বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৮, ২০১৮ | ২, কার্তিক, ১৪২৫
 / মতামত / বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ই-রিকুইজিশন এবং কিছু কথা
ভূপেন্দ্র নাথ রায়
Published : Tuesday, 9 October, 2018 at 4:32 PM, Update: 09.10.2018 4:41:30 PM, Count : 2044
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ই-রিকুইজিশন এবং কিছু কথা

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ই-রিকুইজিশন এবং কিছু কথা

বাংলাদেশের সকল বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্য পদের চাহিদা তৃতীয়বারের মতো ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে মাত্র ৩৮,৮০০ শূন্যপদ পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। এতে সর্বসাকুল্যে এক মাসের অধিক সময় অতিবাহিত হয়ে যায়। তবে এটুকু বোধগম্য হচ্ছে, দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শূন্যপদের চাহিদা নিতে গলদঘর্ম হয়েছে এনটিআরসিএ’র। কিন্তু প্রশ্ন হলো- ই-রিকুইজিশন কি শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে?

বিভিন্ন স্থানের নিবন্ধনধারেিদর ভাষ্যমতে এখনও প্রচুর শূন্যপদ আছে যা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা এনটিআরসিএ’র অনুরোধকে থোড়াই কেয়ার করে শূন্যপদ দেয়নি বা দিচ্ছে না। একটি দেশে এহেন দায়িত্বজ্ঞানহীনতা সচেতন নাগরিকের কাছে কতটুকু কাম্য তা সরকারের শেষ সময়ে গভীর ভাবার বিষয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যেখানে বাংলাদেশের প্রতিটি স্তরকে ডিজিটাল করার লক্ষ্যে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, সেখানে তার সহায়ক কর্মীবাহিনীর কিছু অংশ দেশকে আধুনিকায়ন করতে বড়ই নি:ষ্প্রাণ। এরা অলস-মেরুদন্ডহীনভাবে তাদের কর্মপরিচালনা করতে বদ্ধ পরিকর।  এদের দ্বারা জাতি উপকৃত না হয়ে ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি।  

নিবন্ধনধারীদের ভাষ্যমতে এবং এনটিআরসিএ’র নোটিশ থেকে বোঝা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান ই-রিকুইজিশন সর্ম্পকে স্পষ্টভাবে জ্ঞাত নয়। তাই বার বার ই-রিকুইজিশন দেওয়ার পরেও তারা সঠিকভাবে শূন্যপদের চাহিদা দিতে পারেনি। এ কারনে আবারো ৬ অক্টোবর পর্যন্ত মাধ্যমিক শিক্ষাকর্মকর্তাকে যাচাইপূর্বক তথ্য দিতে বলা হয়েছে। আবার, অনেক প্রতিষ্ঠানপ্রধান ইন্টারনেট ভিত্তিক যুগে ওয়েবসাইট ভিজিট দূরের কথা মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তাগুলোও খুলে দেখেন না। এদের দ্বারা কিভাবে একটি আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা যায়।

এদিকে নিবন্ধনধারীরা সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্যপদের চাহিদা পূরণ করার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ প্রতিষ্ঠান প্রধানদের পত্র ইস্যু এবং ক্ষুদে বার্তায় অবগত করেছেন। অনেক স্থানে নিবন্ধনধারীরা সম্পূর্ণ স্বপ্রণোদিতভাবে শূন্যপদের চাহিদা দিতে প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষাকর্মকর্তাদেরও এ বিষয়ে সাহায্য করতে অনুরোধ করেছেন। নিবন্ধিতরা মনে করেন, সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুন্যপদ পূরণে এনটিআরসিএ’র ই-রিকুজিশন বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক শিক্ষা কর্মকতাগনের নির্দেশ অনন্য ভূমিকা পালন করতো। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ই-রিকুইজিশনে যা লক্ষ্য করা গেছে  তা হচ্ছে সমন্বিত উদ্যোগের অভাব। একটি সমন্বিত উদ্যোগই পারতো শতভাগ এসব শূন্যপদ পুরণ করতে। সেখানে বার বার শূন্যপদ চাওয়ার বিরক্তিকর সংস্কৃতি অন্তত বন্ধ হতো। বাঙালি যে নিজের ভালোটা নিজেই বোঝে না তা ২০১৬ এবং ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের একাধীক ই-রিকুইজিশন থেকে সুস্পষ্ট। যেখানে শিক্ষামন্ত্রী তার ভাষণে উল্লেখ করেন যে, সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬০ হাজার শূন্যপদ আছে যা খুব শীঘ্রই নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে। কিন্তু অত্যন্ত দুখের বিষয় একাধিকবার ই-রিকুইজিশন নোটিশ প্রদান সত্বেও তা মাত্র ৩৮,৮০০। এই শূন্যপদ কতটুকু সঠিক তা যাচাই করাসহ কার কতটুকু গাফিলতি তা খতিয়ে দেখা আবশ্যক। 

কোন প্রতিষ্ঠানে দুইজন শিক্ষকের পদ পূরণ হওয়া মানে শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে দশটি ক্লাশের সুযোগ পাওয়া। অর্থাৎ, শিক্ষার্থীরা এতদিন সপ্তাহে দশটি বিষয়ভিত্তিক ক্লাস থেকে বঞ্চিত ছিল। একজন সচেতন অভিভাবক হওয়া সত্বেও প্রতিষ্ঠান প্রধানহীন স্বার্থ চরিতার্থ পূরণ করার জন্য তার শিক্ষার্থীদের এই গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস থেকে বঞ্চিত করার দায় কীভাবে এড়াতে পারে? এখনো দেখা যায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি এবং রসায়ন শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় প্রতিমাসে ভাড়ায় শিক্ষক দিয়ে ক্লাশ নিতে। একজন ভাড়ায় শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে শিখন-শিক্ষণে কতটুকু দায় নিতে পারে তা মনে হয় প্রতিষ্ঠান প্রধান মহোদয় খুব ভালো করেই জানেন। এরপরও কিভাবে তারা শূন্যপদ গোপন করে তা ভাবিয়ে তোলে। 

তিনি জানেন ভাড়া করা শিক্ষক দ্বারা প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী উন্নতি অসম্ভব। প্রতিষ্ঠানের খারাপ ফলাফলের প্রভাব এবং এর দায়ভার সম্পূর্নরুপে তার উপরই বর্তায়। ভবিষ্যতে একই রকম ফলাফল হলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত। নচেৎ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে এইসব দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকর্তারাই বাধা হয়ে দাাঁড়াবে। আমরা প্রত্যেকে নিজের স্থান থেকে সচেতন না হলে গুটিকয়েক লোকের প্রাণান্ত প্রচেষ্টা সত্বেও বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন কীভাবে বাস্তবায়িত হবে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  অত্যন্ত বিচক্ষণ। তিনি বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করলে পরিস্কার হয়ে যাবে কারা প্রকৃত শিক্ষা বিস্তারে অন্তরায়?      

ভূপেন্দ্র নাথ রায়,
অধ্যক্ষ,সাইডীরিয়্যাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ,
খানসামা, দিনাজপুর। 


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162