুলো ও ট্রাকের মালপত্র উত্তর প্রদেশ বা বিহারে নিয়ে বিক্রি করত। ওসব বিক্রি করতে তাদেরকে স্থানীয় দালালরা সহায়তা করত। ঘটনা ঘটা মাত্রই তারা মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড বদলে ফেলত ওই দর্জি আদেশ খামরা।

আদেশ খামরাকে জেরা করে এখন পর্যন্ত ৪৫ পৃথক আইএমইআই নম্বরের মোবাইল ফোনের সন্ধান পেয়েছে। আর তাতে ৫০টিরও অধিক সিমকার্ড ব্যবহার করা হয়েছে।



সূত্র : বিবিসি


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162