এই মাত্র পাওয়া : দেশে সকল পর্নো সাইট ব্লক করার নির্দেশ
সোমবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৮ | ৫, অগ্রহায়ণ, ১৪২৫
 / শেয়ার বাজার ও বাণিজ্য / এক বছরে ১০০ কোটির বেশি কলড্রপ গ্রামীণফোনের
কলড্রপের ৪৭ কোটি মিনিট ফেরত পায়নি গ্রাহক
অর্থনৈতিক রিপোর্টার।।ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Monday, 22 October, 2018 at 7:48 PM, Update: 22.10.2018 7:52:52 PM, Count : 311
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট

গত এক বছরে ১০০ কোটির বেশি কলড্রপ হয়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের। সেই হিসেবে অপারেটরটি কলড্রপে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। আজ সোমবার ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর হতে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সবগুলো মোবাইল অপারেটরের কলড্রপের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে বিটিআরসি।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এই সময়ে জিপির কলড্রপ ১০৩ কোটি ৪৩ লাখ, রবির কলড্রপ ৭৬ কোটি ১৮ লাখ, বাংলালিংকের ৩৬ কোটি ৫৪ লাখ আর টেলিটকের আনুমানিক ৬ কোটি। সক্রিয় সংযোগ বিবেচনায় গ্রামীণফোনের রয়েছে সাত কোটি সাত লাখ সংযোগ আর রবির চার কোটি ৬১ লাখ সংযোগ। অবশ্য গ্রাহক সংখ্যার তুলনায় জিপি-রবির কলড্রপে খুব একটা পার্থক্য নেই। বিটিআরসির প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলালিংকের কলড্রপ হয়েছে ৩৬ কোটি ৫৪ লাখ আর টেলিটকের আনুমানিক ৬ কোটি। যখানে বাংলালিংকের সংযোগ তিন কোটি ৩৪ লাখ এবং সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটকের রয়েছে ৩৮ লাখ ৭৩ হাজার সংযোগ।

গ্রামীণফোনের কলড্রপ নিয়ে সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশের একদিন পরেই এই প্রতিবেদন প্রকাশ করলো বিটিআরসি। রোববার সংসদে তোফায়েল আহমদ বলেন, ‘ইদানিং লক্ষ্য করলে দেখা যাবে আমরা যারা গ্রামীণফোন ব্যবহার করি, প্রত্যেকটি কলে কলড্রপ হয়। একেকটি কলে ৩, ৪, ৫ বার ড্রপ হয়। এজন্য বার বার কল করতে হয়। তিনি বলেন, রবি আছে, অন্যান্য ফোন আছে, গ্রামীণফোনের মতো এরকম অন্যায় করে ব্যবসা করে লাভ করা, এটা কিন্তু সঠিক হয় না। এটা বাস্তবসম্মত না। এ সময় তিনি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

অপারেটর বদল করে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক এসেছে রবি আজিয়াটাতে

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানিয়েছে,কলড্রপের কারণে গ্রাহকের প্রাপ্য ৪৭ দশমিক ৩২ কোটি মিনিট টকটাইম ফেরত দেয়নি গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক। বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন একজন গ্রাহকের একটির বেশি কলড্রপের প্রতিটিতে এক মিনিট করে করে টকটাইম ফেরত দেয়ার কথা থাকলেও তা অদ্যাবধি দেয়নি অপারেটরগুলো। গ্রামীণফোন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর হতে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রামীণফোনের কলড্রপ হয়েছে ২৭ কোটি ৭৭ লাখ। এরমধ্যে অপারেটরটি ফেরত দিয়েছে ১০ কোটি ৩০ লাখ মিনিট। তারা ১৭ দশমিক ৪৭ কোটি মিনিটই ফেরত দেয়নি গ্রাহককে। প্রতিষ্ঠানটির ড্রপের ধারা এখনো বিদ্যমান। রবি জানিয়েছে, তাদের একের অধিক কলড্রপ ২৪ কোটি ৪৭ লাখ। এরমধ্যে ৬ কোটি ৮২ লাখ ফেরত দিয়েছে তারা। বাকি ১৭ দশমিক ৬৫ কোটি মিনিট ফেরত দেয়নি।

বাংলালিংকের একাধিক কলড্রপ ১৭ কোটি ১৪ লাখ। তারা ফেরত দিয়েছে ৪ কোটি ৯৪ লাখ মিনিট। ১২ দশমিক ২ কোটি মিনিটই ফেরত দেয়নি তারা। সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটকের এই একের অধিক কোনো কলড্রপ নেই। তাই তাদের টকটাইম ফেরত দেয়ার কিছু ছিল না। গ্রাহকের এই পাওনা ফেরত না দেয়ার কারণে কী ব্যবস্থা নেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমন প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন জানান, গ্রাহকদের পাওনা অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। পাওনার বিষয়ে একটি বিধান রয়েছে, বিধান মতো ব্যবস্থা নেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

