সোমবার, মে ২১, ২০১৮ | ৭, জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫
 / জেলার খবর / হাত বাড়ালেই মিলছে ‘ইয়াবা’
সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি; ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Tuesday, 13 February, 2018 at 7:59 PM, Update: 13.02.2018 8:06:45 PM, Count : 137
হাত বাড়ালেই মিলছে ‘ইয়াবা’

হাত বাড়ালেই মিলছে ‘ইয়াবা’

মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখানে হাত বাড়ালেই মিলছে মরণনেশা ইয়াবা ট্যাবলেট। উপজেলার সর্বত্র এই মরননেশার বিস্তার ঘটেছে। সেবনকারীদের কাছে ইয়াবা ট্যাবলেটের নাম ‘বাবা’। লাল ও গোলাপী রংয়ের এই ট্যাবলেটের নেশায় ভুত হয়ে পড়েছে যুব ও তরুণ সমাজ। 
গেলো৬ মাসে সিরাজদিখান থানা পুলিশ ১১৪ জন ইয়াবা বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার করেছে ৫ হাজার ৬শ ৩৬পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। আর থানায় মাদক মামলা দায়ের করা হয় ৯৬ টি। গ্রেফতারকৃতদের বেশীর ভাগই খুচরা ইয়াবা বিক্রেতা। তবে ধরা-ছোয়ার বাইরে থেকে গেছে ইয়াবা ব্যবসার গডফাদাররা। 
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, গ্রাম, মহলল্লা, হাট-বাজার ঘুরে ইয়াবা বিস্তারের ভয়াবহতার চিত্র পাওয়া গেছে। আগে নির্দিষ্ট কিছুস্থানে ইয়াবা বেচাকেনা হলেও এখন তা আর নির্দিষ্ট কোনো স্থানে নেই।‘কল অন ডেলিভারিতে’ ইয়াবা মিলছে সিরাজদিখানের সর্বত্র। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কতিপয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতা কেউই বাদ নেই ইয়াবার নীল ছোবল থেকে। 
হাত বাড়ালেই মিলছে ‘ইয়াবা’

হাত বাড়ালেই মিলছে ‘ইয়াবা’

ইয়াবা ব্যবসায়ীরা জানান, সিরাজদিখানে  মাসে গড়ে দেড় লাখেরও (১ লক্ষ ৫০ হাজার)  বেশী  পিস ইয়াবার চাহিদা রয়েছে। চাহিদার তুলনায় জোগান কম হলে বেড়ে যায় দাম। মানভেদে একেকটি ইয়াবার দাম সাধারণত দেড়শো শটাকা ১পঞ্চাশ থেকে ’শ টাকা করে বিক্রি করা হয়। 
সেবনকারীরা জানান, আগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোটবড় চলতো ইয়াবার বেচাকেনা ও সেবন। তবে এখন তা আর নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই। উপজেলার হাত বাড়ালেই এখন ইয়াবা মেলে। সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই চলে ইয়াবার কেনাবেচা। বিক্রেতাদের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে স্থানের কথা বললেই পৌঁছে দেয়া হয় মরন নেশা ইয়াবা। 

সিরাজদিখান উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের সবকয়টি ইউনিয়নে ইয়াবার সয়লাব তবে বালুরচর, মালখানগর, বাসাইল, কেয়াইন, শেখরনগর, রাজানগর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশী মাদক বেচা কেনা হয় ।  নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানাগেছে, থানা পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোয়ারা নেন।  টাকা না দিলে ইয়াবা ব্যবসায়ী কিংবা সেবনকারী ইয়াবাসহ আটক হলে থানা পুলিশ ইয়াবা কম-বেশী দেখিয়ে মাদক মামলা দিয়ে কোটে চালান দেন । 
সুশীল সমাজের মতে, পুলিশ, প্রশাসন দিয়ে পুরোপুরি মাদক বন্ধ করা সম্ভব নয়, মাদক বন্ধ করতে হলে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে মাদক সেবীর-বাবা-মা কিংবা অভিভাবককেই। অভিবাক সচেতন হলেই মাদকসেবীর সংখ্যা কমে যাবে । 
বিক্রমপুর কে,বি ডিগ্রি কলেলজের অধ্যক্ষ মো.সামছুল হক হাওলাদার বলেন, ‘মাদক বন্ধে প্রথমেই সচেতন হতে হবে বাবা-মাকেই,সন্তান যদি বাবা-মা এবং নিকট আত্মীয়-স্বজনের নিয়ন্ত্রনে থাকে এবং তারা যদি সন্তানের পিছনে একটু সময় ব্যয় করেন,সন্তান কোথায় যায়,কার সাথে থাকে এসমস্ত খোজ খবর যদি রাখতে পারেন তাহলেও মাদক অনেকটা কমে যাবে বলে আমার মনে হয়।
এ ব্যাপারে সিরাজদীখান থানার ওসি আবুল কালাম জানান, আমরা মাদকের সাথে কোন আপোষ করিনা, প্রতিমাসেই আটক করছি মামলা দিয়ে চালান করেছি কিন্তু প্রত্যেক অভিভাবক যদি একটু সচেত হতেন এবং থানা পুলিশকে সহযোগিতা করতেন,সামাজিক সচেতনতা এবং সামাজিক বন্ধন  যদি আরো বৃদ্ধি করা যেতো তাহলে মাদক থেকে মুক্তি পাওয়া যেতো।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162