এই মাত্র পাওয়া : ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিককে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘একুশে পদক’ প্রদান করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
 / জাতীয় / ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায়...
ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Tuesday, 13 February, 2018 at 9:43 AM, Count : 174
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

আজ পহেলা ফাল্গুন
। প্রকৃতি সেজে উঠছে নানা রঙে। ঋতুরাজের আগমনে প্রকৃতির মতো মানুষের মনেও ছড়িয়ে পড়ে বসন্তের রঙ। বসন্তকে বরণ করে নিতে তাই প্রকৃতির রঙে রঙ মিলিয়ে সবাই মেতে ওঠে উৎসবে। ‘ফুল ফুটুক-আর নাই বা  ফুটুক-আজ বসন্ত।’ বাঙালির প্রিয় কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় বসন্তকে প্রতিভাত করে গেছেন এই একটি বাক্যেই।

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি



ফাল্গুনের হাত ধরেই ঋতুরাজ বসন্তের আগমন। ঋতুরাজকে স্বাগত জানাতে প্রকৃতির আজ এতো বর্ণিল সাজ। বসন্তের এই আগমনে প্রকৃতির সঙ্গে তরুণ হৃদয়েও লেগেছে দোলা। সকল কুসংস্কারকে পেছনে ফেলে, বিভেদ ভুলে, নতুন কিছুর প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে বসন্তের উপস্থিতি। শীতের জীর্ণতা সরিয়ে ফুলে ফুলে সেজে ওঠেছে প্রকৃতি। গাছে গাছে নতুন পাতা, স্নিগ্ধ সবুজ কচি পাতার ধীর গতিতে বাতাসের সঙ্গে বয়ে চলা জানান দেয় নতুন কিছুর। শীতে খোলসে ঢুকে থাকা বন-বনানী অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠে। পলাশ, শিমুল গাছে লাগে আগুন রঙের খেলা। প্রকৃতিতে চলে মধুর বসন্তে সাজ সাজ রব। প্রকৃতি আজ দক্ষিণা দুয়ার খুলে দিয়েছে। সে দুয়ারে বইছে ফাগুনের হাওয়া। বসন্তের আগমনে পাতার আড়ালে-আবডালে লুকিয়ে থাকা বসন্তের দূত কোকিলের মধুর কুহু কুহু ডাক, ব্যাকুল করে তুলবে অনেক বিরহী অন্তর। ভ্রমরও করছে খেলা। গাছে গাছে পলাশ আর শিমুলের মেলা।

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি



ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করা বাঙালির ঐতিহ্য। প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলায় বসন্তবরণে ফাল্গুন মাসে বেশ কিছু লোকজ উৎসব পালিত হতো। এর অন্যতম হলো দোলযাত্রা বা বসন্ত উৎসব। ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে হতো দোলযাত্রা। এর পেছনে রয়েছে বৃন্দাবনে রাধা-কৃষ্ণের ও গোপীদের আবিরখেলার পৌরাণিক কাহিনি। বৈষ্ণব ধর্মমতে, এই তিথিতে শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে তার সাথিদের নিয়ে রঙ খেলায় মেতেছিলেন। দোল ও বসন্তবরণ উপলক্ষে মেলা বসত গ্রামেগঞ্জে। বাংলার বাইরে অবিভক্ত ভারতের অন্যান্য স্থানে এটি হোলি উৎসব নামে প্রচলিত ছিল। এখনো ভারতে বাংলার বাইরে হোলি এবং বাঙালি অধ্যুষিত অঞ্চলে দোল উৎসব হয়ে থাকে। বসন্তকালে রাসমেলা বা রাসযাত্রারও প্রচলন হয় মধ্যযুগে। নবদ্বীপ থেকেই রাসমেলার উৎপত্তি। এটিও মূলত বসন্তকালেই হয়ে থাকে। বাংলাদেশের খুলনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে রাসমেলা হয়ে থাকে। রাসমেলায় কীর্তনগানের আসর, নৃত্য ইত্যাদির আয়োজন থাকে। এ ছাড়া গ্রামে গ্রামে শীতলাদেবী বা বসন্তদেবীর পূজার রেওয়াজ ছিল প্রাণঘাতী রোগ থেকে বাঁচার অনুপ্রেরণায়। শীতলা বা বসন্তদেবী ছিলেন বাংলার লোকজ দেবী।

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি



প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলায় বসন্তবরণের আরেকটি অনুষ্ঠান ছিল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ফাল্গুনী পূর্ণিমা উদযাপন। মধ্যযুগে সম্রাট আকবর বাংলা বর্ষপঞ্জী হিসেবে আকবরি সন বা ফসলি সনের প্রবর্তন করেন। সে সময় ১৪টি উৎসব পালনের রীতিও প্রবর্তিত হয়। এর অন্যতম ছিল বসন্ত উৎসব। সে সময় বাংলার সব সম্প্রদায়ের মানুষই বসন্তবরণে বিভিন্ন লোকজ উৎসব ও মেলায় অংশ নিতেন।

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি



আধুনিককালে ধর্মনিরপেক্ষ বসন্ত উৎসবের প্রচলন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ইংরেজ শাসনামলে বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলো হারিয়ে যেতে থাকে। এর পুনরুদ্ধারে ১৯২৫ সালে রবীন্দ্রনাথ বোলপুরে শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়ে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ব্যতিরেকে সব সম্প্রদায়ের পক্ষে পালনীয় বসন্ত উৎসব শুরু করেন। বর্তমানে বসন্ত উৎসব শান্তিনিকেতনের একটি ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এই উৎসবে রঙখেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলার আয়োজন থাকে। পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালির কৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রতি একের পর এক আঘাত আসতে থাকে। এর প্রতিবাদে বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির জাগরণ শুরু হয়। ষাটের দশকে বসন্ত উৎসব পালন শুরু হয় ঢাকায়। এ উৎসবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বাসন্তী রঙের পোশাক পরার বিশেষ রীতি প্রচলিত হয়। বাংলাদেশে নতুনভাবে বসন্তবরণ উৎসব শুরু হয় নব্বই দশকে। ১৪০১ বঙ্গাব্দ (১৯৯৪ সাল) থেকে চারুকলায় বসন্তবরণ শুরু হয়। জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ এই দিনকে বরণ করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় এবং ধানম-ির রবীন্দ্র সরোবর উন্মুক্ত মঞ্চে প্রতিবছর বসন্ত উৎসবের আয়োজন করে থাকে।

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি



বিশ্বের অন্যান্য দেশেও বসন্তবরণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রকম লোকজ উৎসব অনুষ্ঠানের প্রথা রয়েছে। চীনের বসন্ত উৎসব বিখ্যাত। গ্রেকো-রোমান, বৈদিক, প্রাচীন মিসরীয়সহ বিভিন্ন পুরাণে বসন্তসম্পর্কীয় কাহিনি রয়েছে। মূলত সব দেশের বসন্তবরণ উৎসবের মূল প্রেরণা হলো শীতের পর নতুন জীবনের উন্মেষকে বরণ করে নেওয়া। বসন্তবরণ উপলক্ষে আজ ঢাকাসহ সারা দেশে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছে। বাসন্তী পোশাক ও ফুলের গয়না পরা তরুণ-তরুণী ও শিশু-কিশোরের পদচারণায় মুখর হচ্ছে বইমেলা ও শাহবাগ। ফাগুনের প্রথম দিনে বসন্তের রঙ থাকবে বইমেলাতেও। ১৯৫২ সালে এমনই এক বসন্তের দিনে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরো অনেক ভাষা শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাঙালির রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা আদায় হয়েছিল। ঋতুরাজ বসন্ত ঘিরে বাংলাদেশের মানুষের যে আবেগ, তা পরশ বইমেলায়ও পড়ার অপেক্ষায় রয়েছেন প্রকাশকরা।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162