এই মাত্র পাওয়া : দেশে সকল পর্নো সাইট ব্লক করার নির্দেশ
সোমবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৮ | ৫, অগ্রহায়ণ, ১৪২৫
 / রাজনীতি / সংলাপ আপাতত ব্যর্থ
মাসুদ শায়ান, ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Wednesday, 7 November, 2018 at 9:35 PM, Update: 07.11.2018 9:38:17 PM, Count : 121
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

* বল এখন সরকারের কোর্টে : কামাল
* সংলাপ ফলপ্রসূ হয়নি, আন্দোলন চলবে : ফখরুল
* কোনো দাবিই মেনে নেয়নি : মান্না
* ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাব ‘তৃতীয় শক্তি’ আনার ফাঁকফোকর : কাদের
* ঐক্যফ্রন্টের দুটি প্রস্তাব সরাসরি নাকচ


জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ১৪ দলীয় জোটের মধ্যে দ্বিতীয় দফা সংলাপ কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। সংকট সমাধানে কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি দুই জোট। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশার দেখা দিয়েছে। সংলাপ ফলপ্রসূ না হওয়ায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) সংবাদ সম্মেলন করে সংলাপের বিষয়ে জাতিকে অবহিত করবেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে এদিনই একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবারের দিনটি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আপাত দৃষ্টিতে পরিস্থিতি সংকটের দিকেই যাচ্ছে। তারপরও বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তার সংবাদ সম্মেলনে যদি কোনো আশার বাণী শোনাতে পারেন, তাহলে সংকট থেকে উত্তরণের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বৃধবারের সংলাপে ১৪ দলীয় জোটের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিপরীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ১১ সদস্যের নেতৃত্ব দেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

বুধবার (৭ নভেম্বর) দ্বিতীয় দফা সংলাপ শেষে বেইলি রোডের বাসভবনে সাংবাদিকদের কাছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহবায়ক ও গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেন জানিয়েছেন, চলমান সংকটের তারা শান্তিপূর্ণ সমাধান চান। সংলাপের মাধ্যমে সমাধান না এলে সহিংস কোনো কর্মসূচির দিকে যাবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে কামাল হোসেন বলেন, আমরা আমাদের দাবিগুলো বলেছি। আমরা সব সময় শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। কিন্তু আমরা মনে করি, বল এখন সরকারের কোর্টে। ব্রিফিংয়ের সময়ে ড. কামাল হোসেন ছোট্ট একটি লিখিত বক্তব্য সাংবাদিকদের ধরিয়ে দেন। এতে নির্বাচন সামনে রেখে ৭ দফা দাবির ভিত্তিতে ১ ও ৭ নভেম্বর সংলাপ আহবান করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান তিনি। কামাল হোসেন বলেন, বৃধবারের সংলাপে আমরা ৭ দফা দাবি নিয়ে সীমিত পরিসরে আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করেছি।

ঐক্যফ্রন্টের এই প্রধান নেতার ভাষ্যে, ইতোমধ্যে সারা দেশে হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে আর কোনো গায়েবি হয়রানিমূলক মামলা দায়ের হবে না এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের আর গ্রেফতার করা হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। এ সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, সংলাপ পুরোপুরি ফলপ্রসূ হয়নি, আলোচনা ও আন্দোলন একসাথেই চলবে। তারা একগুঁয়েমি ছাড়েনি। তবে আরও আলোচনার সুযোগ রয়েছে। এদিকে সংলাপে সমঝোতার লক্ষ্যে ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে- যে কোনো মূল্যে খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনীকালীন সরকারে ঐক্যফ্রন্ট থেকে স্বরাষ্ট্রসহ চার মন্ত্রী, তফসিল ঘোষণা পেছানো এবং গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের কর্মসূচি রয়েছে, সেটি অব্যাহত থাকবে। দাবি আদায়ে আন্দোলন থেকে পিছপা হব না। তিনি বলেন, সংলাপে আমরা আলোচনা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছি, তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। গায়েবি মামলা আর হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় সংলাপ শেষে তাৎক্ষণিকভাবে সাংবাদিকদের মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আলোচনা মনঃপূত হয়নি। সংলাপে কোনো সমাধান আসেনি। আমাদের কোনো দাবিই মেনে নেয়নি। ব্রিফিংয়ে অন্যদের মধ্যে আ স ম আব্দুর রব, মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, সুব্রত চৌধুরী, মাহমুদুর রহমান মান্না উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সংলাপ শেষ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ড. কামাল হোসেনের বাসায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। বেলা সোয়া ৩টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক হয়। বৈঠকে ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, দলের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, দলের উপদেষ্টা এস এম আকরাম, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর উপস্থিত ছিলেন।

ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাব ‘তৃতীয় শক্তি’ আনার ফাঁকফোকর : কাদের

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যে প্রস্তাবগুলো দিয়েছে তা অগণতান্ত্রিক তৃতীয় শক্তিকে ক্ষমতায় আনার ফাঁকফোকর বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বুধবার দুপুরে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় সংলাপ শেষে তাৎক্ষণিকভাবে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সংসদ ভেঙে দিয়ে জানুয়ারির পর পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে ১০ সদস্যের উপদেষ্টা সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমরা এটিকে অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক তৃতীয় শক্তিকে ক্ষমতায় আনার ফাঁকফোকর বলে মনে করি। যা কোনো পক্ষের জন্য শুভ হবে না। ওবায়দুল কাদের বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের নিশ্চয়তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে কোনো গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন হয় না, তবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী নির্বাচনে থাকবে। নির্বাচনের সময় মন্ত্রী-সংসদ সদস্যরা কোনো ধরনের সরকারি সুবিধা গ্রহণ করবেন না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সংলাপ আর হবে না, তবে ‘আলোচনা আরও হতে পারে কিন্তু ‘ডায়ালগ’ শেষ।’

অন্যান্য দাবির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের বেশিরভাগ দাবিই মেনে নিতে আমাদের আপত্তি নেই। সত্যিকারের রাজবন্দিদের মুক্তির বিষয়ে আইনমন্ত্রীকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের বিষয়ে আমরা সম্মত। আমাদের মন্ত্রীরা বাড়তি কোনো সরকারি সুবিধা-সুবিধা নেবেন না। তাদের কোনো ক্ষমতা থাকবে না। অন্যদের মতোই সুবিধা ভোগ করবেন।

সত্যিকারের রাজবন্দি হলে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেও জানান কাদের। কাদের জানান, কাল সংবাদ সম্মেলনে এই কয়দিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের বিস্তারিত তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি বিষয়ে কী আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়া ও কয়েকজন সাবেক মন্ত্রীর ব্যাপারে কথা হয়েছে। তারা তাদের মুক্তি চাননি, জামিন চেয়েছেন। আমরা বলেছি, এই মামলটি করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, ক্যালেন্ডারে দেখতে দেখতে ১১ বছর পার হয়েছে। এই মামলা নিষ্পত্তি করতে ১১ বছর পার হয়েছে। তারা এ মামলা নিষ্পত্তি করতে আগ্রহী ছিলেন না। এখন আদালত যদি জামিন দেয় তাহলে আমাদের আপত্তি নেই।

ঐক্যফ্রন্টের দুটি প্রস্তাব সরাসরি নাকচ :

বুধবারের সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের দুটি দাবি নির্বাচন পেছানো ও উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের করা সরকারের নির্ধারিত মেয়াদ শেষে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন এবং ১০ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে তাদের সাত দফা দাবির বেশ কিছু দাবি মানা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারি দলের মুখপাত্র সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, নির্বাচন পিছিয়ে দিতে এটা তাদের বাহানা। কিন্তু আমরা সংবিধানের বাইরে যাব না। নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই। গত সাত দিনে যত সংলাপ হয়েছে সেসব বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, সংসদ যেদিন বসেছে সেদিন থেকে হিসেব করে সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু তারা সংলাপে প্রস্তাব দিয়েছেন নির্বাচন সংসদের মেয়াদ শেষে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে করার। কিন্তু এটা সংবিধানের বাইরে। তাই আমরা এতে সম্মত হইনি। আর একজন প্রধান উপদেষ্টাসহ ১০ জন উপদেষ্টা রেখে নির্বাচন করার প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162