এই মাত্র পাওয়া : দেশে সকল পর্নো সাইট ব্লক করার নির্দেশ
সোমবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৮ | ৫, অগ্রহায়ণ, ১৪২৫
 / জাতীয় / ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন
জাতির উদ্দেশে ভাষণে তফসিল ঘোষণা সিইসির
ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Thursday, 8 November, 2018 at 9:46 PM, Count : 90
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

>> মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৯ নভেম্বর
>> মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই ২২ নভেম্বর
> > প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর
>> প্রতীক বরাদ্দ ৩০ নভেম্বর
>> ভোটগ্রহণে ব্যবহার হবে ইভিএম
>> সেনাবাহিনী থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে আগামী ২৩ ডিসেম্বর। এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৯ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাইয়ের দিন ২২ নভেম্বর। আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ৩০ নভেম্বর।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনের এ তারিখ ঘোষণা করেন। সিইসির এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের শুরুতেই নূরুল হুদা বলেন, আমি স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। একইসঙ্গে সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছি অকুতোভয় যেসব বীর সন্তান স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, সম্ভ্রম বিসর্জন দিয়েছেন। স্মরণ করি ৫২’র ভাষাশহীদদের, যাদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মায়ের ভাষা; অর্জিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। আন্দোলন, আত্মদান আর সংগ্রামের ফসল স্বাধীন সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশ। ভাষা আন্দোলনে আত্মদানের প্রত্যয় নিয়ে স্বাধিকার আন্দোলন। স্বাধিকার আন্দোলনের প্রেরণায় মুক্তিসংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধের অর্জন।

সিইসি তার ভাষণে দেশব্যাপী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, সংসদ নির্বাচন ঘিরে সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহের জাগরণ ঘটে। তাদের বিপুল উৎসাহ, উদ্দীপনা আর উচ্ছ্বাসে গোটা দেশ উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। রাজনীতিবিদদের কৌশল প্রণয়ন, প্রার্থীদের নির্ঘুম প্রচারণা, সমর্থকদের জনসংযোগ, ভোটারদের হিসাব-নিকেশ, হাট-বাজারে মিছিল-স্লোগান, প্রশাসনে রদ-বদল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতির ঘটনা ঘটে। ভোটের দিনে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার মধ্যে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।

সিইসি বলেন, ২০১৮ সাল সেই নির্বাচনের একটি বছর। নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে। সুশীল সমাজ মতামত প্রকাশ অব্যাহত রেখেছে।

নূরুল হুদা বলেন, জাতির এমন উচ্ছ্বসিত প্রস্তুতির মধ্যখানে দাঁড়িয়ে আমি প্রত্যাশা করব, অনুরোধ করব এবং দাবি করব, প্রার্থী এবং তার সমর্থকরা নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি মেনে চলবেন। প্রত্যেক ভোটার অবাধে এবং স্বাধীন বিবেকে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন।

তিনি বলেন, ভোটার, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রার্থীর সমর্থক ও এজেন্ট যেন বিনা কারণে হয়রানির শিকার না হন বা মামলা-মোকদ্দমার সম্মুখীন না হন, তার নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কঠোর নির্দেশ থাকবে। দল ও মত নির্বিশেষে সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, ধর্ম, জাত, বর্ণ, নারী ও পুরুষভেদে সবাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। ভোট শেষে নিজ নিজ বাসস্থানে নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।

দেশের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ এ কার্যক্রম, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় আপনাদের সহযোগিতা, সাহায্য ও সমর্থন কামনা করি। জাতির আকুল আগ্রহের এ জায়গায় সবাইকে নিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে সফল হব, ইনশা আল্লাহ।

কে এম নূরুল হুদা বলেন, আমরা সংবিধান সমুন্নত রাখার জন্য শপথ নিয়েছি। সংবিধান মোতাবেক ২৮ জানুয়ারি ২০১৯ সালের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে সিইসি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, জাতীয় সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, আইন সংস্কারসহ মোট সাতটি করণীয় বিষয় স্থির করে ২০১৭ সালে আমরা একটি কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করেছিলাম।

