আজ শুক্রবার, ১ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
 / এক্সক্লুসিভ / ডায়াবেটিস ও ইনসুলিন সম্পর্কে যা বললেন একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার
ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Friday, 24 November, 2017 at 3:46 PM, Update: 05.12.2017 6:58:55 PM, Count : 1242
ডায়াবেটিস এক ভয়ানক রোগ। ডায়াবেটিস হলে আর কোনো রোগ লাগে না ধীরে শরীরটাকে ক্ষয় করে দেয়। সচেতন না হলেই রয়েছে মৃত্যুঝুঁকি। ভয়ানক এই রোগের আদ্যপান্ত নিয়ে বলেছেন দয়াগঞ্জ ইবনে সিনা ডি. ল্যাব অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার-এর ডায়াবেটিস কনসালটেন্ট ড. বদরুল আলম। অনুলিখন- মো. মাসুদ রানা
ডায়াবেটিস ও ইনসুলিন সম্পর্কে যা বললেন একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডায়াবেটিস ও ইনসুলিন সম্পর্কে যা বললেন একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার



মানবদেহ শর্করার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ আছে এবং এটি একটি পরিমাণের ভিতর থাকতে হবে থাকলে শরীর ঠিকভাবে কাজ করবে মূলত এর কিছু শরীরে যাবে কিছু লিভারে যাবে কিছু মস্তিস্কে যাবে প্রয়োজনমতো এবং ইনসুলিনের কাজ হলো তাকে জায়গায় জায়গায় পৌঁছিয়ে দেওয়া যখন শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা কমে যাবে দেহযন্ত্র অগ্নাশয় যদি যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে অথবা শরীর যদি উৎপন্ন ইনসুলিন ব্যবহারে ব্যর্থ হয় আর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি দেখাবে, তাহলে যে রোগ হয় তা হলো ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ। তখন রক্তে চিনি বা শকর্রার উপস্থিতিজনিত অসামঞ্জস্য দেখা দেয়। ইনসুলিনের ঘাটতিই হলো এ রোগের মূল কারণ। অগ্নাশয় থেকে নিঃসৃত হরমোন ইনসুলিন, যার সহায়তায় দেহের কোষগুলো রক্ত থেকে গ্লুকোজকে নিতে সমর্থ হয় এবং একে শক্তির জন্য ব্যবহার করতে পারে। ইনসুলিন উৎপাদন বা ইনসুলিনের কাজ করার ক্ষমতা-এর যেকোনো একটি বা দুটিই যদি না হয়, তাহলে রক্তে বাড়তে থাকে গ্লুকোজ। আর একে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ঘটে নানা রকম জটিলতা।ইনসুলিন একটা হরমোন এটা মানবদেহে  অগ্নাশয় তৈরি হয় বিটা সেল থেকে, বিটা সেল সবসময় অল্প অল্প ইনসুলিন বের করতে থাকে যাতে শরীরের সব সময় একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় রক্তে গ্লুকোজ থাকে। আর খাওয়া-দাওয়া করার পর গ্লকোজের মাত্রাটা বেড়ে যায়, যাতে দ্রুত এর মাত্রা নেমে যায় এজন্য অগ্নাশয় আতিরিক্ত ইনসুলিন বের করতে থাকে এতে  শরীরের সব সময় রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক থাকে।ডায়াবেটিস প্রধানত ২ ধরনের১) টাইপ ১ ডায়াবেটিস- (ইনসুলিন ডিপেন্ডেন্ট ডায়াবেটিস) Insulin Dependent Diabetes২) টাইপ ২ ডায়াবেটিস-(ইনসুলিন নন ডিপেন্ডেন্ট ডায়াবেটিস (Insulin Non Dependent Diabetes)১) টাইপ ১ ডায়াবেটিস-(ইনসুলিন ডিপেন্ডেন্ট ডায়াবেটিস) Insulin Dependent Diabetes
ইনসুলিন নির্ভরশীল ব্যক্তির দেহযন্ত্র অগ্নাশয়ের ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না বা খুব সামান্য পারে তাকে বাইরে থেকে ইনসুলিন দিতে হয় এবং বাইরে থেকে ইনসুলিন দিয়ে তার রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ভারসাম্য বজায় রাখা হয়। প্রত্যহ ইনসুলিন গ্রহণ ব্যতিরেকে এর কোনো চিকিৎসা নেই। যতদিন বেঁচে থাকবে, ইনসুলিন নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে।২) টাইপ ২ ডায়াবেটিস-(ইনসুলিন নন ডিপেন্ডেন্ট ডায়াবেটিস (Insulin Non Dependent Diabetes)অগ্নাশয়ের অবস্থান দুই প্রকারের হতে পারে সে কিছু কিছু ইনসুলিন তৈরি করতে পারে বা তৈরি করবে। সেক্ষেত্রে ওষুধ দিলেই কাজ হবে এর নামই হচ্ছে টাইপ ২ ডায়াবেটিস। বাইরে থেকে ইনসুলিন ছাড়া ভিতরে ইনসুলিন এবং ওষুধ দিয়ে রোগীকে রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখা হয়।টাইপ-২ ডায়াবেটিস সাধারণত দেখা দেয়  ৪০ বছর পরবর্তী সময়ে এবং এই ডায়াবেটিসই বংশ পরম্পরায় ছড়িয়ে পরতে পারে। এর চিকিৎসার জন্য দেওয়া হয় ওষুধ। টাইপ ২ ডায়াবেটিসে সবসময় রোগীকে বলা হয় প্রত্যহ ব্যায়াম করার জন্য।লক্ষণ : ডায়াবেটিস রোগীদের লক্ষণ হতে পারে শরীরের শর্করার  গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে যে লক্ষণগুলো হয় সেগুলার। দীর্ঘস্থায়ী কিছু প্রভাবের কারণে হয় কিছু স্বল্পমেয়াদি ও হয় যেমন কারও যদি রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে তার দুর্বল লাগবে, কেটে গেলে না শুকানো কাটা বা ঘা হলে ধীরে ধীরে শুকানো, প্রসাবে ইনফেকশন হওয়া, মহিলাদের প্রসাবের জায়গায় চুলকানি, শরীরে গোটা বা ঘা হওয়া এবং সেগুলো না শুকানো ইনফেকশন হওয়ার, যেহেতু রক্তে গ্লুকোজের ঘনত্ব বেড়ে যাবে চামড়া শুষ্ক হয়ে যাবে চুলকাবে চামড়া খসখসে হবে। দীর্ঘমেয়াদি কিছু লক্ষণ আছে চোখে ছানি পড়ে যাওয়া, রক্তে চর্বির মাত্রা বেড়ে যায় কারণ রক্তের গ্লুকোজ যাওয়ার কোনো জায়গা পায় না তখন এটা শরীর চর্বিতে রূপান্তরিত হয় তখন হার্টের রক্তনালীগুলো বন্ধ হয়ে যায় তখন রোগী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়। রোগীর ব্লাড পেশার বেড়ে যায়। রক্তের মধ্যে যদি গ্লুকোজের মাত্রা ১০ এর উপরে থাকে তাহলে প্রসাবের মধ্যে চলে যায়।সাধারণ লক্ষণগুলো : ১. ঘন ঘন প্রস্রাব, ২. অধিক তৃষ্ণা এবং মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ৩. অতিশয় দুর্বলতা, ৪. সার্বক্ষণিক ক্ষুধা, ৫. স্বল্পসময়ে দেহের ওজন হ্রাস, ৬. চোখে ঝাঁপসা দেখা, ৭. কাটা বা ঘা হলে ধীরে ধীরে সারাশরীরে ছেয়ে যায়, ৮. ত্বক চুলকানি, ৯. দুর্বল আর ক্লান্ত অনুভব করা, ১০. অধিক তৃষ্ণা এবং মুখ ও গলা শুকিয়ে যাওয়া, ১১. ঘন ঘন সংক্রমণ।ডায়াবেটিস যাদের হতে পারে : ডায়াবেটিস হতে পারে জুভেনাল ডাইবেটিস  ( Juvenile Diabetes) জন্মগত বা ছোটবেলা থেকেই যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন তারা শৈশব থেকেই বড় হতে না হতেই তাদের  অগ্নাশয় কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এটা বাবা-মায়ের হতেও পারে নাও হতে পারে যেকোনো কারণেই হতে পারে এবং এটা হলেই সে হয়ে যাবে ইনসুলিন ডিপেন্ডেন্ড বা ইনসুলিন নির্ভরশীল তখন তাকে বাইরে থেকে ইনসুলিন দিতে হবে, প্রত্যহ ইনসুলিন গ্রহণ ব্যতিরেকে এর কোনো চিকিৎসা নেই এবং যতদিন বেঁচে থাকবে, ইনসুলিন নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে।ডায়াবেটিস সাধারণত হয় যাদের খাদ্য অভ্যাস খারাপ যারা খাবার নিয়ন্ত্রণ করে না যারা তাদের  জীবনযাত্রা আরামদায়ক  শর্করার জাতীয় বা মিষ্টি-খাবার অতিরিক্ত খায়। ১৮- ২১ বছর বয়স এর উপরে চলে যাওয়ার পর যখন খাদ্য অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করতে পারে না তখন শরীরে গ্লুকোজ ও শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায় এবং অগ্নাশয় পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন বের করতে পারে না। যাদের শরীরের চর্বি ও শরীরের ওজন অনেক বেশি হয়ে থাকে তাদের অগ্নাশয় ইনসুলিন তৈরি করার ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।পরিবারের বাবা-মা একজন অথবা উভয়ই যদি ডায়াবেটিস থাকে তাহলে ডায়বেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থেকে কি ধরনের বিপদ হতে পারে : ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে সাধারণত যে যে সমস্যাগুলো হয়ে থাকে সেগুলো স্বল্পমেয়াদি ও কিছু দীর্ঘমেয়াদি। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলো বিপদের সম্ভাবনা হয়ে থাকে।যেমন, হঠাৎ করে  চোখে ছানি পড়ে গেছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছে coronary artery -গুলো বন্ধ হয়ে গেছে তাকে বাইপাস করতে হবে বা রিং পরতে হবে।ডায়বেটিস রোগীদের রক্তে কোলস্টেরলের মাত্রা বাড়তে থাকে রক্তে ট্রাইগ্লিসারিন নামক একটা উপাদান রোগীদের এমনিতেই বেশি  থাকে যেটা বাড়তে বাড়তে হৃদরোগের সম্ভাবনা থাকে এবং মস্তিষ্কে স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ডায়াবেটিস রোগীদের সাধারণ মানুষের থেকে অনেক গুণ বেশি স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেহেতু প্রসাবের সাথে শর্করার বের হয় তাই কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।কীভাবে বুঝবো ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা বোঝার উপায় হচ্ছে রক্তের শর্করা গ্লুকোজ মাত্রা পরীক্ষা করে দেখা। সাধারণত একটি সুস্থ মানুষের খালি পেটে আমরা যদি রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করি তাহলে সেটা হবে ৩.৫ থেকে ৫.৫ মিলি মোল/লিটার। যদি খালি পেটে রক্তের শর্করা গ্লুকোজের মাত্রা  ৫.৫ মিলি মোল/লিটার থাকে এবং খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর  পর ৭.৮ মিলি মোল/লিটার পর্যন্ত হয়। তবে ডায়বেটিস  নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মনে করতে হবে। খাবারের পর রক্তের শর্করা গ্লুকোজ মাত্রা ১০.০ মিলি মোল/লিটার পর্যন্ত হলে ডায়বেটিস মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মনে করতে হবে, রক্তে শর্করার গ্লুকোজ মাত্রা ১১.০ মিলি মোল/লিটার এর বেশি হলে এর অর্থ হলো ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই।যদি রক্তে শর্করা গ্লুকোজ  মাত্রা ৭.৮ থেকে ১০.৯ মিলি মোল/লিটার এর মধ্যে থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে এটি ডায়াবেটিস রোগ-এর দিকে যাচ্ছে।ডায়াবেটিসের নিরাময় ও নিয়ন্ত্রণ এর সম্ভাবনা কেমন : ডাইবেটিস যদি আগে ধরা পড়ে তাহলে একে সঠিক নিয়ন্ত্রণে আনা যায় যদি কারো ডায়াবেটিসের মাত্রা আট, সাড়ে আট, নয় এই পরিমাণে থাকে তাহলে তাদের প্রাথমিকভাবে এই চিকিৎসা দিলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে তাদের কিছু ব্যায়াম, কিছু খাদ্যাভ্যাস নতুন করে ঢেলে সাজাতে পারবে যদি ওজন বেশি থাকে তাহলে ওজন কমিয়ে এবং সামান্য ওষুধ ব্যবহার করেন ডায়বেটিস সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।যাদের ডায়াবেটিস অনেক দেরিতে ধরা পড়ে ইনসুলিন ব্যবহার করে খুব দ্রুত ডায়াবেটিস কমানোর চেষ্টা করা হয় অনেক সময় ইনসুলিন এবং ওষুধ একই সাথে ব্যবহার করা হয়ডায়াবেটিস ও জীবন যাপন ব্যবস্থাপনা কেমন হতে পারে : ১. খাদ্যাভ্যাসের সুনিয়ন্ত্রিত পরিবর্তন। ২. পদ্ধতিমতো নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়াম। ৩. ওষুধ গ্রহণ।১. খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ : সব ডায়াবেটিক রোগীর ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরিভাবে প্রয়োজন হল- সঠিক খাদ্যাভ্যাস বেছে নেওয়া। প্রতিদিনের খাদ্যদ্রব্যের পরিমাণ ও খাদ্যগ্রহণের সময় একই রকম না থাকলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।রোগীকে তার জন্য উপযোগী খাদ্যদ্রব্যগুলো কি কি, কোন খাবার অল্প পরিমাণে খাওয়া যাবে, কোন খাবার মোটেই খাওয়া যাবে না, তা নির্বাচন করা। কিছু কিছু খাদ্য উপাদান গ্রহণের পরিমান ও হার কিছুটা পরিবর্তিত দরকার।রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের জন্য মূলত শর্করা জাতীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করার দরকার। এজন্য শর্করা যেমন কমবে, চর্বি জাতীয় খাদ্যও তেমনি কমবে। ভাত, রুটি, আলু আগের চেয়ে কম খেতে হবে। সরাসরি চিনি বা গ্লুকোজ পাওয়া যায় তেমন খাদ্য বর্জন করতে হবে বা খুব কম পরিমাণে খেতে হবে।প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত সুষম খাবার গ্রহণ করতে হবে। অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিজাতীয় খাবার যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। প্রতিদিন কিছু পরিমাণ ফলমূল, সবুজ শাকসবজি, মাছ ও কম চর্বি-শর্করাযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করতে হতে হবে। অধিক ক্যালরিযুক্ত খাবার, রিচ ফুড ফাস্ট-ফুড,  কোল্ড-ড্রিংক্স, প্রক্রিয়াজাত খাবার, চকোলেট, আইসক্রিম ইত্যাদি পরিহার করতে হবে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে।  ধূমপান ও মদ্যপান খাদ্যাভ্যাসের বিরুদ্ধেও সচেতন হওয়া দরকার।২. শারীরিক শ্রম ও ব্যায়াম : ডায়াবেটিস স্বল্পকালীন চিকিৎসায় পুরোপুরি সেরে যাওয়ার মতো অসুখ নয়। এটিকে সারাজীবন ধরে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের নানাবিধ কার্যকরী ব্যবস্থা রয়েছে। ওষুধ ছাড়া নিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহণ এবং শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামই কখনও কখনও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট।ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত শারীরিক শ্রম বা ব্যায়াম করতে হবে। সপ্তাহে অত্যন্ত ৩ দিন অন্তত ২০-৪৫ মিনিট করে ব্যায়াম করা। শারীরিক শ্রম ও ব্যায়াম বিভিন্নভাবেই হতে পারে। সেটা ব্যায়ামাগারে গিয়ে  হতে পারে; বাসায় ব্যায়াম হতে পারে অথবা অন্যকোনো শ্রম করার কাজ হতে পারে। ডায়াবেটিসের যেকোনো ধরনের জটিলতা থাকলে অবশ্যই চিচিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম নির্ধারণ করা উচিত। কারণ সব ব্যায়াম সবার জন্য উপযুক্ত নয়।ওজন নিয়ন্ত্রণের ভালো  উপায় হচ্ছে হাঁটা। তাই কম দূরত্বের জায়গাগুলোতে হেঁটে চলাচল করা। সকাল-বিকাল, সন্ধ্যা বা রাত যেকোনো সময়ই হাঁটতে হবে। প্রতিদিন এর কর্মকা-ের সঙ্গে হাঁটার সময়টি ঠিক করে নেওয়া যেতে পারে। প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৪-৫ দিন হাঁটতে হবে। প্রতিবার ৪০ মিনিট করে হাঁটতে পারেন। অফিসে কাজ করলেও দিনে কিছু সময় হাঁটা, সাইকেল চালানো, সিঁড়ি বেয়ে উঠা ইত্যাদি।৩. ওষুধ সেবন : খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন আর শারীরিক শ্রম ও ব্যায়াম দিয়ে রক্তে গ্লুকোজের  মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।  চিকিৎসকের পরামর্শমত ওষুধ ব্যবহার করুন। ওষুধ দুই ধরনের আছেÑ খাবার ওষুধ ও ইনসুলিন। কারো কারো জন্য সবকটি  প্রয়োজন।প্রাথমিক প্রতিরোধ বা প্রাইমারি প্রিভেনশন। অর্থাৎ রোগ হওয়ার আগেই একে প্রতিরোধ করা। রোগটি না হতে দেওয়া। এজন্য চাই সামাজিক সচেতনতা। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় নিতে হবে সামাজিক পদক্ষেপ। সরকার, চিকিৎসক, কোনো প্রতিষ্ঠান বা কারও একার পক্ষে কখনো এই বিপুল পরিমাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়। একসাথে কাজ করতে হবে সমাজের প্রতি স্তরে পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পর্যন্ত।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162