রোববার এক পরিসংখ্যানে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিটিআরসি)। পরিসংখ্যানে বলা হচ্ছে, পাঁচ দিনে অপারেটর বদল করার জন্য মোট আবেদন এসেছে ১০ হজার ১২২টি। এর মধ্যে সফল হয়েছে চার হাজার ১৮১টি এবং বাতিল হয়েছে পাঁচ হাজার ৮৬২টি। সবচেয়ে বেশি অপারেটর বদল করেছে গ্রামীণফোনের গ্রাহকরা। পাঁচ দিনে গ্রামীণফোনের মোট চার হাজার ৬১৬ জন গ্রাহক অপারেটর বদলের আবেদন করেছে। এর মধ্যে সফল হয়েছে এক হাজার ৮৩৪টি এবং বাতিল হয়েছে দুই হাজার ৭৮২টি। গ্রামীণফোন থেকে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক গিয়েছে রবি আজিয়াটাতে। গ্রামীণফোন থেকে রবিতে মোট আবেদন এসেছে এক হাজার ৭৭০টি। এর মধ্যে সফল হয়েছে এক হাজার ৩৫৬টি এবং বাতিল হয়েছে ৪১৪টি। গ্রামীণফোন থেকে বাংলালিংকে মোট আবেদন করেছে এক হাজার ২৪১টি। এর মধ্যে সফল হয়েছে ৪৫০টি এবং বাতিল হয়েছে ৭৯১টি। গ্রামীণফোন থেকে টেলিটকে আবেদন করেছে ৪৪ জন গ্রাহক। এর মধ্যে সফল হয়েছে ২৮টি এবং বাতিল হয়েছে ১৬টি। সবচেয়ে কম অপারেটর বদল করেছে সরকারি অপারেটর টেলিটকের গ্রাহকরা। পাঁচ দিনে মোট ৭০৯ জন গ্রাহক অপারেটর বদলের জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে সফল হয়েছে ১৩০টি এবং বাতিল হয়েছে ৫৭৯টি। সবচেয়ে বেশি অপারেটর বদলের আবেদন পেয়েছে রবি। পাঁচ দিনে রবির কাছে মোট আবেদন এসেছে পাঁচ হাজার ৮৯১টি। এর মধ্যে সফল হয়েছে দুই হাজার ৩৪১টি এবং বাতিল হয়েছে তিন হাজার ৫৫০টি। রবিতে গ্রামীণফোন থেকে এসেছে এক হাজার ৩৫৬ জন গ্রাহক, বাধাগ্রস্থ হয়েছে এক হাজার ৯৭৫ জন। বাংলালিংক থেকে এসেছে ৯২৬ জন গ্রাহক, বাধাগ্রস্থ হয়েছে এক হাজার ২৫৩ জন। টেলিটক থেকে এসেছে ৮২ জন গ্রাহক, বাধাগ্রস্থ হয়েছে ৩২২ জন। প্রথম পাঁচ দিনে এমএনপি সেবার মাধ্যমে অপারেটর বদলের চিত্র।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে রবি আজিয়াটা লিমিটেডের হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স শাহেদ আলম বলেন, ১ অক্টোবর থেকে এমএনপি সেবা চালু হওয়ার পর রবির শক্তিশালী ৪.৫ জি নেটওয়ার্কে আসতে ইচ্ছুক গ্রাহকের সংখ্যাই বেশি এবং এর জন্য আমরা আমাদের গ্রাহকদের ধন্যবাদ জানাই। যদিও এমএনপি সেবায় এখনো সেভাবে গ্রাহক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। শাহেদ আলম বলেন, সেবাটি নিতে গ্রাহকদের আগ্রহী করে তুলতে প্রচারণা আরও বাড়ানো দরকার। এখন পর্যন্ত পাওয়া হিসেবে ৫০ শতাংশ আগ্রহী গ্রাহক নানা কারণে এমএনপি সেবার মাধ্যমে অপারেটর পরিবর্তন করতে পারেননি। যেসব কারণে গ্রাহকরা এমএনপি সেবা নিতে পারছেন না সেগুলো দূর করতে আমরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে একটি লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়, এমএনপির মাধ্যমে  টেলিকমিউনিক্যাশনস সেবা নেয়ার ক্ষেত্রে আমরা গ্রাহকের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং একই সঙ্গে আমাদের নেটওয়ার্কে গ্রাহকদের স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত। সেখানে আরও বলা হয়, একটি কমপ্লায়েন্ট প্রতিষ্ঠান হিসাবে গ্রামীণফোন বিটিআরসি নির্ধারিত এমএনপির গাইডলাইন মেনে চলে সেবা দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আর তাই এমএনপির গাইডলাইনের শর্তসাপেক্ষে গ্রাহকরা এ সেবা পাবেন।

প্রসঙ্গত, অপারেটর পরিবর্তন করতে নম্বর প্রতি ফি ৫৭ টাকা ৫০ পয়সা (ভ্যাটসহ)। নম্বর ঠিক থাকলেও নিতে হবে নতুন সিম কার্ড। এ জন্য লাগবে সিম পরিবর্তন বা রিপ্লেসমেন্ট কর ১০০ টাকা। অর্থাৎ গ্রাহককে দিতে হবে ১৫৭ টাকা ৫০ পয়সা। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেবা চালু করতে গ্রাহককে আরও ১০০ টাকা বাড়তি দিতে হবে। এর সঙ্গে যোগ হবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট। নতুন সিমে এই সুবিধা চালু হতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা। সেবা গ্রহণের পরবর্তী ৯০ দিন পর্যন্ত অপারেটর পরিবর্তন করা যাবে না। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭২ দেশে এ সেবাটি চালু রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে ২০১১ সালে এবং পাকিস্তানে এই সেবা ২০০৭ সাল থেকে চালু রয়েছে।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162