আজ বুধবার, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
 / জেলার খবর / মাদারীপুরে পিয়াজের বাম্পার ফলন
এস. এম. রাসেল, মাদারীপুর ,ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Wednesday, 6 December, 2017 at 3:16 PM, Update: 06.12.2017 3:27:54 PM, Count : 272
মাদারীপুরে পিয়াজের বাম্পার ফলন

মাদারীপুরে পিয়াজের বাম্পার ফলন

বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি পিয়াজ ৯০ টাকা থেকে ১‘শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাত্র ৬/৭ মাস আগে যা বিক্রি হয়েছে ৮ থেকে ১২ টাকা দরে। এতে নি:স্ব হয়েছে কৃষক, লাভবান হয়েছে মধ্যস্বত্যভোগী। গুণেমানে দেশের পিয়াজ অনেক ভাল মানের। তাহলে কি সেই কারণ যে, পানির দরের সেই পিয়াজ প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১‘শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে ? অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে কৃষি নিয়ে দেশে সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনার অভাব, অ ল ভিত্তিক ফসল সংরক্ষণাগার বা কোল্ড স্টোরেজ না থাকা ও বাজার ব্যবস্থাপনার অভাব। ফলে বাম্পার ফলন ফলিয়েও মার খাচ্ছে ভুক্তভোগী কৃষকসহ সাধারণ মানুষ। শুধু পিয়াজই নয় উৎপাদন মৌসুমে উল্লিখিত ৩ কারণে সকল কৃষি পণ্য পানির দরে বিক্রি করছে কৃষক। আর বছর ধরেই সে সকল কৃষিপণ্য বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।

সরেজমিন অনুসন্ধান করে জানা গেছে, পদ্মা আড়িয়ালখাঁসহ অসংখ্য নদ-নদী খাল-বিলে পরিপূর্ণ জেলার কৃষি জমি। প্রতি বছর বন্যায় এ সকল জমিতে পর্যাপ্ত পলি পড়ে উর্বর হয়ে ওঠে। ফলে প্রতি বছরই পিয়াজের বাম্পার ফলন হয়। পাশাপাশি এ অ লের পিয়াজের কদর দেশজুড়ে সমাদৃত। কিন্তু উৎপাদন মৌসুমে সংরক্ষনের অভাবে কৃষক পিয়াজ পানির দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। গত মৌসুমে জেলায় প্রায় ৪১‘শ হেক্টর জমিতে পিয়াজ উৎপন্ন হয়েছে ৯০ হাজার মে.টন। তার মধ্যে শিবচরেই পিয়াজ উৎপাদন করা হয় ৩৪‘শ হেক্টর জমিতে। 

কিন্তু পচনশীল এ পণ্য সংরক্ষণের অভাবে পানির দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয় কৃষক। গত বছর উৎপাদন মৌসুমে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি  পিয়াজ বিক্রি হয় ১২-১৫ টাকা দরে। মন প্রতি বিক্রি হয় ৫‘শ থেকে ৬‘শ টাকায়। পাইকারি বাজার হয়ে কৃষকের হাতে তা পৌঁছায় আরো কম দামে। অথচ বীজ, সার, শ্রমিকদের টাকা দিয়ে পিয়াজ চাষে মণ প্রতি কৃষকের খরচ হয় ৭‘শ থেকে সাড়ে ৭‘শ টাকা। দাম কম হওয়ায় গত বছর অনেক কৃষককে মাঠেই পিয়াজ রেখে দিতে দেখা গেছে। চলতি বছর উচ্চ মুল্য চলায় কৃষক বিপুল উৎসাহে পিয়াজের আবাদ শুরু করেছেন। উচ্চ মুল্যের কারণে চলতি বছর কৃষক গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি জমিতে পিয়াজের আবাদ শুরু করেছেন।

কৃষি বিভাগ জেলায় এ বছর ৯ হাজার হেক্টর জমিতে পিয়াজের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তার মধ্যে শিবচরেই প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে পেয়াজ আবাদ করা হয়েছে। কিন্তু বীজ ও সারের বাড়তি দাম কৃষকের শুধু ভাবনার কারণ নয়, এর সাথে রয়েছে উৎপাদন পরবর্তী সংরক্ষনাগার বা উপযোগী কোল্ড স্টোর না থাকার মূল সমস্যা। একই সময় ভারতসহ অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি বন্ধ না হওয়া, সুদুর প্রসারী পরিকল্পনার অভাব ও বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবসহ নানান সংকটে চিন্তার ভাজ কৃষকের কপালে। অ ল ভিত্তিক কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ না হওয়ায় কৃষকের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হচ্ছে না।

শিবচরের আদর্শ কৃষক বাবুল খান বলেন, ‘গত বছর পিয়াজ আবাদ করতে সার, বীজ, শ্রমিক খরচসহ প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ হয়। কিন্তু উৎপাদন মৌসুমে বাজারে দাম কম থাকায় প্রায় দেড় লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। যদি পিয়াজ সংরক্ষণ করে রাখতে পারতাম তাহলে আমার এতবড় লোকসান হতো না। এ জন্য আমাদের এলাকায় কোল্ডষ্টোর দরকার।’

কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, ‘গত ৫/৬ মাস আগে যখন আমরা ক্ষেত থেকে পিয়াজ তুলেছি, তখন ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর পিয়াজ আমদানী করা হয়। ফলে ৬-১২ টাকা কেজি দরে আমরা পিয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি। এতে অনেক লোকসানে পড়েছি আমরা। এখন আমরা পিয়াজ আবাদ শুরু করেছি। এখন বাজারে পেয়াজ ৯০ টকা থেকে ১‘শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আমাদের উৎপদিত পণ্যের মূল্য আমরা পাই না। পায় মধ্যস্বত্বভোগীরা। আমাদের দেশে সেই মহাজনি প্রথা রয়েই গেল।’

শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস.এম সালাউদ্দিন বলেন,‘এ অ লে খুবই ভাল মানের পিয়াজ উৎপন্ন হয়। পদ্মা, আড়িয়ালখাঁ বেষ্টিত এলাকা হওয়ায় এ অঞ্চলের পিয়াজ গুণে মানে দেশের মধ্যে অন্যতম। কিন্তু উৎপাদন মৌসুমে বিভিন্ন স্থান থেকে পিয়াজ আমদানী হওয়ায় বাজারে পিয়াজের মূল্য অনেক নিচে নেমে যায়। ফলে কৃষকরা অনেক লোকসানে পড়েন। পেয়াজ যদি সংরক্ষণ করা যেত তাহলে কৃষকরা চাষাবাদের প্রতি আরো আগ্রহী হতো।’

মাদারীপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জি.এম আবদুল গফুর বলেন, ‘মাদারীপুর, শরিয়তপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অ ল পিয়াজ উৎপাদনে সমৃদ্ধ। কিন্তু উৎপাদন মৌসুমে পিয়াজের দাম কম থাকায় কৃষকদেরকে ক্ষতির সম্মুখিন হতে হচ্ছে। এলাকায় যদি আঞ্চলিক একটি পিয়াজ সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হয়, তাহলে সারা বছর কৃষকরা পিয়াজ বিক্রি করে লাভবান হতে পারবে। ক্রেতারাও সহনীয় মূল্যে পিয়াজ খেতে পারবে। এ জন্য কৃষকদের সাথে সাথে আমাদেরও দাবী এ অ লে যেন পিয়াজসহ মসলা জাতীয় ফসলের জন্য সংরক্ষানাগার নির্মাণ করা হয়।’


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162