আজ রবিবার, ৭ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
সরকারের সফলতার তিন বছর বিশ্বে উন্নয়নের রোল  মডেল বাংলাদেশ
কাঞ্চন কুমার দে
Published : Thursday, 12 January, 2017 at 10:08 PM, Count : 63
সরকারের সফলতার তিন বছর বিশ্বে উন্নয়নের রোল  মডেল বাংলাদেশআজ ১২ জানুয়ারি। বাংলাাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। তিন বছর আগে ২০১৪ সালের এদিন মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে। আজ সরকারের তিন বছর পূর্তি। বিভিন্ন প্রতিকূলতা, বিএনপি-জামায়াত জোটের দেশব্যাপী লাগাতার নৈরাজ্য-বিশৃঙ্খলা আর অগণিত নিরীহ মানুষ হত্যা এবং ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের পরও শেখ হাসিনার সরকার সফলতার তিন বছর পার করেছে। আর তা সম্ভব হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরলস ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও একনিষ্ঠার কারণে, যাতে ছিল নেত্রী শেখ হাসিনার নিখাদ দেশপ্রেম ও দেশের মানুষের প্রতি অগাধ ভালোবাসা। বর্তমানে বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুরি অপবাদ মুছে ফেলে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দেশকে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড় করিয়েছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। এ পথ চলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনেকবার মৃত্যুর ঝুঁকি পর্যন্ত নিতে হয়েছে। সর্বশেষ তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল সম্প্রতি বিমানে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদান করতে যাওয়ার সময়। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমত এবং বাংলাদেশের মানুষের দোয়া ও অকৃত্রিম ভালবাসার কারণে তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দেশের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট বিপুল দুই-তৃতীয়ংশের অনেক বেশি আসন নিয়ে বিজয়ী হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩৪টি, জাতীয় পার্টি ৩৪টি এবং আওয়ামী লীগের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি ৬ এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ পাঁচটি আসনে বিজয়ী হয়ে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি সরকার গঠন করে।
এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বিএনপি-জামায়াত জোট। দেশজুড়ে ভয়াল নাশকতা, ধ্বংসযজ্ঞ, নৃশংসভাবে মানুষ হত্যা ও লাগাতার অবরোধ-হরতালের নামে ব্যাপক সহিংসতা চালিয়ে পুরো দেশকেই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয় তারা। দৃঢ়তার সাথে এসব মোকাবেলা করে শান্তি ফিরিয়ে আনা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও দৃঢ় নেতৃত্ব সেই চ্যলেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করেন।
নানা কারণেই সরকারের গত তিন বছর ছিল ঘটনাবহুল। দেশীয়-আন্তর্জাতিক রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে এই তিনটি বছরে শীর্ষস্থানীয় যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় ঘোষিত এবং কার্যকর হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে শেখ হাসিনার প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। সুষ্ঠুভাবে শেষ হয়েছে জেলা পরিষদ নির্বাচন।
সরকারের বিগত তিন বছরে অন্যতম বড় অর্জন হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গ্লোবাল সাউথ সাউথ ডেভেলপমেন্ট এক্সপো-২০১৪ এর ভিশনারী অ্যাওয়ার্ড পুরস্কৃত অর্জন। এ ছাড়াও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশন (সিপিএ) ও ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিও) নির্বাচনে বাংলাদেশের দুই প্রার্থী স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর বিজয়। ১৮৮টি দেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন।
ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল স্যাটেলাইট অর্গানাইজেশনের মহাপরিচালক এবং হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল ও ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের নির্বাচনেও বিজয়ী হয় বাংলাদেশ।
গত বছর ছিল অর্জনের বছর। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন ও তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য জাতিসংঘ ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’ লাভ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৫ সালে জাতিসংঘের ৭০তম অধিবেশনে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেয়া হয়েছে।
নোবেল পুরস্কার যে ছয়টি বিষয়ে দেয়া হয়, সেখানে পরিবেশ নেই। তবে জাতিসংঘের পরিবেশ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ আখ্যা পেয়ে থাকে পরিবেশের নোবেল হিসেবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছর পরিবেশ বিষয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ সেই পুরস্কার অর্জন করেন।
শুধু তাই নয়, গত ২০১৫ ভারতের সাথে স্থল সীমানাচুক্তি বাস্তবায়ন ছিল এই সরকারের অন্যতম অর্জন। এর আগে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত মামলায়ও বিজয়ী হয় বাংলাদেশ । শিক্ষা, বিদ্যুৎ, আইসিটি, কৃষি, অর্থনীতি সবক্ষেত্রেই সরকারের অগ্রযাত্রা গতবছরও অব্যাহত থাকে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও স্বাস্থমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, টানা দ্বিতীযবার সরকার গঠনের পর উন্নয়ন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত, বিশ্ব মন্দার মধ্যেও দেশের অর্থনীতিকে অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছেন।।
তিনি বলেন, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিসহ বিশ্ব মন্দা সত্ত্বেও সামষ্টিক অর্থনীতির প্রতিটি সূচক ইতিবাচক । ছয় শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও রফতানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সরকাররর দুই বছর মেয়াদের শুধু একবছরই ১৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রাকে ‘একটি বিশাল অর্জন’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
বহুল আলোচিত পদ্মা সেতুর কাজ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ২০১৮ সালের মধ্যেই পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত শুরু হবে, খুলে যাবে স্বপ্নের দুয়ার।
দেশের অর্থনীতিবিদরা মনে করেন সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দুর্নীতি-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের তকমা মুছে ফেলে সারাবিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। কৃষি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতিসহ সার্বিক প্রেক্ষাপটে অনেক প্রত্যাশার বীজও বনে গেছে সরকারের টানা দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম তিন বছর।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
সম্পাদক কর্তৃক ১৪৬ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (৪র্থ তলা), ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত ও ডেসটিনি প্রিন্টিং প্রেস
১৩/২/এ কেএম দাস লেন, গোপীবাগ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ : আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর, ঢাকা-১০০০।
ফোন : ৭১৭৪৭০২, ৯৫৫৯৯৪৯, ৯৫৫৯০০৬, বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০, email: ddaddtoday@gmail.com ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com, e-mail:destinyout@yahoo.com, dainikdestiny@gmail.com, destiny24news@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft