এই মাত্র পাওয়া : দেশে সকল পর্নো সাইট ব্লক করার নির্দেশ
সোমবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৮ | ৫, অগ্রহায়ণ, ১৪২৫
 / জেলার খবর / রাণীশংকৈলে ফলদ বৃক্ষের প্রতিবেদন
আশরাফুল আলম, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা।।ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Monday, 5 November, 2018 at 7:40 PM, Count : 90
রাণীশংকৈলে ফলদ বৃক্ষের প্রতিবেদন

রাণীশংকৈলে ফলদ বৃক্ষের প্রতিবেদন

ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কমল কৃষ্ণ রায়ের তথ্যমতে, দেশের মোট আবাদি জমির পরিমান প্রায় ২.৫%। বর্তমানে ফল আবাদের আওতাধীন। বাংলা বছরের বৈশাখ-শ্রাবণ এই ৪ মাসে আমাদের মোট উৎপাদিত ফলের ৫৬ শতাংশ পাওয়া যায়। আর বছের বাকি ৮ মাস অর্থাৎ ভাদ্র থেকে চৈত্র মাসে মোট ফলের ৬৪ শতাংশ পাওয়া যায়। 

দেশের মোট উৎপাদিত ফলের মাত্রা ৩০ শতাংশ আসে পরিকল্পিত বাগান থেকে। আর বাকি ৭০ শতাংশ আসে বসতবাড়ীভিত্তিক ফল বাগানকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের দেশের আবহাওয়া ও মাটি ফল চাষে বেশ উপযোগী। এদেশে প্রায় ১৩০ প্রজাতির ফল উৎপাদিত হয়ে থাকে তার মধ্যে ৯টি প্রধান। শরির সুস্থ ও সবল রাখার জন্য প্রয়োজন সুষম খাদ্য। খাদ্যের ৬টি উপাদান যেমন আমিষ, শর্করা, তেল, ভিটামিন, খনিজ লবন ও পানি খাদ্যে পরিমিত পরিমানে থাকলেই তাকে সুষম খাদ্য বলে। 

এ উপাদানগুলোর মধ্যে  মানব দেহকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখা এবং রোদের আক্রমন থেকে রক্ষার জন্য ভিটামিন ও খনিজ লবন অত্যন্ত জরুরী। ভিটামিন ও খনিজ লবনের অভাবে শরীরে নানা রকম রোগের লক্ষ্যন দেখা দেয়। যেমন ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয় এবং ক্যালসিয়ামের অভাবে শরীরে হাড়ের বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। ভিটামিন ও খনিজ লবণ শরীরে খুব সামান্য পরিমান লাগলেও দেহের চাহিদা মত অবশ্যই থাকতে হবে। ভিটামিন ও খনিজ লবণের অন্যতম প্রধান উৎস ফল। শুধু খাদ্য হিসেবেই নয়। দেশের ফলগুলোর রয়েছে বৈচিত্রময় ব্যবহার। 

উদাহারণস্বরুপ বলা যায়, আমাদের জাতীয় ফল কাঠালের কথা। পাকা ফল সরাসরি খায়াতো যায়ই। পাশাপাশি কাঁচা ফল ও এর বীজ তরকারী হিসেবে খাওয়া যায়। অবশিষ্ট অংশ গবাদী পশুর উৎকৃষ্ট খাবার। প্রতিটি ফলেরই রয়েছে পুষ্টিমান ও বহুমুখী ব্যবহার। যেমন একজন মানুষের প্রতিদিনের ভিটামিন ‘সি’ এর চাহিদা পুরনের জন্য ছোট আকারের একটি পিয়ারা যথেষ্ট। প্রচলিত দেশি ফলের পাশাপাশি অপ্রচলিত ক্ষদে জাম, সফেদা, ডেউয়া, গোলাপজাম, চালতা, সাতকরা, করমচা, অড়বরই, আঁশফল, কাউফলসহ হরেক রকমের উপাদেয়, বর্ণিল াার সুস্বাদু দেশি ফল অনেকটা হারিয়ে যেতে বসেছে।   
পুষ্টিবিদদের মতে একজন মানুষের প্রতিদিন ১১৫-১২৫ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন। কিন্ত আমরা খাই মাত্র ৩৫-৪৫ গ্রাম । এর মূল কারণ হলো চাহিদার তুলনায় যোগানের স্বল্পতা। এজন্য প্রচলিত অগ্রচলিত অপ্রচলিত সব রকমের দেশি ফলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি করে বছরব্যাপী আমাদের খাদ্য তালিকায় এদের স্থান করে দিতে হবে। এতে করে যেমন পুষ্টি চাহিদা পূরণ হবে তেমনি অর্থনৈতিক ভাবেও লাভবান হওয়া যাবে। পাশাপাশি নিরাপদ ফল উৎপাদন ও খাওয়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। তাই ফলদ বৃক্ষ রোপন পক্ষে দেশি ফলের চারা রোপন ও উৎপাদনে আমাদের উদ্যোগী হতে হবে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং মানুষের আয় বাড়ার সাথে সাথে মানুষ দিনকে দিন বাজারের বিদেশি ফলের দিকে ঝুঁেক পড়ছে। এতে করে একদিকে যেমন মানুষ আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে অন্যদিকে বিভিন্ন প্রকার ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রিত ফল খেতে বাধ্য হচ্ছে। 

পুষ্টি মানের দিক থেকে দেশি ফল পিছিয়ে নেই। যেমন আহার উপযোগী প্রতি ১’শ গ্রাম আমে ৮ হাজার ৩’শ মাইক্রোগ্রাম, কাঁঠালে ৪ হাজার ৭’শ মাইক্রোগ্রাম, পেঁপেতে ৮ হাজার ১’শ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে এবং পেয়ারাতে ২২০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে যা বিদেশি ফলের তুলনায় অনেক বেশি।

ওষুধিগুণের  দিকে থেকে দেশি ফলের জুড়ি নেই। যেমন কাঁঠালের শাঁস ও বীজ বলবর্ধক, পাকা আম রাতকানা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধে মহৌষধ, কলেরা ও আমাশয়সহ পেটের পীড়া নিরাময়ে পেয়ারা ভাল কাজ করে, অরুচি ও বমি ভাব দুর কার্যকর, পাকা কলা কোষ্ঠকাঠিণ্যতা দূর করে, কাঁচা পেঁপের পেপেইন অজীর্ণ ও কিডনি রোগের কাজ করে, আনারস পিত্ত বর্ধক ও পাচক হিসেবে কাজ করে ইত্যাদি। 


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162