আজ রবিবার, ৯ মাঘ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, ২২ জানুয়ারী ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
দেশ স্বাধীনের সনদ পেলেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি আব্দুল হামিদ
গাইবান্ধ জেলা প্রতিনিধি :
Published : Wednesday, 28 December, 2016 at 1:40 AM, Count : 31
দেশ স্বাধীনের সনদ পেলেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি আব্দুল হামিদ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে টগবগে একজন যুবক ছিলেন গাইবান্ধার আব্দুল হামিদ। সেই সময় দেশটা ছিল উত্তাল, বাংলাকে নিজের রুপ ফিরিয়ে দেওয়ার নেশায় নিজের রক্তের বিনিময় হলেও মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহণ করে ছিলেন আব্দুল হামিদ। পাকিস্থানীদের শোষণ আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছিলেন এদেশের আপাময় জনগণ। ঠিক তখনেই আব্দুল হামিদ বাড়ীতে বসে না থেকে দেশকে স্বাধীন করার জন্য নেমে পড়েন মহান মুক্তিযুদ্ধে।
ফলে দেশ স্বাধীন হয়েছে, জনগণ পেয়েছে স্বাধীনতার সুখ। কিন্তু আব্দুল হামিদ দেশ স্বাধীনতার সংগ্রামের সনদ প্রাপ্ত হলেও আজ পর্যন্ত তিনি পাননি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি। আব্দুল হামিদ জীবন বাজি রেখে ১৯৭১-এ দেশ স্বাধীন করলেও জীবন যুদ্ধে তিনি আজ পরাজিত এক সৈনিক। বর্তমানে তিনি দু’নয়নের দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে অন্ধত্ব বরণ করে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতন জীবন যাপন করছেন। দেশ স্বাধীনের ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও আব্দুল হামিদ কোন সরকারী সুযোগ সবিধা কিংবা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি।
গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের জয়েনপুর গ্রামের মৃত্যু মুনছুর আলীর পুত্র আব্দুল হামিদ। তার বয়স প্রায় ৬৭ বছর। আব্দুল হামিদ জানান ১৯৬৯ সালে মুজিববাদ ছাত্রলীগের সাদুল্যাপুর থানার সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে ঢাকায় রেসকোর্স ময়দানে সম্মেলনে যোগদেন। সম্মেলন শেষে নিজ জেলা গাইবান্ধার বিভিন্ন আন্দোলনে অংশগ্রহন করে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন । তিনি বলেন ছাত্র আন্দোলন অব্যাহত রেখে ১৯৭১ সালে জাতির পিতা শেখ মজিবুর রহমানের আহবানে দেশ স্বাধীনের জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
১১নং সেক্টরে সুবেদার আলতাফ হোসেনের নেতৃত্বে তৎকালিন জেলা ছাত্রলীগের নেতা নাজমুল আরেফিন তারেকসহ  অন্যান্যদের সাথে তিনি পীরগঞ্জ উপজেলার মাদারগঞ্জ এলাকায় সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এরপরে পাকিস্থানী বাহিনী পীরগঞ্জের আংড়ার ব্রীজে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমন করলে তিনি ও তার সহযোগী আবেদ আলীকে সাথে নিয়ে ওই যুদ্ধে ঝাঁপিযে পড়ে তাদের প্রতিহত করেন। এ কারণে তিনি তৎকালিন স্বরাষ্ট সচিব তসলিম আহম্মেদ ও আঞ্চলিক অধিনায়ক মনিরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত একটি স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদ প্রাপ্ত হন।
যার নং-২০২৩১। এখন পর্যন্ত  সরকারী কোন সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় স্ত্রী ছালেহা বেগমসহ ৪ ছেলে ও ৪ মেয়েকে নিয়ে বর্তমানে তিনি মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সরকারী সুবিধা পেতে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তিনি আবেদন করেও এখন পর্যন্ত কোন ভাতা কিংবা সুযোগ-সুবিধা পাননি। জীবন চলার পথে তিনি সাদুল্যাপুর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে দলিল লেখক হিসেবে কাজ করে সংসার চালিয়ে আসলেও ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে দু’নয়নের দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে অন্ধত্ব বরণ করেন। অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিতে না পারায় অবশেষে চোখের দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলে ঘরের কোনে বসে দিন অতিবাহিত করছেন। দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করে শুধুই পেয়েছেন একটি সার্টিফিকেট। এটাই তার জীবনের শুধু স্মৃতি হয়ে আছে !
সাদুল্যাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড মেছের আলী সরকার বলেন আব্দুল হামিদ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে এ বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে স্থানীয় বীরমুক্তিযোদ্ধো আব্দুল জলিল আজমী জানান আব্দুল হামিদ স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব বলেন আব্দুল হামিদের বিষয়টি যাচাই-বাচাই করে দেখা হবে।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
সম্পাদক কর্তৃক ১৪৬ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (৪র্থ তলা), ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত ও ডেসটিনি প্রিন্টিং প্রেস
১৩/২/এ কেএম দাস লেন, গোপীবাগ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ : আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর, ঢাকা-১০০০।
ফোন : ৭১৭৪৭০২, ৯৫৫৯৯৪৯, ৯৫৫৯০০৬, বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০, email: ddaddtoday@gmail.com ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com, e-mail:destinyout@yahoo.com, dainikdestiny@gmail.com, destiny24news@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft