সোমবার, জুলাই ১৬, ২০১৮ | ৩১, আষাঢ়, ১৪২৫
 / ফিচার / অক্সফোর্ড মিশন গির্জা, দেশের খ্রিস্ট ধর্মীয় সেরা পুরাকীর্তি
রেজাউল ইসলাম পলাশ,ঝালকাঠি প্রতিনিধি,ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Wednesday, 10 January, 2018 at 5:19 PM, Update: 10.01.2018 5:50:32 PM, Count : 295
ছবি-ইন্টারনেট

ছবি-ইন্টারনেট

দেশের অন্যতম অভিজাত ও সুন্দর গির্জা হল বরিশালের অক্সফোর্ড মিশন চার্চ। এপিফানি উপাসনালয় এ গির্জার কেতাবি নাম। প্রাচ্যের ভেনিস নামে পরিচিত বরিশাল শহরটি কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত এই শহরের পুরাতন নাম চন্দ্রদ্বীপ। বাংলাদেশ-এর একটি অন্যতম সুন্দর স্থাপনা এই শহরেরই অক্সফোর্ড মিশন চার্চ।
ছবি-ইন্টারনেট

ছবি-ইন্টারনেট



১১৪ বছর পুরনো এ গির্জাটি শুধু সুন্দরই নয়, এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহৎ গির্জা এবং দেশের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন পুরাকীর্তিগুলোর একটি। এটি ‘লাল গির্জা’ নামেও পরিচিত। বৃটিশ আমলে তৈরি হওয়া গির্জাটির নির্মাণশৈলীতে রয়েছে নানা বৈচিত্র্য ও শিল্পসৌকর্য। পামগাছ ঘেরা অক্সফোর্ড মিশনের গাছের ফাঁক দিয়ে তাকালেই দেখা যাবে টেরাকোটা রঙের সুউচ্চ আর্চওয়ে চার্চ।

বৃটিশ প্রকৌশলী ফ্রেডেরিক ডগলাসের তত্ত্বাবধানে মূলত গ্রিক স্থাপত্যশৈলীতে চল্লিশটি খিলানের উপরে দাঁড়ানো এ গির্জাটি ১৯০৩ সালে নির্মান করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠার অনেক আগে তখনকার থেকে ফাদার স্ট্রং এবং মাদার এডাহ (সিস্টার) এ গির্জার নকশা কী হবে তা নিয়ে ভাবছিলেন বলে জানা যায়। একপর্যায়ে মূল নকশা করেন ফাদার স্টং, এবং নকশাটি আঁকায় ফুটিয়ে তোলেন মাদার এডাহ। তাঁদের দুজনের এই চিন্তা বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের স্থপতি ফিলিপ থিকনেস। ওই সময় বরিশাল নগরের প্রাণকেন্দ্রে গড়ে উঠতে শুরু করে এশিয়ার ব্যতিক্রমী এই গির্জা।
ছবি-ইন্টারনেট

ছবি-ইন্টারনেট



এর পাশেই রয়েছে একটি বেল টাওয়ার। মূল গির্জার আদলেই গড়ে তোলা বেল টাওয়ারটিতে প্রার্থনার পাঁচ মিনিট আগে ঘণ্টাধ্বনি বাজানো হয়। ঘণ্টাধ্বনির শব্দ শুনে ভক্তরা এখানে আসেন প্রার্থনার জন্য। জানা যায়, সে সময় বেল টাওয়ারের বেল স্থাপনের খরচ বহন করেন বিখ্যাত ক্রীড়াবিদ ফাদার স্ট্রং। বিভিন্ন খেলায় পাওয়া তাঁর সম্মানী পুরস্কারের অর্থ দিয়ে তিনি ওই বেল বেল স্থাপনের খরচ মেটান।

শহরের প্রানকেন্দ্রে ৩৫ একর জমির উপরে গির্জাটিতে কাঠের তৈরি ছাদ আর ফ্লোরে সুদৃশ্য মার্বেলের টাইলস দিয়ে সাজানো এ গির্জার প্রধান আকর্ষণ বিশাল ও নান্দনিক প্রার্থনাকক্ষ। এর মূল বেদীর উপর একটি বড় ক্রশ স্থাপিত আছে। উঁচু দেয়াল দিয়ে ঘেরা মহল্লার ভেতরে ঢুকলেই দেখা যাবে সবুজ ঘাসের কার্পেটে মোড়া মাঠ, তেরটি ছোট-বড় পুকুর, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আবাসিক ছাত্র হোস্টেল, ফাদার ও সিস্টারদের আবাসন, পাঠাগার ও হাসপাতাল নিয়ে এ চার্চটি অবস্থিত।
ছবি-ইন্টারনেট

ছবি-ইন্টারনেট



সুদৃশ্য এশিয়ার সবচে বড় ঘণ্টা দিনে সাত বার এ চার্চেই বেজে ওঠে, আর ঘন্টার ঠিক নিচেই চার্চের ছোট্ট অফিস। এমন স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের গির্জা দুটি দেখা যায় না। একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞানে অগ্রসরণের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে, যার মধ্য দিয়ে সভ্যতার ক্রমবিকাশের ধারাকে চিহ্নিত করা যায়।

ঐতিহ্য প্রীতির কারণেই বরিশাল অঞ্চলের অধিবাসীদের জীবনাচরণে, সংস্কৃতিতে বহমান আছে ভিন্ন অনন্য বৈশিষ্ঠ্য। লাল ইট দিয়ে নির্মিত শতবর্ষী এ চার্চ ১৯০৩ সালে ২৬ জানুয়ারি উদ্বোধন করা হলেও এ চার্চের নির্মন কাজ ১৯০৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। গির্জাটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগেও এর স্থাপত্যশৈলী বিনষ্ট না হয়। ১৯৬০ ও ১৯৭০ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়েও গির্জাটি সম্পূর্ণ অক্ষত থেকে যায়। মজার ব্যাপার হলো, দেশীয় মাটি দিয়ে তৈরি আস্তনে পোড়া লাল শক্ত ইট, বালু, সিমেন্ট, কাঠ এবং নির্মাণশ্রমিক সবই এই বাংলার শুধু ভেতরে চারটি বেদির মার্বেলপাথর আনা হয়েছিল ভারত থেকে এ ছাড়া বড় ক্রুশটি আনা হয় প্যালেস্টাইনের বেথলেহেম থেকে।
ছবি-ইন্টারনেট

ছবি-ইন্টারনেট



চার্চটি চমৎকার রক্ষণাবেক্ষণের সুবাদে ঝকঝকে ও সুদৃশ্য। আজও এর আদি ও অকৃত্রিম রূপের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। সারা বিশ্ব থেকে বহু পর্যটক বছরভর গিয়ে দেখেন এই বিশাল অক্সফোর্ড মিশন চার্চ। এটির ইতিহাস অতীতকে তুলে ধরে আর এর নেপথ্যে সঞ্চালক তো মানুষই। মহাকালের মানুষ জীবন্ত হয়ে ওঠে তার রেখে যাওয়া বস্তু সংস্কৃতির মাঝে। অতীত ও বর্তমানের সেতুবন্ধন বরিশালের অক্সফোর্ড মিশন চার্চ।


বরিশালের প্রাণকেন্দ্রে জীবনানন্দ দাশ সড়কে অবস্থিত শতবর্ষী এই গির্জাটির কেয়ারটেকার জানালেন, নিজস্ব সম্প্রদায়ের মানুষ ব্যতীত জনসাধারণের জন্য চার্চের সীমানার ভেতর প্রবেশ নিষেধ। বর্তমান সময়ের ঝুঁকিপূর্ণ ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক পরিবেশে নিরাপত্তাজনিত হুমকির আশঙ্কায় রয়েছেন চার্চ সংশ্লিষ্টরা। সাংবাদিক পরিচয় দেয়ায় চার্চের অভ্যন্তরের ছবি না তোলার শর্তে পনের মিনিটের জন্য ঘুরে দেখার সুযোগ পাওয়া গেলেও জনসাধারণের জন্য এখানে প্রবেশ সংক্রান্ত জটিলতা আছে। পরিচিত কেউ না থাকলে বা তেমন মাধ্যম না থাকলে প্রবেশে একটু সমস্যায় পড়তে হয় এখানে।
ছবি-ইন্টারনেট

ছবি-ইন্টারনেট



প্রাচীন গৌরব গাঁথার বিস্তারিত দেশের সবাই খবর না রাখলেও নিয়তই চোখে পরে বরিশাল ও তার আশে পাশে ছড়িয়ে থাকা পুরাকীর্তির ধ্বংসাবশেষ। এই এলাকায় রয়েছে আরও বেশ কিছু ঐতিহাসিক মনোমুগ্ধকর দর্শনীয় স্থান। যার রয়েছে আসলেই মনোরম পরিবেশ ঐতিহাসিক স্থানের মধ্যে রয়েছে দুর্গাসাগর দীঘি, গুঠিয়া মসজিদ, শেরে বাংলা যাদুঘর-চাখার, লাকুটিয়া বাবুর বাড়ি, মিয়াবাড়ি জামে মসজিদ, শাপলা গ্রাম, সাতলা, বিবির পুকুর পাড়, মুক্তিযোদ্বা পার্ক, বেলস পার্ক, ৩০ গোডাউন, স্বাধীনতা পাকর্, রামমোহনের সমাধি মন্দির, সুজাবাদের কেল্লা, সংগ্রাম কেল্লা, শারকলের দুগর্, এবাদুল্লা মসজিদ, কসাই মসজিদ, শংকর মঠ, মুকুন্দ দাসের কালীবাড়ি, ভাটিখানার জোড়া মসজিদ, চরকিল্লা, এক গম্বুজ মসজিদ, সাড়ে তিন মণ ওজনের পিতলের মনসা, কীর্তনখোলা নদী, বরিশালের বিখ্যাত ল কলেজ, রহমতপুর নারিকেল বাগান, প্লানেট পার্ক, অশ্বিনী কুমার টাউন হল।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162