বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮ | ৪, আশ্বিন, ১৪২৫
 / আন্তর্জাতিক / সাড়ে ৪ টাকার অভাবে তারা যৌনকর্মী?
ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Thursday, 11 January, 2018 at 4:21 PM, Update: 11.01.2018 4:39:45 PM, Count : 501
সাড়ে ৪ টাকার অভাবে তারা যৌনকর্মী?

সাড়ে ৪ টাকার অভাবে তারা যৌনকর্মী?

অভাব কম-বেশি সকল মানুষেরই থাকে। পৃথিবীর শুরু থকে এ পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই একটু না একটু অপূর্ণতা থাকে। তবে সেই অভাবের পরিমাণটা যদি খুব সামান্য হয়ে থাকে তাহলে হৃদয় নাড়া দিবে। অভাব; মাত্র ৪ টাকা ৫৫ পঁয়সার অভাব। আর এই কারণেই কলকাতার সোনাগাছির মাধবী, মালতী, বিউটি ও সুইটিরা নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারছে না।

হ্যা, তারা যৌনকর্মী। সোনাগাছীর সকল যৌনকর্মীদেরকে বছর দু’য়েক আগে সুরক্ষিত রাখার জন্য একবার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। যেখানে মাত্র সামান্য ৪৫ পঁয়সায় কাজ হয় তাহলে সেখানে কেনোই বা বাড়তি চার টাকা পঞ্চান্ন পঁয়সা খরচ করবেন। বাড়তি ওই টাকাগুলো খরচ করতেও তাদের সমস্যায় পড়তে হয়। ফলে সোনাগাছির সকল যৌনকর্মীরা নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে চেয়েও রাখতে পারছেন না। তাদের কে কোন খদ্দের কে খুশি করতে মাত্র ৪৫ পঁয়সা খরচ হয়। সেটাও একটি কনডম কেনার জন্য। যদিও কন্ডমটি তাদের নিজেদেরই ক্রয় করতে হয়। তারপরেও তারা খদ্দেরকে ওই কনডম ফ্রিতে দিয়ে থাকেন। যে কারণে কোনো খদ্দেরকে তাদের খুশি করতে মাত্র ৪৫ পঁয়সার পরিবর্তে ৫ টাকা অর্থাৎ বাড়তি চার টাকা প৫৫ পঁয়সা ব্যয় করতে হয় তাহলে মাধবী, মালতী, বিউটি ও সুইটিরা সমস্যায় পড়েন।

সমস্যার এখানেই শেষ নয়। যদি কোনো খদ্দেরকে একাধিকবার খুশি করতে হয় তাহলে মাধবী, মালতী, বিউটি ও সুইটিরদের সমস্যা বেড়ে যায়। সেই একই কারণে তাদের নতুন করে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়। খরচের পরিমাণ বেড়ে যায়। আবার তাদের প্রতিদিনের নিয়মে খদ্দেরকে একের পর এক সামলাতে হয়। এতে করে তাদের প্রতিদিনের খরচও বেড়ে যায়। প্রতিদিনের আয় থেকে থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট পরিমাণ যে টাকা থাকে তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় থাকতে হয়। মাধবী, মালতী, বিউটি ও সুইটিরা এতে করে তাদের সুরক্ষিত রাখার কথা মনে রাখলেও বাড়তি ৪ টাকা ৫৫ পঁয়সা মোটেও খরচ করতে চায় ন।

আচ্ছা, কোন কারণে তাদের চার টাকারও বেশি খরচ করার প্রয়োজন? হ্যা, কারণ তো অবশ্য একটা আছেই। আর তা হল ফিমেল কন্ডম। সোনাগাছির যৌনকর্মীরা যেসব ফিমেল কন্ডম ব্যবহার করেন তার প্রতিটির মূল্য ৫ টাকা। তাদের প্রতিটি ফিমেল কন্ডম কিনতে হবে। তারপরেই নিজেদেরকে তা ব্যবহার করতে হবে। তবে সচেতনতা কিন্তু বৃদ্ধি পেয়েছে। এইচআইভি/এইডসের সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়া সত্বেও খদ্দেরদের অধিকাংশরাই কন্ডম ছাড়া যৌনসুখ নিতে অনেক বেশি ভালোবাসে। খদ্দেররাও কন্ডম নিতে অপরাগ স্বীকার করে। এক্ষেত্রে যৌনকর্মীরা যদি ফিমেল কন্ডম ব্যবহার করে তাহলে কিন্তু খদ্দেররা একদমই বুঝতে পারবে না। আর এতে করে সোনাগাছির মাধবী, মালতী, বিউটি ও সুইটিরা নিজেদেরকে সুরক্ষিত রাখতে পারবে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে সোনাগাছির ওই সব যৌনকর্মীরা কন্ডমও ব্যবহার করেন না? খদ্দেরকে যৌনসুখ দেওয়ার পূর্বে মদ্যপান অতিরিক্ত হয়ে গেলে কন্ডম নেয়ার কথা মনে রাখতে পারেন না। আবার অনেকে খদ্দের হাত ছাড়া হয়ে যাওয়ার ভয়েও কন্ডম ব্যবহার করেন না। তবে এই বিষয়টি বেশি বয়সের যৌনকর্মীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। ফলে বাজারের অবস্থা ভালো না থাকায় ওই সকল যৌনকর্মীরা মাত্র ৪৫ পঁয়সার কন্ডমও ব্যবহার করেন না। আর এতে করে তারা অসুরক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

সোনাগাছির মাধবী, মালতী, বিউটি ও সুইটিরা কী তাহলে অসুরক্ষিত থেকে যাবে? তাদের সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির সচিব ভারতী দে-এর ভাষ্যমতে, ফিমেল কন্ডম ব্যবহারের জন্য বছর দু’য়েক আগে একবার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। জারিটি প্রায় দেড় বছরের মত ছিল। তবে ফিমেল কন্ডমের দাম ৫ টাকা হওয়াতে কেউ ক্রয় করতে চায় না। কেননা, যেখানে মাত্র ৪৫ পঁয়সায় দিব্বি কাজ হয়ে যাচ্ছে সেখানে কেনো, কোন কারণেই বা অতিরিক্ত খরচ করবে তারা। যে কারণে তারা ফিমেল কন্ডম ক্রয় করতে চায় না। আর এতে তারা সমস্যায়ও পড়েন। মূলত এই কারণেই সোনাগাছিতে ফিমেল কন্ডমের ব্যবহার হচ্ছে না। কিন্তু তারা যদি ফিমেল কন্ডম ব্যবহার করে তাহলে যৌনকর্মীরা সুরক্ষিত থাকতে পারেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘শুরুর দিকে ফিমেল কন্ডমের ব্যবহারে শতকরা ৬০ ভাগ মেয়েরা ফিমেল কন্ডম ব্যবহার করতেন। সোনাগাছিতে ফিমেল কন্ডমের শুরু হলেও সবাই কিন্তু তা ব্যবহারও করতেন না। তাদেরকে কিন্তু এ বিষয়ে পাঠদানও দেওয়া হয়েছিল। সব শেষে এ বলা যায় যে, সোনাগাছির মাধবী, মালতী, বিউটি ও সুইটিরা মাত্র বাড়তি ৪ টাকা ৫৫ পঁয়সার অভাবেই নিজেদেরকে অসুরক্ষিত থাকছে।’


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162