আজ সোমবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৯ মে ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে  একমত বাংলাদেশ-মিয়ানমার
Published : Thursday, 12 January, 2017 at 10:08 PM, Count : 90
ডেসটিনি রিপোর্ট
রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে  একমত বাংলাদেশ-মিয়ানমাররোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার একমত বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র। গতকাল বুধবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশ সফররত মিয়ানমারের বিশেষ দূত কিয়াও তিন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ও পররাষ্ট্র সচিব শহীদুলের হকের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সূত্র। সূত্র জানায়, বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারকে সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস পূর্ণ ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে আহ্বান জানানো হয়েছে। সূত্র আরো জানায়, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া শুরু করতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া নতুন করে আর কোনো রোহিঙ্গা যেন বাংলাদেশে না আসে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। বৈঠকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার আগ্রহ জানানো হলেও কবে, কীভাবে এ প্রক্রিয়া শুরু হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট করে ধারণা দেয়নি মিয়ানমার। এ বিষয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত অক্টোবরে সশস্ত্র বাহিনীর অভিযানের পর বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ শুরু হলে সমস্যাটি নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এতে সাড়া দেয়নি মিয়ানমার। রাখাইনের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত ঢাকায় আলোচনার জন্য বিশেষ দূত পাঠিয়েছে মিয়ানমার। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের সাম্প্রতিক অবস্থাসহ দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী গণতান্ত্রিক নেত্রী সুচি তার বিশেষ দূতকে ঢাকায় পাঠিয়েছেন। মাস তিনেক আগে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিয়ে নতুন করে সমস্যা শুরুর পর বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ বারবার মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে চাইলেও সাড়া দেয়নি মিয়ানমার। অথচ রাখাইনের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চলার সময় নভেম্বরে চীনের সীমান্তবর্তী শান প্রদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা প্রাণ হারানোর পরপরই চীনের সঙ্গে আলোচনায় বসে মিয়ানমার। রোহিঙ্গাদের নিয়ে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ তিন মাস পর এখন বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় বসছে মিয়ানমার। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে এবং রাখাইনের লোকজনের সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য মিয়ানমারকে চাপ দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, মিয়ানমার যেহেতু আন্তর্জাতিক চাপের কারণে আলোচনায় বসছে, তাই দেশটির আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। ফলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান নিয়ে সংশয় থেকে যায়। মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সুচির বিশেষ দূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিউ তিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। গত অক্টোবরে রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর সশস্ত্র বাহিনীর নিধনযজ্ঞ শুরুর পর জাতিসংঘের হিসেবে নতুন করে অনুপ্রবেশ করেছে আরো প্রায় ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা। গত কয়েক বছরের নিয়মিত বিরতিতে নিকট প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে এ ধরনের অনুপ্রবেশ বাংলাদেশকে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন করে তুলছে। সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য মিয়ানমারকে মূলে যেতে হবে। অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে হবে। আলোচনায় মিয়ানমারকে এ বার্তাই দেবে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিয়ানমাওে নিপীড়নের কারনে এর আগে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিচ্ছেনা। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রায় ৩৩ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে প্রত্যাবাসনের কাজটি শুরু করছে না মিয়ানমার। উল্টো নিয়মিত বিরতিতে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের ফলে সেখানকার লোকজন এ দেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে। ঢাকা ও ইয়াঙ্গুনে কর্মরত কয়েকজন কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে ধারণা পাওয়া গেছে, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের জন্য মিয়ানমারের সরকার, সেনাবাহিনী, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের একসঙ্গে কাজ করাটা জরুরি। তাদের মতে, ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমার যে দুটি চুক্তিতে রাজি হয়েছিল, দেশটিকে তা মেনে চলতে মনে করিয়ে দেওয়া উচিত। ওই দুই চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের স্পষ্টভাবেই মিয়ানমারের বৈধ নাগরিক হিসেবে উলেখ করা হয়েছে। কাজেই রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানের জন্য অর্থাৎ তাদের নাগরিকত্ব দিতে হলে মিয়ানমারের ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন জরুরি।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
সম্পাদক কর্তৃক ১৪৬ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (৪র্থ তলা), ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত ও ডেসটিনি প্রিন্টিং প্রেস, ১৩/২/এ কেএম দাস লেন, গোপীবাগ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
যোগাযোগ : আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর, ঢাকা-১০০০।
ফোন : ৭১৭৪৭০২, ৯৫৫৯৯৪৯, ৯৫৫৯০০৬, বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০, email: ddaddtoday@gmail.com ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com, e-mail:destinyout@yahoo.com, dainikdestiny@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft