আজ বুধবার, ১৫ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, ২৯ মার্চ ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
সাংবাদিককে গাড়ির ধাক্কা কল্যাণের জামিন  নামঞ্জুর, কারাফটকে  জিজ্ঞাসার নির্দেশ
ডেসটিনি রিপোর্ট
Published : Thursday, 12 January, 2017 at 10:08 PM, Count : 25
সাংবাদিককে গাড়ির ধাক্কা কল্যাণের জামিন  নামঞ্জুর, কারাফটকে  জিজ্ঞাসার নির্দেশপ্রথম আলোর প্রধান আলোকচিত্র সাংবাদিক জিয়া ইসলামকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেয়ার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার কল্যাণ কোরাইয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালত তাকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
গতকাল বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম মাজহারুল হক এ আদেশ দেন। আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আসামি কল্যাণ কোরাইয়াকে তিন দিনের মধ্যে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ওই নির্দেশে বলা হয়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদিন আসামিকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন।
আদালতে কল্যাণ কোরাইয়ার আইনজীবী মোহাম্মদ ফারুক বলেন, যে ধারায় মামলা করা হয়েছে, সে ধারা জামিনযোগ্য। আসামি জামিন পাওয়ার হকদার। এ সময় আদালত বলেন, যিনি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন, তার অবস্থা তো আশঙ্কাজনক।
আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, জামিনযোগ্য ধারা হওয়ায় আসামিকে রিমান্ডে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কল্যাণ কোরাইয়ার গাড়িটি রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফার্মগেট এলাকায় ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে তার বন্ধু আহত হন। তিনি ওই বন্ধুকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন। জিয়া ইসলাম গাড়ির ধাক্কায় আহত হওয়ার ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে তিনি দাবি করেন।
এ সময় বাদীপক্ষের আইনজীবী আশরাফ-উল আলম বলেন, মামলাটির ধারা জামিনযোগ্য হলেও রিমান্ডে দেয়া যাবে না, আইনে এমন কোনো ধারা নেই। সাংবাদিক মিশুক মুনীর হত্যা মামলা, ঢাকা মেডিকেলের সামনের অ্যাম্বুলেন্স চাপা দিয়ে চারজনকে হত্যা মামলার আসামিকে রিমান্ডে দেয়ার নজির আছে।
বাদীপক্ষের অপর আইনজীবী প্রশান্ত কর্মকার বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই আসামি গাড়ির লাইট নিভিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত চলে যান। এখন পর্যন্ত গাড়িটি জব্দ হয়নি। জিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আসামি কল্যাণ কোরাইয়ার তো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার রোগীর কাছে চারতলায় যাওয়ার কথা। তিনি কেন জিয়াকে দেখতে আইসিইউতে গিয়েছিলেন? হাসপাতালে থাকা তার বন্ধুর কাছে যাওয়ার রেফারেন্সও দিতে পারেননি। এসব রহস্য উদ্ঘঘাটনের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।
আদালতে বাদীপক্ষের শুনানিতে আরো অংশ নেন সৈয়দ আহমেদ গাজী, চৈতন্য চন্দ্র হালদার, আনোয়ারুল কবির বাবুল, মাহবুবুল হক, আবুল কালাম আজাদ, তুহিন হাওলাদার, শুভ্র সিনহা রায় প্রমুখ।
এর আগে গতকাল কলাবাগান থানার এসআই ওমর ফারুক খান আসামিকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কল্যাণ কোরাইয়া এই মামলার আসামি। তিনি কলাবাগান থানার বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের উল্টো দিকের রাস্তার ফার্নিচার মার্কেটের সামনে তার গাড়ি দিয়ে জিয়া ইসলামকে সজোরে ধাক্কা মারেন। তিনি গাড়ির সামনের ও পেছনের আলো নিভিয়ে পরিকল্পিতভাবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বসুন্ধরা শপিংমলের সামনের সড়কে একটি গাড়ি জিয়ার মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর জিয়া অচেতন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে ছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিক তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সংকটাপন্ন অবস্থা দেখে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করেন। চিকিৎসকেরা জানান, তার একটি পা ভেঙে গেছে। তবে সবচেয়ে গুরুতর হলো মাথার আঘাত।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে জিয়া ইসলামকে অ্যাম্বুলেন্সে করে অ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, তাকে ৪৮ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। তবে পর্যবেক্ষণের সময় বাড়তে পারে। আজ (গতকাল) সকাল ১০টার দিকে তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকরা বলেন, জিয়া ইসলামের অবস্থা অপরিবর্তিত আছে। এ ঘটনায় গতকাল কলাবাগান থানায় মামলা করেন প্রথম আলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপক মেজর (অব.) সাজ্জাদুল কবীর। এ মামলায় কল্যাণ কোরাইয়া নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কল্যাণ বিজ্ঞাপনের মডেল ও অভিনয় পেশার সঙ্গে যুক্ত।
প্রায় দুই দশকের সাংবাদিকতা জীবনে বহুবার হামলা ও দুর্ঘটনায় শিকার হয়েছেন জিয়া ইসলাম। এর মধ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় তিনি আহত হয়েছিলেন। আহত হলেও তিনি ক্যামেরা ছাড়েননি। ২১ আগস্ট হামলার বহুল প্রচারিত ছবিগুলোর বেশির ভাগই জিয়া ইসলামের তোলা।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
সম্পাদক কর্তৃক ১৪৬ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (৪র্থ তলা), ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত ও ডেসটিনি প্রিন্টিং প্রেস, ১৩/২/এ কেএম দাস লেন, গোপীবাগ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
যোগাযোগ : আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর, ঢাকা-১০০০।
ফোন : ৭১৭৪৭০২, ৯৫৫৯৯৪৯, ৯৫৫৯০০৬, বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০, email: ddaddtoday@gmail.com ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com, e-mail:destinyout@yahoo.com, dainikdestiny@gmail.com, destiny24news@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft