আজ শুক্রবার, ১ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
 / ফিচার / এই শীতে ঘুরে আসুন প্রকৃতির রানী শ্রীমঙ্গল
ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Thursday, 7 December, 2017 at 5:20 PM, Update: 07.12.2017 5:43:21 PM, Count : 101
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট

যত দূর চোখ যায় কেবল সবুজের হাতছানি। চা বাগানের সারি সারি টিলা, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ আর ঘন সবুজ অরণ্যের অপরূপ সৌন্দর্য যে কাউকে আকৃষ্ট করে। তাই পর্যটকরা বার বার ছুটে যায় চায়ের রাজধানীখ্যাত শ্রীমঙ্গলের চিরসবুজের শোভা আর বৃষ্টিস্নাত পাহাড়ি সৌন্দর্য দেখতে।


১৯টি চা বাগানের সতেজ সবুজ পাতায় পূর্ণ হয়ে আছে শ্রীমঙ্গলের নিসর্গশোভা। পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে এবং চায়ের রাজধানী হিসেবে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার খ্যাতি সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য আর নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শ্রীমঙ্গল বেড়াতে যাওয়ার এখনই সময়। যদিও এখন বৃষ্টির সময়, তারপরও অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়রা প্রস্তুতি নিয়ে বেরিয়ে পড়তে পারেন এ সময়।
শ্রীমঙ্গলে যা পাবেন-
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট





শ্রীমঙ্গল চা বাগান:
চায়ের জন্য বিখ্যাত শ্রীমঙ্গল উপজেলার অবস্থান সিলেটের মৌলভীবাজার জেলায়। পাতা আর কুঁড়ির এই দেশ পাহাড় আর চা বাগানে ঘেরা আর সব সময়ই ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক আদর্শ স্থান। সবুজে মোড়ানো শ্রীমঙ্গলে রয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ চা বাগান। রয়েছে আনারস ও রাবার বাগান। চায়ের রাজধানী এই শ্রীমঙ্গলের অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর পশুপাখির বিচরণ নিমিষেই মুগ্ধ করে দেয় চোখ আর মনকে। শ্রীমঙ্গলের উত্তর-পশ্চিম পাশে কিছু অংশ হাইল হাওর ছাড়া পুরোটা উপজেলাই চা বাগান দ্বারা আবৃত। আপনি যখন মাইলের পর মাইল চা বাগানের ভেতর দিয়ে যাবেন, তখন আপনার মনে হবে বিশ্বের সকল সৌন্দর্যরাশি যেন আপনার সম্মুখে।
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট



চা গবেষণা কেন্দ্র:
চায়ের রাজধানীতে গড়ে উঠেছে গবেষণা কেন্দ্র। বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্রটি শ্রীমঙ্গলের মূল শহর থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই স্থানটি বিটিআরআই হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। শহর থেকে ১০ থেকে ১৫ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে সহজেই বিটিআরআই পৌঁছে যেতে পারেন। বিটিআরআই ক্যাম্পাসেই রয়েছে বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন অফিস। অফিস গেটে রিকশা থেকে নামা মাত্রই চোখে পড়বে হরেক রকম ফুলের সমাহার। বিটিআরআইয়ের অপরটি চা বোর্ডের অফিস। দুটোই পাশাপাশি। ভেতরে দেখতে পাবেন ৫০-৬০ বছরের পুরোনো চা গাছ। চা ম্যানুফ্যাকচারিংসহ টি টেস্টিং ল্যাব, গবেষণা ফ্যাক্টরিসহ বাংলাদেশের একমাত্র ভেষজ উদ্ভিদের বাগান। বিটিআরআইয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ মনোমুগ্ধকর। গত বছর দেশে প্রথমবারের মতো বিটিআরআইয়ে চা জাদুঘর স্থাপন করা হয়। চা জাদুঘর স্থাপিত হওয়ায় শ্রীমঙ্গলের পর্যটনে সংযোজিত হয়েছে নতুন মাত্রা।
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট



লাউয়াছড়া রেইন ফরেস্ট:

শ্রীমঙ্গলের আট কিলোমিটার পূর্বদিকে রয়েছে ‘লাউয়াছড়া রেইন ফরেস্ট’। নানা প্রজাতির পাখি, শুশুক, অজগর, বনমোরগ, হরিণসহ বিভিন্ন প্রজাতির বিড়াল আর কলাবাদুড় রয়েছে এই অভয়ারণ্যে। পাখিপ্রেমীদের জন্য লাউয়াছড়া আকর্ষণীয় জায়গা। সিএনজি বা অটোরিকশা দুভাবেই যেতে পারেন এই বনে। এমনিতে সিএনজি ভাড়া ১০০ টাকা। তবে দরদাম করে নিলেই ভালো।
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট



মাধবকুণ্ড:
এখন বলি সিলেটের অন্যতম আকর্ষণ মাধবকুণ্ডের কথা।  ২০০ ফুট উঁচু, অন্যতম সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড শ্রীমঙ্গল থেকে ৬০ কিলোমিটার অদূরে। পাহাড় আর সবুজে ঘেরা পথ দিয়ে মাধবকুণ্ড যেতে যেতে আপনি কখন নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন, তা টেরই পাবেন না। মাধবকুণ্ডের অবিরাম জলধারা এনে দেবে আপনাকে প্রশান্তি। মাধবকুণ্ড যেতে হলে সিএনজি ছাড়া অধিকতর ভালো কোনো উপায় নেই। কেননা বাসে বড়লেখা নেমে আপনাকে আবার ভোগান্তি পোহাতে হবে। রিজার্ভ সিএনজিতে ৬০০-৭০০ টাকায় বেশ ভালোভাবেই পৌঁছে যাওয়া যায় মাধবকুণ্ডে।
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট



হাকালুকি হাওর:
শ্রীমঙ্গল এসেছেন। এত কাছে এসে কেউ হাকালুকি হাওর না দেখে যায় না কি? প্রায় ১৯২ বর্গকিলোমিটার জলাভূমির বাস্তুসংস্থান হাকালুকি হাওরের আশপাশে এক লাখ ৯০ হাজার ঘনবসতি রয়েছে। আর হাকালুকি হাওর শ্রীমঙ্গল থেকে মাত্র এক ঘণ্টার পথ। কাদাখুঁড়ি, পানকৌড়ির ঝাঁকসহ আরো অনেক বিরল দৃশ্য দেখা যায় হাকালুকিতে। হাকালুকি যেতেও আপনার একমাত্র যাত্রাসঙ্গী সিএনজি। ভাড়া পড়বে ৫০০-৬০০ টাকা।
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট



ডিনস্টন সিমেট্রি:
শতবর্ষের স্মৃতিবিজড়িত শ্রীমঙ্গলের ডিনস্টন সিমেট্রির ইতিহাস মনকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ডিনস্টন চা বাগানে এর অবস্থান। আজ থেকে শতাধিক বছর আগে শ্রীমঙ্গলের ডিনস্টন চা বাগানে ডিনস্টন সিমেট্রির গোড়াপত্তন হয়। ১৮৮০ সালে শ্রীমঙ্গল অঞ্চলে ব্রিটিশদের দ্বারা বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ শুরু হওয়ার পর সুদূর ব্রিটেন থেকে এখানে টি প্ল্যান্টরদের আগমন ঘটতে থাকে। জাহাজে, ঘোড়ার গাড়ি কিংবা হাঁটার সেই যুগে সেসব বিদেশি এই অঞ্চলে মারা যায়। তাদের সমাহিত করা হয় শ্রীমঙ্গলের ডিনস্টন সিমেট্রিতে। উঁচু নিচু পাহাড়ঘেরা চিরসবুজ চা বাগানের মাঝে অবস্থিত সিমেট্রিতে বিদেশিদের কবর রয়েছে ৪৬টি। এর মধ্যে পাঁচটি কবরের কোনো পরিচিতি আঁকা নেই। এতে একই কবরে একই সঙ্গে চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছে এক ব্রিটিশ দম্পতি। এখানে শায়িত আছে একটি নিষ্পাপ শিশু।
চা পাতা সংগ্রহ করছেন চা শ্রমিক

চা পাতা সংগ্রহ করছেন চা শ্রমিক



জলপ্রপাত যজ্ঞকুঞ্জের ধারা: শ্রীমঙ্গলের একমাত্র জলপ্রপাত যজ্ঞকুঞ্জের ধারা। এটি জাগছড়া চা বাগান এলাকায় অবস্থিত। জলপ্রপাত দেখতে আপনি শ্রীমঙ্গল শহর থেকে মৌলভীবাজার রোড হয়ে কাকিয়া নেমে ডান দিকে জাগছড়া চা বাগান চলে যাবেন। অথবা শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ভাড়াউড়া চা বাগান হয়ে কাঁচা রাস্তায় জাগছড়া চা বাগানে কাউকে জিজ্ঞেস করে চলে যাবেন জাগছড়ার ১৪ নং সেকশনে। সেখানে চোখে পড়বে একটি ব্রিজ। ব্রিজের ডান পাশ দিয়ে ছড়ার পাড় ধরে একটু সামনে এগিয়ে গেলেই শুনতে পাবেন শোঁ শোঁ শব্দ। জনশ্রুতি রয়েছে- শ্রীমঙ্গলের কালাপুরে প্রাচীন বেলতলীতে দেবস্থান নির্মাণ করেন তৎকালীন রাজা। দেবস্থান নির্মাণকালে বিরাট যজ্ঞস্থানকে পরিষ্কার করে যে পয়ঃপ্রণালি সৃষ্টি হয়েছিল সেটাই জলপ্রপাতের আকার ধারণ করে, যা আজো যজ্ঞধারা বা যজ্ঞছড়া নামে কথিত রয়েছে।
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট



পাহাড় ডোবা লেক: শ্রীমঙ্গলের বন-পাহাড়, হাওর-বিল আর সবুজের সমারোহে একাকার হয়ে গড়ে ওঠা হ্রদটির নাম পাহাড় ডোবা লেক। বিলাসছড়া চা বাগানের পাদদেশে এই জলাশয়ের অবস্থান। প্রচার না হওয়ায় পর্যটক তথা এলাকাবাসীর পদচারণা খুব একটা হয়নি এ জলাশয় এলাকায়। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে কালীঘাট রোড ধরে দলই চা বাগানের রাস্তা ধরে বিলাসছড়া পৌঁছা যায়। বিলাসছড়া অফিস ও লিপ হাউস ছাড়িয়ে কিছু সামনে এগুলেই দেখা যায় লেকটি। এটি চা বাগানের ১০ নম্বর সেকশনে অবস্থিত। সবুজ বন বনানী বেষ্টিত পাহাড় ডুবে পরিণত হয়েছে বিশাল জলরাশিতে। পাহাড়ের পাশ ঘেঁষে জলের পাশ দিয়ে নতুন একটি রাস্তা করা হয়েছে। এলাকাটির প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত। তবে বিলাসছড়া চা বাগানের সুপারিনটেনডেন্টের অথবা বিটিআরআই কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে বেড়ানো যায় এখানে।
ছবি- ইন্টারনেট

ছবি- ইন্টারনেট



কীভাবে যাবেন:
ঢাকা থেকে বাসে অথবা ট্রেনে যাওয়া যায় শ্রীমঙ্গল। তবে বাসে যদি যান, রাস্তা ফাঁকা থাকলে ট্রেনের আগেই পৌঁছাবেন। হানিফ, ইউনিক, রূপসী বাংলাসহ বিভিন্ন বাস রয়েছে আরামবাগ, মহাখালী এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে। সিলেট মেইল অথবা উপবনে করেও যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে শ্রীমঙ্গলে। ট্রেনে ভাড়া ৩০০-৩৫০ (স্নিগ্ধা), ২৭০ (শোভন চেয়ার), ২০০ (সুলভ)। বাসের ভাড়া ৪০০-৪৫০ টাকা।

কী খাবেন:
শ্রীমঙ্গলে খাবারের খরচ অনেক কম। প্রায় সব ধরনের রেস্তোরাঁই রয়েছে শহরে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় হিসেবে রয়েছে সাত রঙের চা। মাধবকুণ্ড, হাকালুকি এবং লাউয়াছড়ায় ভাত, ডাল, মুরগির মাংস, হাঁসের মাংসের সঙ্গে মজাদার খাবার হিসেবে পাওয়া যায় বকের মাংস।অনেকটা সময় এই শ্রীমঙ্গলের গল্প শুনে এখন কি আপনার দুই চোখে সারি সারি চা বাগানের দৃশ্য ভেসে উঠছে? তাহলে এখনই ব্যাগ গোছানো শুরু করে দিন। এই ছুটির বাকি কটা দিন না হয় কাটিয়ে দিন শ্রীমঙ্গলেই!


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162