বুধবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৮ | ২৭, অগ্রহায়ণ, ১৪২৫
 / ডেসটিনি সংবাদ / ডেসটিনির বিচার শেষ হবে কবে?
জুয়েল হালদার; ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Thursday, 1 March, 2018 at 10:05 PM, Count : 1815
ডেসটিনির বিচার শেষ হবে কবে?

ডেসটিনির বিচার শেষ হবে কবে?

বিচারের আগেই আসামির সাজা ভোগ! অর্থ পাচার আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছর, সেখানে ডেসটিনির আসামি পাঁচ বছর পাঁচ মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। তাহলে ১০ বছরেও বিচার শেষ হবে কি? বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমের এমন এক বক্তব্য শুনে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে ডেসটিনির ৪৫ লাখ গ্রাহকের মধ্যে। 

গত বুধবার হাইকোর্টে ডেসটিনির অর্থ পাচার মামলায় লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলমের  জামিন আবেদনের শুনানিকালে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের বক্তব্য তুলে ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং টেলিভিশনের প্রচারিত খবর শুনে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ডেসটিনির গ্রহকদের মনে প্রশ্ন, তাহলে ডেসটিনির এমডি মোহাম্মদ রফিকুল আমীন এবং চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইনসহ অন্যরা দীর্ঘদিন ধরে যে বিনা বিচারে জেল খাটছেন তবে কেন জামিনে মুক্তি মিলছে না ?

আজ বৃহস্পতিবার দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ডেসটিনির অর্থ পাচারের মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, এই মামলার একটা সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করতে দুই বছর সময় লেগেছে। অন্যান্য সাক্ষীর সাক্ষী গ্রহণ করে ১০ বছরেও বিচার শেষ হবে কি না সেটা নিয়ে আমরা সন্দিহান। মামলার এক আসামির জামিন আবেদনের শুনানিকালে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম দুদক কৌঁসুলি খোরশেদ আলম খানকে এ সব কথা বলেন।

বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, অর্থ পাচার আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছর। সেখানে আসামি পাঁচ বছর পাঁচ মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। এখনো মামলা নিষ্পত্তি হয়নি। তাহলে কি বিচার শেষের আগেই আসামির সাজা ভোগ হয়ে যাবে?  

২০১২ সালের ৩১ জুলাই ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন, পরিচালক দিদারুল আলমসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে নগরীর কলাবাগান থানায় মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করে দুদক। বিশেষ জজ আদালতে এই মামলার বিচার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে মামলায় একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। ওই সাক্ষীর জেরা চলছে। মামলার আসামি লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম ২০১২ সাল থেকে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এই মামলায় জামিন চেয়ে তিনি বিচারিক আদালতে আবেদন করেন। ওই আবেদন খারিজ হলে তিনি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে রিভিশন আবেদন দাখিল করেন। 

গত বুধবার ওই আবেদনের ওপর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। 

শুনানিতে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, আসামি তো অর্থ পাচারের সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। আর অপরাধ সংঘটনে জড়িত থাকার বিষয়ে উনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। এতে বোঝা যায় আসামি একজন মাস্টারমাইন্ড। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, ফৌজদারি মামলায় অপরাধের দায়-এর বিষয়টি পৃথক করতে হয়। কারণ এর সঙ্গে শাস্তির বিষয়টি জড়িত। অপরাধের দায় অনুযায়ী সাজা দিতে হয়। অপরাধ সংঘটনকালে আসামি কত টাকা লেনদেন করেছেন সেটা বলুন। 

দুদক কৌঁসুলি বলেন, আসামির বিরুদ্ধে একাধিক চার্জ (অভিযোগ) আনা হয়েছে। আর এখানে মূল বিষয় হচ্ছে অর্থ পাচার। আসামি মানুষকে প্রলুব্ধ করেছেন বলেই এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। 

আদালত বলেন, প্রলুব্ধ করার জন্য আইনে পৃথক সাজা রয়েছে কি? সাজা  তো একটিই। 
এ পর্যায়ে আসামির আইনজীবী ব্যারিস্টার এম মাইনুল ইসলাম বলেন, আসামি ডেসটিনির চেয়ারম্যানও নয়। তিনি ডায়মন্ড বিল্ডার্স-এর সিইও। ইতিমধ্যে ৫ বছর ৫ মাস হাজতবাস করেছেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট আসামির জামিন আবেদনটি তিন মাসের জন্য স্ট্যান্ডওভার (মুলতবি) রাখেন।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162