আজ শুক্রবার, ১ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
 / আন্তর্জাতিক / জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ট্রাম্পের
ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Thursday, 7 December, 2017 at 10:32 AM, Count : 64
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট

সারা বিশ্বের বিরোধিতা উপেক্ষা করে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া আমেরিকান দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।

এসময় ডোনাল ট্রাম্প,ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার দুপুরে হোয়াইট হাউজে কূটনীতিকদের অভ্যর্থনা কক্ষে এক ভাষণে  বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির এটাই সময়।

১৯৪৮ সালে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানীর স্বীকৃতি দিলো। ট্রাম্পের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত কয়েক দশকের আমেরিকান নীতিকে বদলে দিয়েছে। আমেরিকান দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট



১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্যে ছয়দিনের যুদ্ধ শেষে ইসরাইল পশ্চিম জেরুজালেমকে অধিগ্রহণ করে নেয়। যদিও আন্তর্জাতিক মহল একে ইসরাইলের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। উল্লেখ্য, এ শহরটি পৃথিবীর প্রধান তিন ধর্ম ইসলাম, খ্রীষ্টীয় ও ইহুদী ধর্মের অন্যতম প্রধান পুণ্যস্থান। ধর্মগুলোর সাথে এ শহরটি কয়েক হাজার বছরের ঐতিহ্য সম্পৃক্ত। জেরুজালেমকে ইসরাইলের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি না দিতে মার্কিন মুসলিম মিত্র দেশগুলোর বিরোধিতা থাকলে এ সিদ্ধান্তে অটল থাকেন ট্রাম্প।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন এই সিদ্ধান্তের মানে এই নয় যে আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার থেকে সরে আসছে। তিনি বলেছেন দীর্ঘদিনের ইসরায়েল ফিলিস্তিনি সংঘাতের অবসান ঘটাতে আমেরিকা দুই রাষ্ট্র সমাধানকে সমর্থন জানাতে প্রস্তুত যদি উভয় পক্ষ সেটাই চায়।

জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনিও গুতারেস ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত ঘোষণাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক মুহুর্ত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দুই রাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি স্থাপনের কোন বিকল্প নেই। কিন্তু অন্য কোন পরিকল্পনায় এটি হবে না।

কিন্তু এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় নিন্দা জানিয়ে প্যালেস্টাইনের নেতা মাহমুদ আব্বাস এটিকে 'দুঃখজনক' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর হামাস ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, এই সিদ্ধান্ত এতদ অঞ্চলে 'নরকের দ্বার খুলে দেবে'।

সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বলেছেন, এই ঘোষণা 'সারা পৃথিবীর মুসলিমদের ঘোরতরভাবে প্ররোচিত করবে'।

এই ঘোষণার প্রতিবাদে ইতোমধ্যেই গাজায় এবং তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মার্কিন কনসুলেটের সামনে মিছিল হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরেজা মে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন না করে বলেছেন, সে অঞ্চলে শান্তি আনয়নের পথে এটি কোনো উপকারী পদক্ষেপ হবে না।

এরইমধ্যে গাজা উপত্যকা ও বেথলহাম শহরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি এবং গাজা উপত্যকায় ট্রাম্পের কুশপুত্তলিক পোড়ানো হয়েছে। এছাড়া, ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিবাদে বেথেলহাম শহরে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকজন বড়দিন উপলক্ষে সাজানো ক্রিসমাস ট্রি’র আলোকসজ্জার সুইচ বন্ধ করে দেন। বড়দিনে আলোকসজ্জা চালু করা হবে কিনা তা নিশ্চিত নয়। ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস মার্কিন সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162