সংলাপের মাধ্যমে ৪০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নারীনেত্রী সংগঠনের কাছে কর্মপরিকল্পনাটি তুলে ধরেছিলাম। তাদের পরামর্শ এবং সুপারিশ বিচার-বিশ্লেষণ করে করণীয় বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কতিপয় আইন ও বিধির ওপর সংশোধন এবং সংসদীয় এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্রের বাছাই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৭৫টি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের সক্ষমতা অর্জন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। প্রথমবারের মতো নির্বাচনী এজেন্টদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পর্কে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হয়েছে।

দেশ উন্নত বিশ্ব অভিমুখে এগিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, লাল-সবুজ পতাকার এক খন্ড বাংলাদেশ। চরম ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অবনতকর আর্থ-সামাজিক অবস্থান এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ভৌত অবকাঠামো নিয়ে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম। নবীন সেই দেশটি আজ উন্নতবিশ্ব অভিমুখ অভিযানে দীপ্ত পদে এগিয়ে চলছে।

কে এম নূরুল হুদা বলেন, এদেশের মানুষের প্রত্যাশা শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে, গণতন্ত্রের মজবুত ভিত্তি স্থাপনের মাধ্যমে বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সারিতে দাঁড় করাতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনে উন্নত ও গণতন্ত্রকে সমান্তরাল পথ ধরে অগ্রসর হতে হবে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বৈঠক করে নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করে ইসি। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সিইসির কক্ষে বৈঠকটি হয়। দুপুরে কমিশন সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক, এখন শুধু অপেক্ষা তফসিল ঘোষণার।

এই বৈঠক শেষে সিইসির কক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণটি রেকর্ড করা হয়। এজন্য সকাল থেকে বিটিভি, বেতারের রেকর্ডিং টিম ইসিতে অবস্থান করে।

প্রসঙ্গত, সংবিধান অনুযায়ী আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর থেকে নির্বাচনকালীন সময়ের ক্ষণ-গণনা শুরু হয়। তবে ডিসেম্বরের মধ্যেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর ছিল নির্বাচন কমিশন। এজন্য ১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতির কথা জানায় ইসি।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বিএনপির ভোট বর্জনের মধ্যে গঠিত দশম সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি, সেই সংসদের মেয়াদ আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারি শেষ হচ্ছে। ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আগের ৩০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তা অনুসারেই তফসিল ঘোষণা করছে নির্বাচন পরিচালনাকারী সাংবিধানিক সংস্থাটি।

অধিকাংশ দলের বর্জনের মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপটে একাদশ সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করে আসছেন সিইসি।

তফসিল ঘোষণার ঠিক আগে মতবিভেদ কাটাতে দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরে সংলাপ হলেও তাতে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি।

বিএনপিকে নিয়ে গঠিত কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে, সংসদ ভেঙে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাইছে। অন্যদিকে সংবিধানের বাইরে কোনোভাবেই যেতে নারাজ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

দুই দফা সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর ফের আলোচনার আশা রেখে তফসিল পেছানোর আহবান ছিল ঐক্যফ্রন্টের; কিন্তু ক্ষমতাসীন দলসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও জোটের সমর্থন পাওয়ার পর তফসিল ঘোষণার পথেই হাঁটে ইসি।

জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচনে এবার ভোট দেবেন ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ৫ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৯ জন ও নারী ৫ কোটি ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৫১ জন। সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র ৪০ হাজার ১৯৯টি। এতে ভোটকক্ষ থাকবে ২ লাখ ৬ হাজারেরও বেশি। প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে ৫টি করে ভোটকক্ষ থাকে। ভোটের অন্তত ১৫ দিন আগে কেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ করবে ইসি।

বাংলাদেশে প্রথম থেকে দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে যথাক্রমে- ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ, ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ সালের ৭ মে, ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ, ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162