এই মাত্র পাওয়া : ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিককে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘একুশে পদক’ প্রদান করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
 / মতামত / অপসংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ ভ্যালেন্টাইন ডে
মুহাম্মদ আনোয়ার শাহাদাত হোসেন
Published : Tuesday, 13 February, 2018 at 8:45 PM, Update: 14.02.2018 12:13:56 AM, Count : 200
অপসংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ ভ্যালেন্টাইন ডে

অপসংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ ভ্যালেন্টাইন ডে

১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালোবাসা দিবস! যা রোমান খিৃস্টান পাদ্রি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামানুসারে পোপ প্রথম জুলিয়াস ৪৯৬ খৃস্টাব্দে ১৪ ফ্রেব্রুয়ারি ঘোষনা করেন। তাছাড়াও ভ্যালেন্টাইন ডে’র পটভূমি নিয়ে আরো কয়েকটি মতামত পাওয়া যায় যা সকলের কম বেশি জানা আছে। আমাদের দেশে  নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু হয় ভ্যালেন্টাইন ডে উদযাপন। সাংবাদিক শফিক রেহমান ১৯৯৩ সালে তার সাপ্তাহিক ’যায়যায় দিন’ পত্রিকার মাধ্যমে তথাকথিত ভালোবাসা দিবসের আনুষ্ঠানিক আলোকপাত করেন এবং সেই থেকে বাংলাদেশে দিবসটির ব্যপকত্বের সূচনা হয়। 


ফেব্রুয়ারী মাস আমাদের ভাষার মাস। যে জাতি উর্দুর আগ্রাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য লড়াই করেছে, মায়ের ভাষার জন্য বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিয়ে নিজেদের সংস্কৃতিকে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করেছে সেই জাতি আজ নিজেদের জাতিসত্তার ইতিহাসকে ভুলে গিয়ে ভিনদেশী নোংরা সংস্কৃতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে তাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে। ভালোবাসার জন্য আলাদা একটি দিন পালন করা কি অতীব জরুরি? দিনক্ষণ নির্ধারন করেই কি আমাদের মা-বাবা, ভাই-বোন বা আপনজনদেরকে ভালোবাসতে হবে? ভালোবাসা তো প্রাণের সম্পদ। এটাকে বিশেষ একটি দিনের গন্ডিতে নিয়ে আসা কতটুকু যৌক্তিক? আমাদের প্রত্যেকের জন্ম হয়েছে ভালোবাসার মধ্য দিয়ে। তাই বিজাতীয় সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে ঢাক ঢোল পিটিয়ে এই রকম একটি দিবস পালন করার কোন প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করিনা।

বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ। এ দেশে মোট জনসংখ্যার শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ মুসলমান। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম হওয়ার কারনে এদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে ইসলামী তথা মুসলিম সংস্কৃতির মেলবন্ধন সেই সুদীর্ঘ কাল থেকে। আর বাঙালি হিসেবে আমাদের রয়েছে হাজার বছরের সংস্কৃতির এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। এদেশের গণমানুষের সাহিত্য, সংগীত, উৎসব, পোষাক, ভোজনরীতি ইত্যাদির আলাদা আলাদ রূপ বিরাজমান। যা আমাদের বাঙালি স্বকীয়তাকে বহন করে চলছে। তদুপরি আমরা অনুকরণ প্রিয় জাতি হিসেবে ভিনদেশী অনেক সংস্কৃতি কাল-পরিক্রমায় বাঙালি সংস্কৃতির অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি দোষের কিছু নয় কেননা পৃথিবীতে কোন সংস্কৃতিই ইউনিক নয়।  কালের বিবর্তনে সমযের পরিক্রমায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী তাদের সংস্কৃতির জগতকে সমৃদ্ধ করে অন্যের সংস্কৃতি দিয়ে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যখন বাচ-বিচার না করে নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে কোন বিষয়কে নিজেদের সংস্কৃতিতে একীভূত করে নিই। আবহমান বাংলার চিরায়িত সংস্কৃতি ও স্বকীয়তার বিকাশকে বিনষ্ট করতে পরিকল্পিত ভাবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চলছে বহু আগে থেকেই। সাম্রাজ্যবাদী কিংবা মিশনারী আদিপত্যবাদীরা নানান ছলে আমাদের সমাজে তাদের সংস্কৃতির জাল বিস্তার করছে। কেউ আবার তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে এই সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। এভাবে আমরা নিত্য প্রভাবিত হচ্ছি কোন না কোন বিজাতীয় অপসংস্কৃতির। 

র্তমানে প্রচলিত ভ্যালেন্টাইন ডে এমন একটি সংস্কৃতি যার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য বা অনুসঙ্গ কোন ভাবে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি কিংবা মুসলিম সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি আমাদের জন্য কোন সুন্দর ও হিতকর ফলাফলও বয়ে আনবেনা। অথচ আজ বাংলাদেশের তরুন-তরুনী থেকে শুরু করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ভ্যালেন্টাইন সংস্কৃতিতে পাগলপারা। শুধু যে তরুন সমাজ এতে মত্ত তা কিন্তু নয় আমাদের সমাজে যারা ’সুশীল’ নামে পরিচিত তারা সহ সংস্কৃতি অঙ্গনের প্রায় সকলে এই দিনকে নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠতে দেখা যায়।  দিনটি উপলক্ষ্যে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় থাকে বিশেষ আয়োজন। বিশেষ করে আমাদের স্যাটেলাইট চ্যানেল গুলোতে দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের হিড়িক পড়ে যায়। রাজধানী ঢাকা সহ অনেক জায়গায় দিনটি উপলক্ষে বিশেষ র‌্যালী, কনসার্ট সহ বিভিন্ন আয়োজন থাকে যেখানে খরচ হয় বিরাট অংকের টাকা।
যে দেশে এখনো লক্ষ মানুষ বাসস্থানের অভাবে রাস্তার ধারে, রেল ষ্টেসনে রাত কাটায়, মৌলিক অধিকার বঞ্চিত হাজারো মানুষ দুমুঠো অন্নের তাগিদে ময়লার স্তুপ থেকে উচ্ছিষ্ট সংগ্রহ করে সেই দেশে এই অনৈতিক ও অপসংস্কৃতির চর্চা করে লক্ষ লক্ষ টাকার অপচয় করার যৌক্তিকতা কতটুকু তা আমাদের ভাবা উচিত। একদিকে আমরা নারীর প্রতি সহিংসতা কিংবা ইভটিজিং রোধের কথা বলবো আর অন্যদিকে ভ্যালেন্টাইন ডে কিংবা থার্টিফাস্ট নাইট উদযাপনের নামে নারী-পুরুষের অবাধ ও অনৈতিক মেলামেশার সুযোগ করে দিব তা তো হতে পারেনা।


সংস্কৃতি সময়ের হাত ধরে তার জায়গা করে নেবে দেশ-কালের দেয়াল ভেঙ্গে কিন্তু যে সংস্কৃতি আমরা গ্রহণ করছি তা আমাদেরকে কতটুকু মানবিক করে তুলছে ভেবে দেখা জরুরি। সংস্কৃতি যদি আমাদেরকে মানবিকতার পরিবর্তে অশ্লীলতা বা অনৈতিকতা শিক্ষা দেয় তাহলে সেই সংস্কৃতি বর্জন করা-ই বাঞ্ছনীয়।

লেখক: কলামিস্ট
সৌদি আরব।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162