আজ সোমবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৯ মে ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
একাত্তরে চুকনগর গণহত্যা, এক নীরব সাক্ষী
তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :
Published : Tuesday, 27 December, 2016 at 12:14 AM, Count : 93
একাত্তরে চুকনগর গণহত্যা, এক নীরব সাক্ষীস্বাধীনতা যুদ্ধরে ইতিহাসে চুকনগররে গণহত্যা এক কালো অধ্যায় রচনা করেছে। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী সেনারা যে নির্মম অত্যাচার, নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, তারও এক নীরব সাক্ষী হয়ে আছে আজকের চুকনগর।
শুধু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধই নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম যেসব গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে একটি চুকনগর গণহত্যা। ১৯৭১ সালের ২০ মে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে খুলনার ডুমুিরয়ার চুকনগরে পাকিস্তানী বর্বর সেনারা নির্মম এ হত্যাকান্ডঘটায়। অতর্কিত এ হামলা চালিয়ে মুক্তিকামী ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে তারা।
ঐ দিন যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের বেশিরভাগ পুরুষ হলেও বহু নারী ও শিশুকেও হত্যা করে পাকিস্তানী সেনারা। অনেক শিশু মায়ের বুকের দুধ খাচ্ছিল, সে অবস্থায়ই চলে ঘাতকরে কামান। ঘাতকের বুলেট মায়ের বুকে বদ্ধি হয়ে শহীদ হয়েছেন মা, কিন্তু অবুঝ শিশু তখনও মায়ের স্তন মুখের মধ্যে রেখে ক্ষুধা নিবারণের ব্যর্থ চেষ্টা করেছে। এমনই কতো ঘটনা যে সেদিন ঘটেছিল, তার সঠিক ধারণা পাওয়া আজ কঠিন।
এলাকার প্রবীণেরা জানান, পাকিস্তানী বাহিনীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাংলাদেশের খুলনাসহ দক্ষীণাঞ্চলের একটি জনগোষ্ঠী জীবন বাঁচানোর তাগিদে পার্শ¦বর্তী দেশ ভারতে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। মে মাসের মাঝামাঝি সময় বৃহত্তর খুলনার সাতক্ষীরা, তালা, শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, দেবহাটা, আশাশুনী, কলারোয়া, পাইকগাছা, কয়রা, বাগেরহাট, রামপাল, মোড়লগঞ্জ, কচুয়া, শরণখোলা, মংলা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, চালনা, ফরিদপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ ভারতে যাবার উদ্দেশ্যে রওনা হন। ভারতে যাবার জন্যে তারা ট্রানজিট হিসেবে বেছে নেন ডুমুরিয়ার চুকনগরকে।
১৯ মে রাতে সবাই চুকনগরে এসে পৌঁছান। পরদিন সকালে সাতক্ষীরা এবং কলারোয়ার বিভিন্ন সীমানন্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করার জন্য চুকনগরে সমাবেত হন তারা। সেখানে কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। হাজার হাজার মানুষ চুকনগরের পোতাখোলা বিল, কাঁচাবাজার চাঁদনী, ফুটবল মাঠ, কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন শশ্মানে আশ্রয় নেন। সারারাত নির্ঘুম রাত কাটে শরর্ণাথী হতে যাওয়া এসব মানুষের। সকালে বিশ্রাম সেরে ভাত রান্না শুরু করেন তারা। কেউ চিড়ে-মুড়ি ও অন্যান্য শুকনো খাবার দিয়ে শরীরে চলার শক্তি সঞ্চার করে নিচ্ছিলেন।
কিন্তু ২০মে সকাল ১০টার দিকে তিনটি ট্রাকে করে হঠাৎ পাকিস্তানী সেনারা চুকনগর বাজারের ঝাউতলায় (তৎকালীন পাতখোলা) এসে থামে। তাদের সঙ্গে ছিল হালকা মেশিনগান ও সেমি-অটোমেটিক রাইফেল। সাদা পোশাকে মুখঢাকা লোকজনও আসে। দুপুর ৩টা পর্যন্ত তারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা করতে থাকে। হত্যাযজ্ঞ থেকে বাঁচার আশায় অনেকে নদীতে লাফিয়ে পড়েন। তাদের অনেকেই ডুবে মারা যান। লাশের গন্ধে ভারি হয়ে যায় চুকনগর ও এর আশপাশের বাতাস। মাঠে, ক্ষেতে, খালে-বিলে পড়ে থাকে লাশ আর লাশ।
বর্বর পাকিস্তানীদের নির্মম হত্যাযজ্ঞ শেষে এসব স্থান থেকে লাশ নিয়ে নদীতে ফেলার কাজ শুরু করেন স্থানীয়রা। যা চুকনগরের ফসলি জমিগুলোয় আজও পাওয়া যায় সেদিনের শহীদদের হাড়গোড়, তাদের শরীরে থাকা বিভিন্ন অলঙ্কার। চুকনগরে সেদিন কতোলোক জমায়েত হয়েছিলেন তার কোন পরিসংখ্যান নেই। অনেকের ধারণা লক্ষাধিক।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির খুলনা জেলা সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম বলেন, চুকনগর গণহত্যা ছিল বাংলাদেশে পাকিস্তানী হানাদারদের করা গণহত্যার এক বৃহত্তম ঘটনা। তিনি জানান, এ স্থানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়েছে। এদিকে চুকনগর গণহত্যা দিবস উপলক্ষে, চুকনগর গণহত্যা’ ৭১ স্মৃতিরক্ষা পরিষদের উদ্যোগে বধ্যভূিমতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে গণহত্যায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।
কিভাবে যাওয়া যায়:
চুকনগর বাজার হতে ২ কি. মি. পূর্বে বধ্যভূমি অবস্থিত। এখানে মোটর সাইকেল, ভ্যান, রিক্সা, প্রাইভেট, ইজি বাইক, মাহন্দ্রো অথবা পায়ে হেটে যাওয়া যায়।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
সম্পাদক কর্তৃক ১৪৬ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (৪র্থ তলা), ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত ও ডেসটিনি প্রিন্টিং প্রেস, ১৩/২/এ কেএম দাস লেন, গোপীবাগ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
যোগাযোগ : আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর, ঢাকা-১০০০।
ফোন : ৭১৭৪৭০২, ৯৫৫৯৯৪৯, ৯৫৫৯০০৬, বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০, email: ddaddtoday@gmail.com ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com, e-mail:destinyout@yahoo.com, dainikdestiny@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft