আজ রবিবার, ৯ মাঘ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, ২২ জানুয়ারী ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
অতুলনীয় শিক্ষাব্যবস্থায় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি
জুয়েল হালদার
Published : Thursday, 12 January, 2017 at 10:08 PM, Count : 23
অতুলনীয় শিক্ষাব্যবস্থায় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিউচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিগত চার বছরে ১০ লাখ শিক্ষার্থী আজ ৩০ লাখে উন্নীত হয়েছে। এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর উল্লেখযোগ্য অংশই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যুগোপযোগী প্রযুক্তি-প্রকৌশল ও কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণ করছে। তন্মধ্যে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি (ইইউ) অন্যতম। দীর্ঘ এক যুগের পথচলায় বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি উচ্চশিক্ষার জ্ঞান বিতরণ করে চলেছে সর্বত্র। তিনটি অনুষদ চারটি হয়। চারটি বিভাগ পাঁচটিতে দাঁড়ায়। ছাত্রসংখ্যা এক-দুই শ থেকে প্রায় চার হাজারে উন্নীত হয়। অভিজ্ঞ শিক্ষকম-লী, ডিজিটাল লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব, ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবস্থা, আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা উপকরণ, মানসম্মত শিক্ষার সকল ও সফল ব্যবস্থাও প্রস্তুত। গতকাল বুধবার রাজধানীর ধানম-িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ ইমতিয়াজের সাথে আলাপকালে এ তথ্য জানা যায়। ইমতিয়াজ আরো জানান, এ বছরের মধ্যে আশুলিয়ায় নিজস্ব ক্যাম্পাসে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির যাবতীয় কার্যক্রম স্থানান্তরিত করা হবে। ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি সূত্রে আরো জানা যায়, কিছু আলাদা বিশেষত্বের কারণে এখানে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাগ্রহণে আগ্রহী হয়। যেমন ১. ইইউতে শিক্ষাব্যয় সাধ্যানুযায়ী, তাই মধ্যবিত্তরা সহজেই শিক্ষার সুযোগ পায়। ২. এখানে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। ৩. আছে উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে তুলনীয় শিক্ষা কার্যক্রম, যা বহি:বিশ্বে স্বীকৃত। ৪. নেয়া হয় ঞবধপযরহম ঊভভরপরবহপু জধঃরহম (ঞঊজ) অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে প্রত্যেক সেমিস্টারে প্রত্যেক কোর্স শিক্ষকের মূল্যায়ন। ৫. বাস্তব জীবনের পাথেয় হিসেবে কো-কারিকুলাম কার্যক্রমের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। ৬. রয়েছে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গাইড হিসেবে ক্যারিয়ার সার্ভিস ও ইন্টারন্যাশনাল অফিস ৭. বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় সকল বিভাগেই সময় মত ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। শুধু সংখ্যায় নয়, গুণে ও মানে এগিয়ে যাচ্ছে এ বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরোত্তর। গবেষণার জন্য রয়েছে একাধিক সেল। আর এখানকার আলোকিত শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারে সফলতার সাথে অবদান রেখে চলেছে দেশে বিদেশে, সর্বক্ষেত্রে।
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র ধানম-িতে রয়েছে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি (ইইউ) এর বহুতলা ভবনবিশিষ্ট ক্যাম্পাস। এ ছাড়া আশুলিয়ায় প্রায় ২০ বিঘা জায়গার ওপর নান্দনিক স্থায়ী ক্যাম্পাসের কাজ চলছে ত্বরিত গতিতে। এখানে থাকবে একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, কেন্দ্রীয় মসজিদ, শহীদ মিনার, খেলার মাঠ, মিলনায়তন, ক্লিনিক, লেক, ছাত্রাবাস, ছাত্রী হোস্টেল, শিক্ষক-কর্মকর্তা আবাসিক এলাকা, যাতায়াতের জন্য নিজস্ব পরিবহন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ হাজার বছরের ইতিহাস নিয়ে যুগের পর যুগ বিশ্বপরিক্রমায় অবদান রেখে চলেছে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা আন্দোলন পর্যন্ত। সর্বত্র বিজিত জাতির এই ভূখ-ে জন্ম নিয়েছে বিশ্ব সভায় স্থান নেয়া ব্যক্তিবর্গ। আর শিক্ষায় অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ সেই ১৯১৩ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে কড়া নেড়ে গিয়েছেন বিশ্ব সেরা নোবেলটি নিয়ে তা শুধু এই জাতির জয়ের নয় বরং সামনে আরো অনেক দুর যাওয়ার যেন এক দৃঢ় প্রত্যয়। সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে যারা মাঠে, হাটে সর্বত্র প্রতিবাদী হয়েছিলেন তারাও শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত। যেমন, কাজী নজরুল ইসলাম ও আরো অনেক প্রতিবাদমুখর বীররা। 
এমন করেই ১৯৭১ আসল। হারালাম সূর্যসৈনিকদের, তবে মানচিত্র এসেছে চির বিজয়ের। আর সেই ভূখ-টিতে শিক্ষার আলো সর্বত্র ছড়ানোর জন্য কিছু সংখ্যক সম্মানিত শিক্ষাবিদ প্রতিষ্ঠা করেছেন বিদ্যানিকেতন, যা অবদান রেখে চলেছে জাতি গঠনে। এমন একটি নাম ও ঠিকানা হচ্ছে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি (ইইউ)। জনসংখ্যার আধিক্যতায় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল সেই অনেক আগেই। তবে তা বোঝার সাথে সাথেই বাংলাদেশ সরকার একটুও দেরি করেনি। তারই ধারাবাহিকতায় প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট, ১৯৯২ করা হল। বেশ ক’জন স্বাপ্নিক, দেশপ্রেমিক, শিক্ষাবিদ ২০০৩ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সম্পূর্ণ স্বীকৃতি নিয়েই মহান দায়িত্ব পালনে নিজেদের সঁপে দেন।
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় চার বছরের স্নাতক ডিগ্রির মাধ্যমে ও স্নœাতকোত্তর ডিগ্রি ১ বছর থেকে দুই বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে বিবিএ, ইংরেজী, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, এলএলবি, ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সান্ধ্যকালীন)। স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে এমবিএ (সান্ধ্যকালীন), ইএমবিএ (সান্ধ্যকালীন), ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড লিটারেচার (সান্ধ্যকালীন), ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং (সান্ধ্যকালীন), এলএলএম। ভর্তি কার্যক্রম চলে বছরে তিনটি সেমিস্টারে, ¯িপ্রং (জানুয়ারি-এপ্রিল), সামার (মে-আগস্ট), ফল (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)। সে অনুযায়ী এখন চলছে ফল সেমিস্টারে ভর্তি কার্যক্রম।
শিক্ষাই জাতির মেরুদ- এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের একমাত্র উপায়। এক্ষেত্রে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। শিক্ষা ও গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় বলে ইতোমধ্যে পরিচিতি লাভ করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। যে যে বিষয়গুলো সবচেয়ে স্বাতন্ত্র্য তা হলো : ডিজিটাল লাইব্রেরি; কম্পিউটার ল্যাব; ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবস্থা; আধুনিক প্রযুক্তি ভিত্তিক শিক্ষা উপকরণ; শিক্ষাব্যয় সাধ্যের মধ্যে; ফুলটাইম অভিজ্ঞ, নিবেদিত ও পিএইচডি ডিগ্রীধারী শিক্ষকম-লী; বিশ্বের ১৯টি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে পারস্পরিক সহযোগিতা চুক্তি; দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ক্রেডিট ট্রান্সফার ও ইন্টার্নশীপের সুযোগ; কো-কারিকুলাম কার্যক্রমের জন্য ১৬টি ক্লাব; শিক্ষার্থীদের মেধার সম্মাননা হিসেবে ভিসি ও ডীন সম্মান সার্টিফিকেট। 
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি শুধু এশিয়া মহাদেশে নয় গোটা বিশ্বে শিক্ষায় অবদান রেখে কাক্সিক্ষত স্থানে আসীন হবে এবং আলোকিত মানুষ তৈরির দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাবে এটিই জ্ঞানীমহল ও দেশবাসীর কামনা।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
সম্পাদক কর্তৃক ১৪৬ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (৪র্থ তলা), ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত ও ডেসটিনি প্রিন্টিং প্রেস
১৩/২/এ কেএম দাস লেন, গোপীবাগ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ : আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর, ঢাকা-১০০০।
ফোন : ৭১৭৪৭০২, ৯৫৫৯৯৪৯, ৯৫৫৯০০৬, বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০, email: ddaddtoday@gmail.com ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com, e-mail:destinyout@yahoo.com, dainikdestiny@gmail.com, destiny24news@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft