সোমবার, জুলাই ১৬, ২০১৮ | ৩১, আষাঢ়, ১৪২৫
 / শেষ পাতা / মহানগর কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে অস্বস্তি আওয়ামী লীগে
কাঞ্চন কুমার দে
Published : Saturday, 13 January, 2018 at 10:52 PM, Count : 73
মহানগর কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে অস্বস্তি আওয়ামী লীগে

মহানগর কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে অস্বস্তি আওয়ামী লীগে

আজ-কাল কিংবা পরশু ঘোষণা করা হবেÑ হচ্ছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের থানা-ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এভাবেই প্রায় ৯ মাস অতিবাহিত হতে চললো। কিন্তু কমিটি দেয়ার কোনো খবর নেই। ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে দুই ভাগে বিভক্ত করে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ঢাকার ৪৫টি থানা, ১০০টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের নাম ঘোষণা করা হয়। গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলেও এর অন্তর্ভুক্ত ৪৫টি থানা ও ১০০টি ওয়ার্ডে পূর্ণাঙ্গ কমিটি বাকি রয়ে যায়। গত ৯ মাসেও এই কমিটিগুলো ঘোষণা না হওয়ায় দিন যতই যাচ্ছেÑ ততই ক্ষোভ বাড়ছে তৃণমূলের পদ-প্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মাঝে। এরই মধ্যে নানা রকম ডাল-পালা গুঞ্জন ছড়াতে শুরু করেছে। অনেকে অভিযোগ করে বলেছেন, ঢাকা মহানগর অন্তর্গত আওয়ামী লীগের থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটিতে কারা থাকছেন জানেন না সংশ্লিষ্ট ইউনিটের নেতারা। তাদের অভিযোগ-মহানগর নেতৃবৃন্দ স্বেচ্ছাচারী কায়দায় কমিটি দিয়েছেন। অনুমোদনের প্রয়োজনটুকুওবোধ করেননি। পাল্টা অভিযোগ মহানগর নেতাদেরও, সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেই কমিটি প্রস্তাব করা হয়েছে। বিষয়টিতে থানা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা কয়েকবার সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। অভিযোগ আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত গড়ানোয় সকল কমিটি স্থগিত করে পুনর্গঠন করতে বলেছেন তিনি। একই অবস্থা ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়েও। দুই দফায় কমিটি ঘোষণা করলেও মৃতদের কমিটিতে নাম আসা, ত্যাগীদের বাদ দেয়াসহ নানা অভিযোগে স্থগিত হয়েছে কমিটি। এতে প্রায় ২০০ শাখার এ কমিটিগুলোর পদ প্রত্যাশীরা হতাশ হয়ে পড়ছেন। জানা গেছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি সাধারণ সম্পাদক মো. শাহে আলম মুরাদ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের দ্বন্দ্বে কমিটিগুলো এখনো আলোর মুখ দেখেনি। দিনে দিনে তৃণমূলে বাড়ছে ক্ষোভ। একাদশ নির্বাচনকে ঘিরে এ ক্ষোভ আওয়ামী লীগের ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে নেতারা মনে করছেন। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে পারে ১৪ দলীয় জোটের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগ। এজন্য সরকার ও দলের সব প্রস্তুতি নিয়ে ঠিকঠাক মতো এগুচ্ছে দলটি। কিন্তু দলটির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিট ঢাকা মহানগরের প্রায় ২০০ শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হলে এসব প্রস্তুতি ভেস্তে যেতে পারে। ক্ষোভ ও মান-অভিমানের কারণে নির্বাচনে পুরোপুরি কাজে নাও লাগানো যেতে পারে তৃণমূল আওয়ামী লীগের এসব শাখার নেতাকর্মীদের। এজন্য দলের নেতারা চান, দলীয় সর্বোচ্চ ফোরাম যেন এগুলো সমাধান করে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেন।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মহানগর আওয়ামী লীগের উত্তর-দক্ষিণ মিলিয়ে মোট ৪৯টি থানা, ১০৩টি ওয়ার্ড ও ১৬টি ইউনিয়ন রয়েছে। এসব শাখাগুলোর জনবল দিয়েই রাজধানী ঢাকার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে আওয়ামী লীগসহ সব দল। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এসব শাখাগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি সরকারি দল আওয়ামী লীগ। যার কারণে নেতৃত্ব তৈরি না হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক সভা-সমাবেশেও লোক সমাগমে ইতোমধ্যে ভাটা পড়েছে। যদিও নানা সেক্টরের মানুষ দিয়ে সাময়িক কাজ চালিয়ে নেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের উত্তর-দক্ষিণ মিলিয়ে মোট ৪৯টি থানা, ১০৩টি ওয়ার্ড ও ১৬টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাদের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না পাওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা-ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা নিয়ে দীর্ঘসূত্রতায় থানা ও ওয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা মেরুকরণ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে দুই দফায় ঢাকা মহানগর উত্তরের সে সব শাখাগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিলেও কমিটিতে মৃতদের নাম আসা, ত্যাগীরা বাদ পড়াসহ নানা অভিযোগে স্থগিত করে দেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যদিও শিগগির-এর সমাধান করে ফেলতে পারবেন বলে সমন্বয়ের দায়িত্ব পাওয়া সভাপতিম-লীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক জানিয়েছেন।
যদিও ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান স্থগিতের বিষয় কিছু জানেন না। তিনি বলেন, কমিটি বাতিল বা স্থগিতের কোনো খবর আমি পাইনি। স্থগিত হলে দলের দফতরের মাধ্যমেই আসতো। তিনি বলেন, এতগুলো কমিটি কিছু অভিযোগ তো থাকবেই, কেউ কেউ তো বিক্ষুব্ধ হবেই।
অপরদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের দ্বন্দ্বে কমিটি আটকে থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। দলীয় অফিসে তাদের সমর্থকদের হাতাহাতি, দলীয় অনুষ্ঠানে ময়লার স্তূপ দেয়ার ঘটনা সবারই জানা। সর্বশেষ গেল বছরের ২৮ নভেম্বর প্রয়াত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দুজনকে মিলিয়ে দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ঐ সময় কাদের বলেন, এই দেখুন, এক হয়ে গেছে, সামান্য ভুল বোঝাবুঝি ছিল, এক হয়ে গেছে। মহানগর আওয়ামী লীগ এখন ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু আদৌ তারা মিলেছেন কি না, তার কোনো জবাব পাওয়া না গেলেও আটকে থাকা কমিটিগুলো হয়নি।
এ বিষয়ে কথা হয় ঢাকা মহানগরের দক্ষিণ শাখা কমিটির সমন্বয়ের দায়িত্ব পাওয়া আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাকের সাথে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এগুলো নিয়ে মুরাদকে (ঢাকা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক) জিজ্ঞেস করেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বলেন, কমিটি জমা আছে, আমরা সভাপতি-সম্পাদক বসতে পারলেই কমিটি হয়ে যাবে।
প্রস্তাবিত কমিটিতে বিএনপি-জামায়াত : প্রস্তাবিত কমিটিতে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত, ও খুনের মামলার আসামিদের পদ দেয়ার কথা বলছেন বিভিন্ন থানা আওয়ামী লীগের নেতারা। মোস্তাক আহমেদ বিএনপির রাজনীতির ছেড়ে আওয়ামী লীগে। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে ২৩ নং ওয়ার্ডের (উত্তর) কাউন্সিলর হয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত থোড়াই কেয়ার করা মোস্তাক এখন রামপুরা থানা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। দূরাবস্থা একসময়ের দাপুটে নেতাদের। নেই কোনো কমিটিতে। রমনা থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন। রাজনীতি শুরু ছাত্রলীগ থেকে। এরপর ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও সর্বশেষ অভিন্ন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দফতরের কাজও করেছেন তিনি। দীর্ঘ ৪০ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের এই নেতা এখন পদহীন!
মায়া সমর্থক নেতাকর্মীদের কমিটিতে না রাখায় ক্ষোভ : এদিকে মায়া সমর্থক নেতাকর্মীদের মহানগর,  থানা ও ওয়ার্ড কমিটিতে না রাখায় তারা মহানগর শীর্ষ নেতাদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেছেন। সাঈদ খোকনের ‘বিতর্কিত কমিটি খেদাও’ আন্দোলনে তারাও একীভূত হয়েছেন। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সাথে বৈঠক করেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহে আলম মুরাদ। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মায়া চৌধুরীকে দাওয়াত দিলেও উপস্থিত হননি তিনি।
ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন থানা কমিটিতে বিতর্কিতদের পদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্টরা বলেন, আমরা যে কমিটি মহানগরে জমা দিয়েছি তা কাঁটছাঁট করে অচেনা-অজানা ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জানা যায়, ২০ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন টাপুকে শাহবাগ থানার সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রাখা হয়েছে। তিনি একাধিক মামলার আসামি বলে অভিযোগ আছে। আরেকজন বিতর্কিত মোশাররফ হোসেন; তাকেও শাহবাগ থানা কমিটি রাখা হয়েছে। মাদক ব্যবসার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। থানার ১৯ নং ওয়ার্ডেও বিএনপি নেতা জাকির হোসেনকে ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেলের অ্যাম্বুলেন্সচালক আবুল কাশেমও এখন ওয়ার্ড নেতা। পল্টন থানা আওয়ামী লীগের সদস্য রাজীব জামায়াতের কর্মী বলে অভিযোগ আছে। বিএনপির পদধারী নেতা লালবাগ থানার দেলোয়ার হোসেন ও চকবাজার থানার মতিউর রহমান মতিকে স্ব স্ব থানায় আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটিতে রাখা হয়েছে। অথচ এসব নেতাদের নাম থানা থেকে প্রস্তাবই করা হয়নি।




দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162