আজ শুক্রবার, ১ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
 / ফিচার / শীতে ঘুরে আসুন সুন্দরবন
ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Wednesday, 6 December, 2017 at 5:15 PM, Update: 06.12.2017 5:44:48 PM, Count : 143
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট

সমুদ্র, পাহাড় বা চা বাগান তো অনেক দেখা হলো। ভাবছেন এবারের শীতের ছুটি কিভাবে কাটানো যায়? ঘুরে আসতে পারেন প্রাকৃতিক রহস্যেঘেরা সুন্দরবন। উপভোগ করে আসতে পারেন বানরের চিৎকার-চেঁচামেচি, হরেক পাখির দল, ময়ূরের কেকা ধ্বনি, অপরূপ চিত্রল হরিণের দল, বন মোরগের ডাক, কুমির, হরিয়াল, গাছের সঙ্গে পেঁচিয়ে থাকা অজগর, মৌমাছির গুঞ্জন ও বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের গর্জন। এছাড়াও সেখানে রয়েছে ৩শ’ ৩০ প্রজাতির গাছ, ২শ’ ৭০ প্রজাতির পাখি, ১৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ৪২ প্রজাতির বন্য প্রাণী ও ৩২ প্রজাতির চিংড়িসহ ২শ’ ১০ প্রজাতির মাছ। সুন্দরবনের এসব নয়নকারা দৃশ্যের কারণেই বর্তমানে পর্যটকরা আকৃষ্ট হচ্ছে সেখানে যেতে।
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট



আগের তুলনায় বর্তমানে সুন্দরবনে পর্যটকদের সংখ্যাও বেড়ে গেছে বহুগুণে।এখন আর টেলিভিশনের পর্দায় নয় চাইলে বাস্তবেই ঘুরে আসতে পারেন প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন থেকে। কিন্তু অনেকে মনে করে সুন্দরবন ঘুরতে যাওয়া বেশ বিপদজনক। কিন্তু এখন আপনি চাইলেই নিরাপদে ঘুরে আসতে পারেন সুন্দরবন। এক্ষেত্রে আপনি কোনো ট্যুর কোম্পানি অথবা অভিজ্ঞ ট্যুর গাইডের সাহায্য নিতে পারেন। প্রতিবছরই সুন্দরবন ভ্রমণের সবচে’ উত্তম সময় হলো অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে  এপ্রিল পর্যন্ত।
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট



পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনে আসা পর্যটকের মন কাড়ে সবুজের সমরোহ। সেই সাথে নীল আকাশের কোলে সাদা মেঘের ভেলা, দখিনা বাতাসে দেহ মন শীতল করা, রাতের গায়ে জোনাকির আলোয় সাগর পাড়ে তারার মেলা আর তটিনীর মৃদু ছন্দে কাব্যিক আবেশে মানসিক প্রশান্তির এক অবারিত দুয়ার পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জ। প্রকৃতির এই অরূপ রাজকন্যা সুন্দরবনের যেদিকে তাকানো যায় সেদিকেই যেনো সুন্দরের আগুন।
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট



গাছের পাতা উপর সবুজের সমরোহ আর সুন্দরবনের বুক চিরে বয়ে যাওয়া খোল পেটোয়া কালিঞ্চি নদির বুকে রূপালী চাঁদের মুঠো মুঠো আলোয় শুধু চোখই জুড়াবে না, এমনই আবেশে প্রকৃতির এ নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে হাতছানি দেয় সুন্দরবন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর নৈসর্গিক লীলাভূমি অফুরন্ত সম্পদের চারণভূমি পৃথিবী শ্রেষ্ঠ ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে তালিকায় নিঃসন্দেহে সেরা।
মধু সংগ্রহ করছে মাওয়ালীরা।

মধু সংগ্রহ করছে মাওয়ালীরা।



বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৬ হাজার ১৭ বর্গমাইল জুড়ে বিস্তৃত সুন্দরবনে রয়েছে হাজার খানিক নদ-নদি। সেখানে ৪৭৫ প্রজাতির মাছ, ৩৭ প্রজাতির চিংড়ি, ৩৩৬ প্রজাতির শামুক ও ঝিনুক ১৬ প্রজাতির কাঁকড়া ৭ প্রজাতির কাছিম, ১০ প্রজাতির ডলফিন এবং ৩ প্রজাতির তিমি, ৫ প্রজাতির লবস্টার পাওয়া যায়। তাছাড়া ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণি ও ৩৩৫ প্রজাতির গাছপালায় শোভিত সুন্দরবন।
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট



সুন্দরবনে রয়েছে বেশ কিছু মনোমুগ্ধকর জায়গা। এর মধ্যে রয়েছে হিরণ পয়েন্ট, দুবলার চর, শরণখোলা, ছালকাটা, টাইগার পয়েন্ট টাওয়ার, টাইগার পয়েন্ট সি বিচ, জামতলা সি বিচ, সাত নদীর মুখ, কালীরচর উল্লেখযোগ্য।
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট



হিরনপয়েন্ট যার প্রকৃত নাম নীলকমল। এখানে রয়েছে বন বিভাগের সুন্দর অফিস, মিঠাপানির পুকুর ও পুকুরপাড়ের পাশেই ওয়াচ টাওয়ার। বনবিভাগের অফিসটি ঘুরে ফিরে দেখার জন্য বেশ ভালো। এছাড়া ঘুরে দেখতে পারেন সুন্দরবনের ভেতরটি। যেখানে দেখতে পাবেন ম্যানগ্রোভের সারি। এ সময় আপনার সঙ্গে অবশ্যই ট্যুর গাইড বা গাদাবন্দুকধারী বনরক্ষী নিয়ে যেতে হবে। এ পথ কাদামাটিযুক্ত পিচ্ছিল, তাই সবাইকে দল বেঁধে চলতে হবে। তা না হলে পথ হারিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। এছাড়া ট্যুর গাইড বা বনরক্ষীরা পথ চলতে চলতে পাতা ছিড়ে ফেলে রেখে যায় যাতে পথ হারিয়ে না যায়। এসব ট্যুর গাইড বা বনরক্ষীদের কাছ থেকে সুন্দরবনের ভেতরের জগত সম্পর্কে নানা বিস্মকর তথ্য পেতে পারেন।

যেভাবে যাবেন:-
বেশিরভাগ ভ্রমণই হয় সুন্দরবনের নির্জন সমুদ্রতীর কটকা পর্যন্ত। আসা আর যাওয়ার পথে বাঘ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এর পুরোটাই নির্ভর করে ভাগ্যের ওপরে তবুও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, সাপ দেখা প্রায় নিশ্চিত। আরও নিশ্চিতভাবে দেখা যাবে চিত্রা হরিণ ও বন্যশূকর। শত শত চিত্রা হরিণ যে কোনো ভ্রমণকারীর মনে অন্য রকম রোমাঞ্চ তৈরি করবে।
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট



যদি কটকা ভ্রমণসূচিতে থাকে কোনো প্যাকেজÑ তাহলে খুলনা-সুন্দরবন-খুলনা, তিন রাত তিন দিনের এ ভ্রমণে জনপ্রতি খরচ হবে ১০ হাজার টাকা এবং বিদেশিদের জন্য ১৫ হাজার টাকা। ভ্রমণমূল্যে অন্তর্ভুক্ত খুলনা-সুন্দরবন-খুলনা যাতায়াত, লঞ্চে দ্বৈতকেবিনে থাকা, খাবার, সুন্দরবনে প্রবেশমূল্য, নিরাপত্তাকর্মী, গাইড সেবা প্রভৃতি।
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট



আর কেউ যদি নিজ উদ্যোগে কটকা যেতে চান, তাহলে এ সিদ্ধান্ত আপনার। ঢাকা থেকে মংলা, তারপর যে কোনো পথে যাওয়া হবে কটকা। যদি কোনো ভ্রমণকারী শরণখোলা হয়ে কটকা যেতে চান তাহলে মংলা থেকে মোটরসাইকেলে যেতে হবে। এর ভাড়া জনপ্রতি ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা। এরপর কোনো ভ্রমণকারী যদি শরণখোলায় একদিন কাটাতে চান, তাহলে এখানে পাওয়া যাবে সুলভমূল্যের কয়েকটি হোটেল। এখানে আপনাকে গুনতে হবে দিনপ্রতি ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা। এরপর ওই অন্যতম সুন্দর এলাকা এই কটকা ভ্রমণ। ট্রলার বা স্প্রিডবোট ছাড়া এখানে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। শরণখোলা থেকে কটকা যেতে যে কোনো যান ভাড়া কমপক্ষে ১২ হাজার টাকা। আরেকটু ভালোভাবে যেতে ভ্রমণকারীকে গুনতে হবে ১৫ হাজার টাকার মতো।
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট



কোনো ভ্রমণকারী চাইলেই তার যান নিয়ে কটকায় প্রবেশ করতে পারবেন না। নৌযানের জন্য নিতে হবে বাগেরহাট বন বিভাগের অনুমতি। ভ্রমণ একদিন হবে, না এর থেকে বেশি হবেÑ তাও জানাতে হবে বন বিভাগকে। গহিন বনে নিরাপত্তার জন্যই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান বন কর্মকর্তারা। নৌযানে ওঠার পর আরেকটি অনুমতি নিতে হবে শরনখোলা রেঞ্জ অফিস থেকে। এখানে জনপ্রতি ১৫০ টাকার সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162