সোমবার, মে ২১, ২০১৮ | ৭, জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫
 / আইন-আদালত / বড়ভাইয়ের আগ্রাসন গ্রাম্য জনপদে!
বাড়ছে অপরাধ
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Saturday, 10 February, 2018 at 7:44 PM, Update: 10.02.2018 7:54:06 PM, Count : 1461
বড়ভাইয়ের আগ্রাসন গ্রাম্য জনপদে!

বড়ভাইয়ের আগ্রাসন গ্রাম্য জনপদে!

মাদকের জোয়ারে ভাসছে মৌলভীবাজরের জেলার শহর, হাট-বাজার গ্রামগঞ্জ। জেলার ৭টি উপজেলায় প্রতি মাসে ২ কোটি টাকার মাদক বিক্রি হচ্ছে বলে একটি সুত্র জানায়। লাভজনক এ ব্যবসায়  নতুন ব্যবসায়ীর সংখ্যা বাড়ছে, তেমনি নতুন মাদক সেবীর সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন। 

ব্যবসায়ীরা সময়ে সময়ে হিরোইন, ইয়াবার সাংকেতিক নাম দিয়ে থাকে। বর্তমানে “বড়ভাই“ নামে চলছে এর ব্যবসা। বেকারদেরে সেলসম্যান হিসাবে কাজে লাগাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। বেকার হতাশা গ্রস্থ টিনএজ ছেলে মেয়েরা সর্বনাশা মাদক সেবনে দিকে ঝোঁকছে, বাড়ছে তাদের সংখ্যা। একি সাথে বাড়ছে অপরাধ পরিমান। ধর্ষন, অপহরন, চুরি, ডাকাতির বেশী ভাগ অপরাধী দেখা যায় নেশা-আশক্ত। নেশার টাকা যোগার করতে গিয়ে অনেক যুবক ঘরের সোনা গয়না বিক্রি করে। এমনকি মা-বাবার সাথে খারাপ আচরন করতেও দেখা যায়। স্কুল কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও বাদ পড়েনি মাদকের আগ্রাসন থেকে। গ্রামগঞ্জের বাড়িতে, ছোট ছোট মুদির দোকানে পাওয়া যাচ্ছে মাদকের পুরিয়া। চা শ্রমিক বস্তিতে আগে ছিল চোলাই মদ। আর এখন যোগ হয়েছে হেরোইন, ইয়াবা, গাজা, ফেনসিডিল সহ বিভিন্ন ধরনের নেশা দ্রব্য। দিন যত গড়াচেছ এ আগ্রাসনের মাত্রা ততই বৃদ্ধি পাচেছ। 

একটি সূত্রের মতে কেবল মৌলভীবাজার জেলা ৭টি উপজেলার হাটবাজার-গ্রামগঞ্জে প্রতি মাসে দুই কোটি টাকার ইয়াবা-হেরোইন ও চোলাই মদ বিক্রি হচেছ। এ বানিজ্যের সাথে জড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক ক্যাডার, দল বদল করে সরকার দলে আসা সুবিধা ভোগী ব্যক্তি ও তাদের গডফদারগন। এক সময় গ্রাম্য জনপদে মাদক বলতে গাজার প্রচলন ছিল সীমিত পরিসরে। গেয়ো সাধু সন্ন্যাসী এবং বাউল ফকিরদের একাংশ গঞ্জিকা সেবনে অভ্যস্থ ছিল। সনাতন ধর্মাম্বলীদের পূজা-পাবনে বাংলা মদ ও গাজা সেবন করা হত। তাদের প্রশ্রয়ে উঠতি প্রজন্মের মধ্যে গাজা সেবনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলেও গাজা সেবীদের সংখ্যা ছিল সীমিত।

এখন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের স্থানীয় পরিসংখ্যানে গ্রামে মাদক সেবীদের সংখ্যা উন্নিত হয়েছে ১২ থেকে ১৫ জনে। কারো উপস্থিতি প্রকাশ্যে আবার কারো অবস্থান রয়েছে আড়ালে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদকের উপকরন হিসেবে ফেনসিডিলের প্রয়োগ শুরু হয় ৮০দশকের সূচনাতে। তার আগে প্রচলিত ছিল মৃতসঞ্জীবনী সুরা। এটি নিষিদ্ধ হবার পর ফেনসিডিলের প্রসার বাড়তে থাকে। ভারত থেকে  কমলগঞ্জ, বড়লেখা ও কুলাউড়া সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল আসা শুরু হয়। তবে বড় চালান আসতো ব্রাম্মনবাড়ীয়া ও আখাউড়া থেকে। শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন থেকে এ চালান ছুটে যেত শেরপুর এমনকি নবীগঞ্জ পর্যন্ত। 

আশির দশকের মধ্যভাগে থেকে শুরু হয় হেরোইনের অভিযাত্রা। শ্রীমঙ্গলের এক শিল্পপতি এবং মৌলভীবাজারের এক বাস ম্যানেজারের মাধ্যমে বিলি বন্ঠনের সুবাধে হেরোইনের বাজার এখন প্রসারিত হয়েছে গ্রাম-জনপদে। বর্তমানে হেরোইন ও ইয়াবা হচেছ নেশাখোরদের শীর্ষ উপকরন। শহরের বিভিন্ন গডফাদার এবং রাজনৈতিক দলের ক্যাডারদের একাংশ হেরোইন ও ইয়াবা  ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েছে। থানা থেকে জেলা পর্যন্ত গড়ে উঠেছে নেটওয়ার্ক। গ্রামেগঞ্জে ভ্রাম্যমান মাদক ব্যবসায়ী দেখা যায়। ওরা নেশাখোরদেরে দেখে ঠিক বুঝতে পারে। ইশারা ইংঙ্গিতে কেনা বেচা হয়ে যায়। শহরের হেরোইন পুরিন্দা হয়ে চালান যাচ্ছে গ্রামেগঞ্জে। উঠতি যুবকদের ৩/৪জন মিলে গ্রামের নির্জন স্থানে এমনকি মন্দির ও ঈদগাহতে বসে  হেরোইন, ইয়াবা সেবনের আড্ডা। 
অনেক যুবক যুবতি নিজ ঘরে বসে মা-বাবার সামনে নেশা সেবন করে। মা-বাবা সম্মান রক্ষার্থে বা ভয়ে কিছু বলতে পারেননা। এতে করে মাদকসেবীদের সংখ্যা বাড়ছে বলে অনেকের ধারনা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মৌলভীবাজারে হেরোইন, ইয়াবা, গাজার বড় চালান আসে ব্রাম্মনবাড়ীয়ার বুধন্তি থেকে সড়ক পথে। ব্রাম্মনবাড়ীয়া শহর থেকে ট্রেনযোগে হেরোইন, ইয়াবা, গাজার চালান পৌছে শ্রীমঙ্গল ও কুলাউড়া রেল জংশনে বলে একটি বিশ্বস্ত সুত্র জানায়।

মৌলভীবাজারের দায়িত্বরত র‌্যাব- ৯ গত এক বছরে বিভিন্ন স্থানে অপারেশন চালিয়ে এক কোটি টাকার অধিক মূল্যের হেরোইন আটক করেছে। ডিবি পুলিশ মাঝে মধ্যে মাদকের ছোট ছোট চালান ধরতে পারলেও বড় ধরনের কোন সাফল্য দেখাতে পারেনি। থানা পুলিশের ভূমিকা রহস্য জনক। 


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162