রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮ | ৮, আশ্বিন, ১৪২৫
 / জেলার খবর / পরিবারের দুই শিশুকে ধর্ষণের পর হুমকি, অতঃপর...
মৌলভীবাজার, ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Monday, 12 March, 2018 at 9:47 PM, Update: 12.03.2018 10:24:57 PM, Count : 253
পরিবারের দুই শিশুকে ধর্ষণের পর হুমকি, অতঃপর...

পরিবারের দুই শিশুকে ধর্ষণের পর হুমকি, অতঃপর...

মৌলভীবাজারে একই পরিবারের দুই শিশু ধর্ষণের ঘটনায় প্রভাবশালীদের হুমকিতে ভিকটিমের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাদের ঘর বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে ধর্ষণকারীর পরিবার। এমন কি হাসপাতালে চিকিৎসারত ভিকটিম দুটিকে হাসপাতালে এসে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভিকটিমের পিতা।

এদিকে রাজনগর থানার (ওসি) ভিকটিমের নিরাপত্তার জন্য দুজন মহিলা পুলিশ নিয়োজিত রেখেছেন। রাজনগর উপজেলার ৬নং টেংরা ইউনিয়নের হরিয়ারপুর গ্রামের একই পরিবারের দুই শিশু ধর্ষণের ভিকটিমের পরিবার এখন খুব নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

রাজনগর থানা ধর্ষণকারী রাহিমকে আটক করে কোর্টে চালান করেছে। এদিকে সাড়ে চার বছরের শিশুর শারীরিক ভাবে অবনতি হয়েছে। শিশুটির প্রস্রাব হচ্ছে না বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। ভিকটিমের পিতার অভিযোগ, হাসপাতালের ডাক্তাররা ঠিকমত দেখাশুনা করছে না। এমন কি একই বেডে আরো শিশুদেরকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভিকটিমের পিতা আরো বলেন, আমার প্রায় সময় শিশুদের জন্য খাবার ও ঔষধের জন্য  নিচে যেতে হয়। সব সময় ভয়ের মধ্যে থাকতে হয় আমার। যে কোনো সময় তারা আমাকে মেরে ফেলতে পারে। আমার বাড়ির লোকের কি হচ্ছে বা হবে আল্লাহ ভালো জানেন। রাহিমের  বাবা-মা ও তার লোকজন আমার বাড়ি ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে আমাকে ও আমার ভাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে প্রতিনিয়ত।

উল্লেখ্য গত (৯ মার্চ)  শুক্রবার একই গ্রামের পার্শ্ববর্তী বাড়ির ফারুক মিয়ার ছেলে রাহিম মিয়া (১৩) দশ বছরের শিশু  মেয়েটিকে তার বাড়ি থেকে ফুসলিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এই রাহিম মিয়া একই কায়দায় ভিকটিমের সাড়ে চার বছরের চাচাতো বোনকে কিছু দিন পূর্বে ধর্ষণ করে। এই ঘটনা ধামা চাপা দেয়া হয় শুধুমাত্র রাহিমের মায়ের ভয়ে। তবে রবিবার (১১ মার্চ) শিশু দুটিকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হলে ঘটনাটি জনসম্মুখে প্রকাশিত হয়।

ভিকটিমের মা জানান, শুক্রবার দুপুর দুইটার সময় বাড়ির উঠানে খেলা করছিল আমার মেয়ে। এ সময় রাহিম মিয়া আমার বাড়িতে এসে বারান্দায় বসে। আমি তাকে আসার কারন জিজ্ঞেস করলে সে বলে, আজ কোনো কাজ নেই তাই কিছু ভালো লাগছেনা বলে ঘুরে বেড়াচ্ছি। কিছুক্ষন পর আমি ঘরে চলে যাই এবং শরীরটা ভালো না লাগায় শুয়ে পড়ি।  বেশ সময় পরে আমার মেয়ে কেঁদে কেঁদে বাড়িতে এসে বলে রাহিম তাকে জোর করে মুখে চেপে তার ঘরে নিয়ে যায় এবং তার সাথে খারাপ কাজ করেছে (ভাষায় বলার মত না)। আমি মেয়ের অবস্থা আশংকা জনক  দেখে কান্না-কাটি করি। আমার কান্না শুনে আশপাশের লোকজন এসে জড়ো হয়। তারা আমাকে শান্তনা দিয়ে ছেলের বাবার নিকট যাওয়ার জন্য বলে। ছেলের বাড়িতে গিয়ে ছেলের বাবাকে ঘটনাটি বললে ছেলের বাবা ও ভাই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে শান্তনা দেয়। ছেলের মা পারভীন বেগম আমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করে বলে, আমার ছেলে যা করছে ভালোই করেছে, ছেলেরা এরকম করেই- এতে দোষের কিছু নেই। তোমাদের  মেয়েও বড় হলে করবে, এখানে হাল্লা চিৎকার করে  কোনো লাভ নেই। চুপচাপ চলে যা। আমি তর্কে না জড়িয়ে মেয়ের অবস্থা খারাপ দেখে স্থানীয় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। ছেলের মা পারভীনের হুমকি ধামকির কথা মনে করে আমি হাসপাতালে না গিয়ে স্থানীয় ডাক্তার দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়েছি।

ছেলের বাবা কয়েকবার কয়েকজন মানুষ নিয়ে এসে আমার কাছে ক্ষমা চায়। এবং ছেলের বিচার করবে বলে আর ছেলে এ রকমের কাজ আর করবে না বলে আশ্বাস দেয়। কিন্তু ছেলের মা পারভীন বেগম হুমকি ধামকি দিতে থাকে। আমি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের শরণাপন্ন হই। চেয়ারম্যান মেম্বার আমাকে আইনের আশ্রয় নিতে ও মেয়ের সু-চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। মেয়ের বাবা জানান, আমার দুটি ছেলে ছিল, পর পর মারা গিয়েছে। এই মেয়েটাই আমার একমাত্র সন্তান। তাকে নিয়ে খুব দুঃচিন্তা ও ভয়ের মধ্যে আছি। রাহিম মায়ের আশ্রয় প্রশ্রয়ে দিন দিন খুব খারাপ প্রকৃতির ছেলে হয়ে উঠছে। এখন যদি সঠিক বিচার না করা হয় তবে ভবিষ্যতে ও আরো খারাপ হবে।  একই পরিবারের সাড়ে চার বছরের মেয়েকে এই ঘটনার কয়েক দিন পূর্বে রাহিম ধর্ষণ করেছিল। সেই ঘটনা রাহিমের মায়ের ভয়ে চেপে রাখা হয়েছিল। কিন্তু একের পর এক ঘটনা করেই যাচ্ছে রাহিম। কেবল তার মায়ের প্রশ্রয়ে।

এ বিষয়ে রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শ্যামল বণিক বলেন, ধর্ষণের ঘটনার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভিকটিমের পরিবারেকে হুমকির ব্যাপারে আমাকে কেউ কিছু  জানায়নি। আমি ভিকটিমের নিরাপত্তার জন্য দুজন মহিলা পুলিশ হাসপাতালে নিয়োজিত রেখেছি। সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162