সোমবার, ডিসেম্বর ১০, ২০১৮ | ২৬, অগ্রহায়ণ, ১৪২৫
 / ফিচার / অস্তিস্ব হারাচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের খাল
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম), ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Friday, 9 March, 2018 at 3:08 PM, Update: 09.03.2018 3:20:41 PM, Count : 468
ছবি- ডলু খাল

ছবি- ডলু খাল

দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে প্রায় ১৩টি খাল। জানা গেছে, ডলু, টংকা, হাঙ্গর, চাম্বি, হাতিয়ার, জামছড়ি, রাতার, কুলপাগলি, থমথমিয়া, সুখছড়ি, ধুইল্লা, সরই, বোয়ালিয়া খালসহ বিভিন্ন ছড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করেছে। আর ডলু, টংকা ও হাঙ্গর উপজেলার অন্যতম খাল। প্রধান এ তিনটি খাল পার্বত্য চট্টগ্রামের লামা থেকে উৎপত্তি হয়েছে। এসব খাল-ছড়া উপজেলা অভ্যন্তরে আঁকা-বাঁকা পথে প্রবাহিত হয়ে এলাকার সৌন্দর্যকে বৃদ্ধি করেছে। খাল ও ছড়াগুলো লোহাগাড়ার কৃষি, মাটি ও মানুষের উন্নয়ন এবং জীবন-জীবিকার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বর্তমানে এসব খাল-ছড়াগুলোর অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে। ফলে এগুলো কৃষক, জেলেসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর তেমন কোনো উপকারেই আসছে না। শুধু নামেই খাল-ছড়াগুলো টিকে আছে। বুঝা যায় না এগুলো খাল-ছড়া, নাকি জমি।

এগুলো ক্রমশ ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে ভরা বর্ষা মৌসুমে পানি ধরে রাখতে পারছে না। ফলে শুষ্ক মৌসুমে খাল পাড়ের কৃষি নির্ভর মানুষ আমন-বোরোসহ অন্যান্য ফসলের চাষাবাদ করতে পারে না। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এলাকাবাসী। খালগুলো ভরাট, বেদখল ও নাব্যতা হারিয়ে যাওয়ায় বোরো মৌসুমে সেচ সংকট ও বর্ষা মৌসুমে খালের পাড়-তীর ভেঙে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে শত-শত ঘর-বাড়ি ডুবে যায়। অথচ এক সময় ডলু-টংকা-হাঙ্গর খালসহ অন্যান্য খাল দিয়ে বান্দরবানের পাহাড়ি অঞ্চলের গাছ-বাঁশ ও মালামাল এবং বাঁশের ভেলায় পণ্যবোঝাই হয়ে বিভিন্ন স্থানে যেত। খাল-ছড়া থেকে মৎস্য আহরণ করে শত শত জেলে জীবন জীবিকা নির্বাহ করত। এমনকি এসব খাল-ছড়ার তীরবর্তী ৩৫টি গ্রামের ৪০ হাজার পরিবার কৃষির উপর নির্ভরশীল।

ছবি- দু'পাশে ভরাট হয়ে যাচ্ছে টংকাবতী

ছবি- দু'পাশে ভরাট হয়ে যাচ্ছে টংকাবতী

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার কিছু খাল-ছড়ার অস্তিত্ব থাকলেও ডলু-টংকাসহ প্রধান খালগুলোর অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে। খালের অধিকাংশ স্থানে ভরাট হয়ে শুকিয়ে গেছে। কোন কোন স্থানে খালের বুক-পাড় সমান হয়ে গেছে। আবার অনেক স্থানে খালের চিহ্নও নেই। আর এ সুযোগে দখলদারেরা খাল দখল করে নিয়েছে। অন্যদিকে খালে জেগে উঠা বালি দিয়ে চলছে ব্যবসা। এতে করে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকাবাসী। চাষিরা জানান, শুষ্ক মৌসুমে প্রথম দিকে খালের পানি দিয়ে বীজতলা ও বোরো-রবি আবাদ করা গেলেও পরে বোরো-রবি চাষ সেচ সমস্যায় পড়ে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রমতে, উপজেলায় মোট চাষযোগ্য জমির পরিমাণ রয়েছে ১১ হাজার ৫শ' হেক্টর। এর মধ্যে সেচকৃত জমি ৫ হাজার ১৫০ হেক্টর। আর এ বছর বোরো চাষ হয়েছে ৩ হাজার ৬৫০ হেক্টরে। সবজী চাষ হয় ১ হাজার ৫ শ' হেক্টরে। সেচবিহীন জমি ৩ হাজার ১ শ' হেক্টর। পতিত জমি রয়েছে ৩ হাজার ৫৬ হেক্টর।

উপজেলা কৃষি অফিসার শামীম হোসেন জানান, লোহাগাড়ার খাল-ছড়াগুলোর দু‘পাশ দখল ও ভরাট হয়ে গেছে। কৃষক ও এলাকাবাসীর উপকারের জন্য খালগুলোর পুনরুদ্ধার ও সংস্কার  প্রয়োজন। খালগুলো সংস্কার হলে পানির ধারণ ক্ষমতা বাড়বে এবং লাভবান হবে কৃষকরা। আর শুষ্ক মৌসুমে বোরো চাষসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুব আলম জানান, উপজেলার খাল-ছড়াগুলো দখল সংক্রান্ত কোন অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162