আজ রবিবার, ৭ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
সবার আগে পাঠ্যপুস্তকের মান বাড়াতে হবে
Published : Sunday, 8 January, 2017 at 1:04 AM, Update: 08.01.2017 1:19:13 AM, Count : 96
সবার আগে পাঠ্যপুস্তকের মান বাড়াতে হবেঢাকা : শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে বর্তমান সরকার। প্রতি বছর জানুয়ারির প্রথম দিন প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে পাঠ্যপুস্তক দিবস পালন করা হচ্ছে। এ বছরও পহেলা জানুয়ারি পাঠ্যপুস্তক দিবস পালন করা হয়েছে। নতুন বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
বছরের প্রথম দিনেই সারা দেশে প্রায় ৩৬ কোটি ২২ লাখ বই ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। এ এক বিরাট কর্মযজ্ঞ। এর সুফল তখনই পাওয়া যাবে যখন পাঠ্যপুস্তকের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকবে না। দুঃখজনক হচ্ছে, পাঠ্যপুস্তকের মান নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে। কোমলমতি শিশুদের পাঠ্যপুস্তক ভুল-ভ্রান্তিতে ভরা। তাহলে তারা কি শিখবে? আর শিক্ষার মান রক্ষাই বা হবে কী করে?  
এ সংক্রান্ত খবরে ওঠে এসেছে কিছু ভুলের কথা। তৃতীয় শ্রেণির ‘হিন্দু শিক্ষা’ বইয়ের পেছনে লেখা দউড় হড়ঃ ঐবধৎঃ অহুনড়ফুদ  এটা আসলে হবে দউড় হড়ঃ ঐঁৎঃ অহুনড়ফুদ অর্থাৎ কারও ক্ষতি করো না। আর তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ের কুসুমকুমারী দাশের বিখ্যাত কবিতা ‘আদর্শ ছেলে’র মূল লাইনটি হলো এরকম- ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে’র’ সেখানে উল্টো করে লেখা হয়েছে ‘আমাদের দেশে সেই ছেলে কবে হবে?/ কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?’  অর্থাৎ কুসুম কুমারী দাশের রচনায় ‘আমাদের দেশে’র পর ‘হবে’ লেখা হলেও বিকৃত লাইনটিতে এসেছে ‘সেই’। আর ‘হবে’ শব্দটিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে একেবারে শেষে। ফলে কবি যে ‘ছন্দ’ ‘অন্ত্যমিল’ মাথায় রেখে কবিতার লাইনটি লিখেছেন, তা দৃশ্যতই নড়বড়ে হয়ে গেছে।
এ ধরনের ভুল আরো রয়ে গেছে। বিতর্ক দেখা দিয়েছে প্রথম শ্রেণির বইয়ে ও-তে ওড়না, কিংবা ছাগলের গাছে ওঠা প্রসঙ্গেও। রচনার মান নিয়েও প্রশ্ন আছে। রচয়িতাদের ব্যাপারেও রয়েছে অভিযোগ। কোনো রকমে দায়সারা গোছের কাজ করার নমুনাও যত্রতত্র। ঘুরে ফিরে পাঠ্যপুস্তকের রচয়িতা ও সংকলক গুটি কয়েকজনই। এখানেও এক সিন্ডিকেট। বাণিজ্যই যার লক্ষ্য। ছাপার মান নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।
 এছাড়া বই বাঁধাই এবং আঠা লাগানোর ক্ষেত্রেও

‌যত্নশীল হতে হবে। মনে রাখতে হবে কমবয়সী শিক্ষার্থীরা এসব পাঠ্যপুস্তক ব্যবহার করে। কয়েকমাস যেতে না যেতেই যদি বই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে তাহলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কোনো শেষ থাকে না। বিনামূল্যের এসব বই বাজারে কিনতেও পাওয়া যায় না। পাওয়ার কথাও নয়। তাই কাগজ, ছাপা, বাঁধাইসহ এবং বিষয়বস্তুসহ সবকিছুতে যেন বইয়ের মান ঠিক থাকে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। গোড়ায় গলদ রেখে মান সম্পন্ন শিক্ষা বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। এ জন্য শিক্ষার মান বাড়াতে হলে সবার আগে পাঠ্যপুস্তকের মান বাড়াতে হবে।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
সম্পাদক কর্তৃক ১৪৬ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (৪র্থ তলা), ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত ও ডেসটিনি প্রিন্টিং প্রেস
১৩/২/এ কেএম দাস লেন, গোপীবাগ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ : আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর, ঢাকা-১০০০।
ফোন : ৭১৭৪৭০২, ৯৫৫৯৯৪৯, ৯৫৫৯০০৬, বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০, email: ddaddtoday@gmail.com ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com, e-mail:destinyout@yahoo.com, dainikdestiny@gmail.com, destiny24news@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft