সোমবার, ডিসেম্বর ১০, ২০১৮ | ২৬, অগ্রহায়ণ, ১৪২৫
 / মতামত / টার্নিং পয়েন্টে দেশ; টার্গেটে তরুণরা
মুন্নি আক্তার,গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
Published : Monday, 19 November, 2018 at 5:30 PM, Count : 302
টার্নিং পয়েন্টে দেশ; টার্গেটে তরুণরা

টার্নিং পয়েন্টে দেশ; টার্গেটে তরুণরা

জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন এক টার্নিং পয়েন্টে দাঁড়িয়ে আছে দেশ। দেশের জাতীয় রাজনীতিতে কি হতে যাচ্ছে এখন এটাই সাধারণ মানুষের দেখার অপেক্ষা। সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন একটাই প্রশ্ন কে দিবে আগামীতে দেশের নেতৃত্ব? নির্বাচন কে সামনে রেখে বড় বড় দলগু্লোও নিজেদের ভুলত্রুটিগুলো শুধরে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন ভাবে সাজিয়ে নিচ্ছে নিজেদের।

তবে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক হলো তরুণ নেতৃত্বের প্রতি গুরুত্বারোপ। প্রতিটি দলই তরুন স্টারদের দলে টানার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। আর এর কারণ হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন,”এবার দেশে ভোটাধিকার প্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর একটা বিশাল অংশ তরুণ। এই তরুনরা এবার নির্বাচনে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এমনকি তাদের সিদ্ধান্ত দেশীয় রাজনীতিতে এবার যেকোনো বড় রকমের পরিবর্তনও আনতে পারে।তাই তরুণদের হাতে রাখতেই তরুণ নেতৃত্বে গুরুত্ব দিচ্ছে দলগুলো। 

আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের ভাবনা কি ? তরুণরা কেমন নির্বাচন দেখতে চাই? নির্বাচন নিয়ে তাদের বিশ্লেষণ কেমন? নির্বাচনে তারা কেমন প্রার্থী বেছে নিবে ? এমন অনেক বিষয়ে কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতারা।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ভিপি মোঃ জুয়েল রানার কাছে জানতে চাওয়া হয় নির্বাচনে তরুণরা কেমন প্রার্থী বেছে নিবে ?  
উত্তরঃ  “তরুণদের কাজ হচ্ছে পরিবর্তন করা। এদেশের রাজনীতি চেঞ্জ হবে একটা উপায়ে যখন তরুণরা আসবে। আগের যারা আছে তারা একটু হিংসাত্নক বা বিদ্বেষমূলক রাজনীতি করে। যেটা তরুণরা কখনোই পছন্দ করে না। আমি চাই তরুণ নেতৃত্ব আসুক এবং তাদের অবশ্যই শিক্ষিত হতে হবে। এই তরুণদের যে সেলিব্রেটি হতে হবে তা নয় বরং তাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ রাজনীতিবিদ হতে হবে। যদি রাজনীতির জ্ঞান না থাকে কিন্তু সেলিব্রেটি হয় তাহলে আমি কখনোই ভোট দিবো না। যদি যোগ্য প্রার্থী না থাকে তবে ‘না’ ভোটের সুযোগ থাকলে  ‘না’ ভোট দিবো আর সেই সুযোগ না থাকলে ভোট দিতেই যাবো না।“

গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম রলিফ কে প্রশ্ন করা হয় তরুণদের আকৃষ্ট করতে কি ধরণের বিষয় গুলোর প্রতি গুরুত্ব দিবেন নেতারা?

উত্তরঃ আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণে বেকার তরুণ রয়েছে তাই প্রথমত তাদের কিভাবে কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া যায় সেই বিষয়টা সামনে আনা হবে। এবং আমরা যেহেতু প্রযুক্তির যুগে বসবাস করছি তাই,তারা কিভাবে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে উপকৃত হতে পারে সেই ব্যাপার গুলোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। এবছর এমন অনেক ভোটার আছে যারা প্রথমবার ভোট দিবে কিন্তু তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী তাদের কিভাবে উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করা যায় তার প্রতিও গুরুত্ব দিতে পারেন তারা। সর্বোপরি তরুণদের জন্য নব নব সম্ভবনার সংবাদ নিয়েই হাজির হবে দলগুলো এটাই আমি মনে করি।

দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দ্বারা পরিচালিত সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা “অগ্নিসেতু” এর সম্পাদক অরূপ দাস শ্যাম এর কাছে প্রশ্ন করা হয় “নির্বাচনে কি তৃণমূল থেকে গড়ে উঠা তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনা হচ্ছে নাকি সেলিব্রেটিদের কাধে ভর করে দলগুলো শুধু মাত্র জেতার চেষ্টা করছে?

উত্তরঃ নেতা তৈরী হয় তৃণমূল থেকে, দীর্ঘ রাজনৈতিক চড়াই উতরাই পার করে। তাই যদি  শোবিজ দুনিয়া অথবা অন্য কোথাও সেলিব্রেটি হওয়া কাউকে নেতা বানিয়ে দেওয়া হয় ,তবে সেটা রাজনীতিতে প্রকৃত তরুণ রাজনীতিবিদদের জায়গা করে দেওয়া হবে বলে আমি মনে করি না। বরং এটা দলগুলোর নির্বাচনে জেতার কৌশল মাত্র।“

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট এর সাধারণ সম্পাদক মাহাতির মুহাম্মদ এর কাছে প্রশ্ন করা হয় দলগুলো নির্বাচনকে সামনে রেখে তরুণ নেতৃত্বের প্রতি যে জোর দিচ্ছে তা আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে কী ধরনের ও কতটুকু পরিবর্তন আনতে পারে বলে আপনি মনে করেন ?

উত্তরঃ “ আমি মনে করি, তরুণদের  আসা বা না আসা তার মধ্যে দিয়ে জাতীয় রাজনীতির কোনো গুণগত পরিবর্তন ঘটবে না। কেননা জাতীয় রাজনীতির মূল যে প্রক্রিয়া তা দূর্নীতিগ্রস্থ এবং এই যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে সেটাও আসলে গায়ের জোরে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস ধন্ড। এবং এই যে সরকার টিকে আছে সেটাও অগণতান্ত্রিক উপায়ে ও ফ্যাসিবাদ কায়েম করে।এখানে সিস্টেমটা ফ্যাসিবাদের উপরে দাড়ানো। আর একটা সিস্টেম ফ্যাসিস্ট হলে সেখানে তরুন আসুক বা বৃদ্ধ আসুক তারা ফ্যাসিস্টই করবে। সুতরাং নির্বাচনে তরুণদের আসা না আসায় কোনো পার্থক্য নাই।“

দেশে যেহেতু এবার ভোটারদের একটা বড় অংশ তরুণ , তাই তারা এবার নির্বাচনে যেমন একটা বড় ভূমিকা পালন করবে, ঠিক তেমনি তারা তাদের বিবেক, বুদ্ধি দিয়ে বিচার বিবেচনা করে তবেই সিদ্ধান্ত নেবে এমনটা ধরে নেওয়া যায়। তারা এমন সিদ্ধান্ত নেবে না যেন তাদের মাতৃভূমি ক্ষতির সম্মুখিন হয়। দেশের সংকটময় মুহূর্তে যেমন তারা বার বার সঠিক সিদ্ধান্ত জাতিকে উপহার দিয়েছে, এবার নির্বাচনে তারাই যেহেতু বড় ফ্যাক্টর তাই তারা সঠিক সিদ্ধান্ত এমনটাই সবার প্রত্যাশা।
 



দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162