বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৮, ২০১৮ | ২, কার্তিক, ১৪২৫
 / এক্সক্লুসিভ / চলতি মাসেই নির্বাচনকালীন সরকার
মাসুদ শায়ান, ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Tuesday, 2 October, 2018 at 8:31 PM, Update: 02.10.2018 8:55:27 PM, Count : 190
চলতি মাসেই নির্বাচনকালীন সরকার

চলতি মাসেই নির্বাচনকালীন সরকার

* আন্দোলন ঠেকাতে তফসিলের সামান্য আগে ঘোষনা
* সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকারের ৪ দফা কর্মপন্থা

চলতি অক্টোবরের মাঝামাঝি অথবা শেষ সপ্তাহে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। তবে জাতীয় নির্বাচনে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের বিষয়ে বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি নিয়ে এখনো সরকার কঠোর অনড় অবস্থানে রয়েছে। এদিকে আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য ৪ দফা কর্মপন্থা ঠিক করেছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, মন্ত্রীরা যে যখন যাই বলেন নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হবে তফসিল ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে বা তফসিল ঘোষণার সময়। ক্ষমতাসীন সরকার নির্বাচনকালীন সরকার তফসিল ঘোষণার বেশি আগে ঘোষণা করতে চাচ্ছে না। অবশ্য নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে সম্পূর্ণ সিদ্ধান্তই নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা, গঠনসহ বিস্তারিত সম্পর্কে এক প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্যকারও তেমন ধারণা নেই। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যারা গিয়েছিলেন তাদের কাছে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তফসিল ঘোষণার অত্যন্ত কাছাকাছি সময়ে নির্বাচনকালীন সরকার ঘোষিত হবে। এমনও হতে পারে তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনকালীন সরকার হবে। সরকারের কাছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য রয়েছে, নির্বাচনকালীন সরকার ঘোষণা হলেই বিরোধী দলগুলো আন্দোলনে নামতে পারে। নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়তে পারে। সরকারের ওপর বিভিন্ন চাপ প্রয়োগের প্রচেষ্টা হতে পারে। নাশকতার আশঙ্কাও করছে সরকার- এমন পরিকল্পনার নীল নকশা তৈরি হচ্ছে বলেই সরকারকে সতর্ক করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। রাজধানীসহ সারাদেশের রাস্তাঘাট একসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচনকালীন সরকার একটু দেরি করে দিতে চায় সরকার। সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনকালীন সরকারের ওপর কেউ যেন বাড়তি কোনো চাপ প্রয়োগ না করতে পারে সেজন্যই তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত সংসদের মেয়াদ থাকবে। অক্টোবরে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন শুরু হবে। অক্টোবরে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত এই সংসদ বহাল রাখা হতে পারে। রোববার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকরা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের বিষয়ে বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দাবির বিষয়ে সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। সংবিধানের বাইরে যাবে না সরকার। জানা গেছে, নির্বাচনকালীন সরকার যেন কোনোভাবেই দুর্বল কোনো সরকার না হয়, এজন্য সেখানে ডাকসাইটে সিনিয়র নেতাদের রাখারই পরিকল্পনা করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন সরকারের ১০-১২ জন মন্ত্রীর সবাই হবেন সিনিয়র নেতা। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের সময় সরকারে মন্ত্রিসভায় ছিলেন, তোফায়েল আহমেদ, রাশেদ খান মেনন, আমীর হোসেন আমু। তাদের মতোই সিনিয়র নেতারা এবারের নির্বাচনকালীন সরকারে থাকবেন বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

সূত্রমতে, নির্বাচনকালীন সরকারে বিরোধী দলগুলো থাকতে চায় কিনা সেটিও দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির কাছে জানতে চাওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছে সূত্রগুলো। জাতীয় পার্টি আগ্রহী হলে তাদেরও রাখা হবে নির্বাচনকালীন সরকারে। আপাতত এমন হিসেব করেই এগুচ্ছে সরকার।

এদিকে আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য ৪ দফা কর্মপন্থা দেশবাসী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তুলে ধরা হবে। প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ও তাদের পরামর্শ অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য চার দফা কর্মপন্থা তৈরি করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা ও নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের আগেই চার দফা কর্মপন্থা ঘোষণা করবেন।

এ গুলো হচ্ছে-

১. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন থেকেই সংসদ সদস্যরা নিষ্ক্রিয় হবে। নিজ এলাকায় গিয়ে তারা এমপি হিসেবে কোনো সুযোগ সুবিধা পাবেন না। ব্রিটেনে নির্বাচনের সময় এমপিদের এমন নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রাখা হয়। ভারতেও একই রীতি মানা হয়। নির্বাচনের সময় এমপি হিসেবে কোনো কাজ করতে পারবেন না সংসদ সদস্যরা। জেলা প্রশাসকের কমিটি, ত্রাণ কমিটিসহ বিভিন্ন ধরনের কমিটি থেকে আপনাআপনিই তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবেন। এমপিদের কোনো ক্ষমতাই থাকবে না। এমপিরা হবেন পুরোপুরি ক্ষমতাশূন্য।

২. নির্বাচকালীন সরকার কোনো নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে না। তারা শুধুমাত্র রুটিন কাজ করবে। যে কাজগুলো না করলেই নয়, শুধু সেই কাজই করবে নির্বাচনকালীন সরকার। এই সময়ের মধ্যে কোনো ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডসহ নির্বাচনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো কর্মকান্ডের সঙ্গে কোনো মন্ত্রী যুক্ত থাকতে পারবেন না। কোনো মন্ত্রী চাইলে তার নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে তারা মন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রীয় কোনো সুযোগ সুবিধা পাবেন না। এক্ষেত্রে তারা শুধুমাত্র একজন প্রার্থী হিসেবেই তাদের দেখা হবে।

৩. প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনী এলাকা ছাড়াও একাধিক এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন। সর্বোচ্চ পাঁচটি নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রধানমন্ত্রী। তবে নির্বাচনী প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি কোনো প্রটোকল বা সুযোগ সুবিধা পাবেন না। এই সময় যে প্রশাসন থাকবে সেটি থাকবে সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন থেকেই মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে কোনো নিয়োগ, বদলি বা স্থানান্তর ইত্যাদি নির্বাচন কমিশনের সুপারিশ ছাড়া করা যাবে না।

৪. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতের জন্য বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। ড. গওহর রিজভী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছে তারা যেন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আগ্রহী বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানায়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) নীতিমালার আলোকে যেন বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়। তারা যেভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে চায় ঠিক সেভাবেই যেন সুযোগ করে দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেছেন, নির্বাচনে কোন দল অংশগ্রহণ করল বা কোন দল অংশগ্রহণ করল না সেটি মূল বিষয় নয়, মূল বিষয় হলো যেসব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে, সেসব রাজনৈতিক দলের সুযোগ সুবিধা অবাধ হচ্ছে কিনা, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারছে কিনা এবং নির্বাচনে জনগণের যে ভোটাধিকার প্রয়োগ তা কোনোরকম চাপ ছাড়াই হচ্ছে কিনা সেটি দেখা। আর এই শর্তগুলো পূরণ হলেই মনে করা হবে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। সরকার এসব বিষয়ে আন্তরিক।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162