সোমবার, ডিসেম্বর ১০, ২০১৮ | ২৬, অগ্রহায়ণ, ১৪২৫
 / ফিচার / ফুলবাড়ীতে পাঁচ শ’ বছরের বিশাল শিমুলগাছ কালের সাক্ষী হয়ে আছে
রতি কান্ত রায়,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।।ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Monday, 3 December, 2018 at 4:27 PM, Count : 575
ফুলবাড়ীতে পাঁচ শ’ বছরের বিশাল শিমুলগাছ কালের সাক্ষী হয়ে আছে

ফুলবাড়ীতে পাঁচ শ’ বছরের বিশাল শিমুলগাছ কালের সাক্ষী হয়ে আছে

কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্ত ঘেঁষা ফুলবাড়ী উপজেলায় পাঁচ শ’ বছরের পুরনো দৃষ্টি নন্দিত বিশালাকৃতির একটি শিমুল গাছ রয়েছে। ফুলবাড়ী উপজেলা সদর থেকে ৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে কুটিচন্দ্রখানা গ্রামে এ গাছটির অবস্থান। ৮ শতাংশ জমির উপর দাঁড়িয়ে থাকা আনুমানিক ১৫০ ফুট লম্বা শিমুলগাছটির গোড়ার পরিধি ৮৬ ফুট। গাছটার কাছে গেলেই মনে হবে সৃষ্টিকর্তা যেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি ধরে রাখতে প্রকৃতিতে তৈরি করেছেন আর একটি স্মৃতিসৌধ।

স্মৃতিসৌধের মত দেখতে এ গাছটার গোড়ার পাশে দাঁড়ালে মনে হবে এ যেন পাহাড়ের পাদদেশ। গাছের গোড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি ওঠালে ছবিটি দেখে যে কেউ মনে করবে এ ছবি পাহাড়ের পাদদেশের অথবা স্মৃতিসৌধের পাশে। আশ্চর্যজনক এ গাছটা দেখার জন্য প্রতিনিয়ত কুটিচন্দ্রখানা গ্রাম পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে হাজারো প্রকৃতিপ্রেমি মানুষ। গাছটাকে নিয়ে মিডিয়ায় সম্প্রচার না হওয়ায় প্রকৃতিপ্রেমি মানুষ ও দেশি বিদেশি পর্যটকদের দেখা যাচ্ছে না। শুধু মুখে শুনে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমি স্থানীয় কিছু মানুষ। মুখে শুনে এ গাছ দেখতে আসা ঢাকার স্টুডেন্ট কেয়ার হাইস্কুলের সিনিয়র শিক্ষক আলমগীর হাসিবুর রহমান ডেসটিনি অনলাইনকে জানান, তিনি আশ্চর্যজনক বিশালাকৃতির এ গাছ দেখে অভিভূত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের অনেক স্থানে বেড়িয়েছেন কিন্তু এমন দৃষ্টিনন্দন গাছ কোথাও দেখেন নি। একই কথা জানালেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা থেকে আসা যুবক খালেদ মাসুদ, লালমনিরহাট থেকে আসা আসাদুজ্জামান, ভুরুঙ্গামারী থেকে আসা যুবক জহুরুল ইসলামসহ আরও অনেকে। 

কুটিচন্দ্রখানা গ্রামে লোকজনের কাছে শোনা গেছে, এ গাছের অলৌকিক দৃশ্যপট ও যৌবন কথা। এ গ্রামের তরুণ যুবক বয়োবৃদ্ধ সবাই জানিয়েছেন গাছটার অলৌকিক ও যৌবনকথার গল্প। গাছ সম্পর্কে নানান জন নানা কথা বললেও আসলে গাছটার বয়স কত? তা জানাতে পারেন নি কেউ। এই গ্রামের ১২০ বছর বয়সী বৃদ্ধ আফছার আলী জামালপুরি, ১১৪ বছরের বৃদ্ধা মোহিনী বালাসহ প্রবীণ আরো অনেকেই জানিয়েছেন,আমরা আগে যেমন শিমুল গাছটা দেখেছি ঠিক তেমন অবস্থায় গাছটা এখনও রয়েছে। ঝড় বাতাসে ডাল পালা না ভাঙ্গায় গাছটা এখনও অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। তাদের ধারণা মতে, শিমুলগাছটার বয়স পাঁচ শ’ বছরেরও বেশি হতে পারে। এ গাছের পাশে বসবাসকারী একাব্বর আলী (৬৪) জানান, শিমুলগাছটা আগের চেয়ে দিন দিন আরো তাজা হচ্ছে।

তিনি জানান, এ গাছে মৌমাছির চাকসহ, অসংখ্য প্রজাতির পাখপাখালির বাস। আবার গাছটি টিয়া পাখিদের যেন অভয়াশ্রম। বিকাল হলেই টিয়া পাখিসহ বিভিন্ন পাখির কলরবে যে কেউ মুগ্ধ হবে। এলাকাবাসীর অনেকে জানিয়েছেন, এ গাছের নিচ থেকে গুপ্ত ধন তুলতে গিয়ে এ গ্রামের নারিয়া মামুদ নামের এক ব্যক্তি অন্ধ হয়েছে। এখানে কথিত নাগনাগিনীর বসবাস বলেও তারা জানান। গাছের প্রকৃত জমির মালিক মৃত কোকন চন্দ্রের স্ত্রী কুসুম বালা ও তার বড় ছেলে কিরণ চন্দ্র ডেসটিনি অনলাইনকে জানান, একবার এ গাছটা তারা ১০ হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি করে বিপাকে পড়েছিলেন। কোকন চন্দ্র স্বপ্নে গাছটির অলৌকিক ক্ষমতা দেখে বাধ্য হয়ে গাছের বিক্রিত টাকা ক্রেতাকে ফেরত দেন। ওই সময় গাছের গায়ে কোপ দিলে কর্তনের স্থান দিয়ে রক্ত বের হত বলে তারা জানান। গাছটা এখন বিক্রি করবেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে মালিকরা জানান, যতদিন গাছটা নিজের থেকে মারে যাবে না ততদিন পর্যন্ত তারা গাছটা বিক্রি কিংবা গাছের ডালপালা কাটবেন না। তারা বিশালাকৃতির দৃষ্টি নন্দিত এ গাছটি সংরক্ষণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কাছে সহায়তা চেয়েছেন।   


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162