বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮ | ৪, আশ্বিন, ১৪২৫
 / আন্তর্জাতিক / বিমানবন্দরের ভুল নির্দেশনায় বিধ্বস্ত বিমানটি ! (অডিও)
ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Tuesday, 13 March, 2018 at 9:44 AM, Update: 13.03.2018 10:02:56 AM, Count : 378
বিমানবন্দরের ভুল নির্দেশনায় বিধ্বস্ত বিমানটি ! (অডিও)

বিমানবন্দরের ভুল নির্দেশনায় বিধ্বস্ত বিমানটি ! (অডিও)

নেপালের কাঠমুন্ডুতে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এবং নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পাইলটকে দায়ী করলেও এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ দায়ী করছে বিমানবন্দরকে। বিধ্বস্ত বিমানটির পাইলট ত্রিভুবন বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) রুমের দু'রকম নির্দেশনায় বিভ্রান্ত হন।এটিসির সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনের অডিও’র শেষ চার মিনিট বিশ্লেষণ করে নেপালের সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে।



অডিওটি এরইমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ইউটিউবে। তা শুনে বৈমানিকরাও বলছেন, এটিসির নির্দেশনার ফলে প্লেনের ককপিট বিভ্রান্ত হয়েছে। ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়া ওই অডিও শুনে অনেকেই মন্তব্য করছেন, এটা পুরোপুরি এটিসির ভুল। তাদের ভুলের এমন মারাত্মক মাশুল গুনতে হলো বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্টদের।এ ঘটনায় এরই মধ্যে বিমানে থাকা ৭১ জনের মধ্যে ৫০ জন নিহত হয়েছেন।

ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ জানতে অনুসন্ধান চলছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে উঠে এসেছে এ নিয়ে নানা বক্তব্য।আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ত্রিভুবন বিমানবন্দরের জেনারেল ম্যানেজার রাজ কুমার ছেত্রি বলেছেন, বিমানটি নিয়ন্ত্রণকক্ষের নির্দেশনা না মেনে ভুল দিকে অবতরণ করেছে।

বিমানবন্দরের ভুল নির্দেশনায় বিধ্বস্ত বিমানটি ! (অডিও)

বিমানবন্দরের ভুল নির্দেশনায় বিধ্বস্ত বিমানটি ! (অডিও)



এদিকে, ইউএস বাংলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ এই অভিযোগ অস্বীকার করে আলজাজিরাকে বলেছেন, তাদের পাইলটের কোনো দোষ নেই। বরং নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ভুল নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো। হিন্দুস্থান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক সঞ্জীব গৌতম বলেছেন, দক্ষিণ দিক থেকে অবতরণ করার কথা থাকলেও বিমানটি অবতরণ করেছে উত্তর দিক থেকে।

নেপাল টাইমসের প্রতিবেদনে পাইলটের সঙ্গে এটিসির কথোপকথনের শেষ চার মিনিট বিশ্লেষণ করে বলা হয়, পাইলট ও এটিসির আলাপে বিমানবন্দরের রানওয়ে ০২ (দক্ষিণ প্রান্ত) ও রানওয়ে ২০ (উত্তর প্রান্ত) নিয়ে বিভ্রান্তি (কনফিউশন) বোঝা গেছে। বিএস২১১ যখন এগিয়ে যাচ্ছিল, অন্য প্লেনের নেপালি পাইলটরা শুনতে পান, এটিসি থেকে ইউএস-বাংলার পাইলটকে হুঁশিয়ার করা হচ্ছে যে, তাকে কিছুটা বিভ্রান্ত মনে হচ্ছে এবং তার উচিত রাডার অনুসরণ করা ও বিপজ্জনক পথ থেকে সরে যাওয়া। সেসময় বিমানবন্দরের পাশের পাহাড়ও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিলো না।

বিএস২১১ এর পাইলটের সঙ্গে আলাপের শুরুতেই এটিসিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আবারও বলছে রানওয়ে ২০ এর দিকে এগোবেন না।’ এরপর পাইলটকে আবার হুঁশিয়ার করে বলা হয় যেন অবতরণ না করেন, কারণ আরেকটি প্লেন নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রানওয়ে ২০ বা উত্তর প্রান্তে না নামার জন্য হুঁশিয়ারি পেয়ে পাইলট যখন ডান দিকে ঘুরতে প্রস্তুতি নেন, তখন তাকে আবার এটিসি থেকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি রানওয়ে ০২ (দক্ষিণ প্রান্ত) নাকি ২০-এ নামতে চান। তখন পাইলট জবাব দেন, ‘আমরা রানওয়ে ২০-এ নামতে চাই’। এরপর তাকে রানওয়ে-২০ এর শেষ প্রান্তে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়।

বিমানবন্দরের ভুল নির্দেশনায় বিধ্বস্ত বিমানটি ! (অডিও)

বিমানবন্দরের ভুল নির্দেশনায় বিধ্বস্ত বিমানটি ! (অডিও)



তখন বমবার্ডিয়ার প্লেনটিকে আবার প্রশ্ন করা হয়, তিনি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন কি-না? পাইলট উত্তর দেন, ‘নেগেটিভ’ অর্থাৎ নেতিবাচক। এতে তাকে আবার ডান দিকে ঘুরতে বলা হয়। তখন বিএস২১১ পাইলট বলেন, ‘অ্যাফারমেটিভ’ অর্থাৎ তিনি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন। এই অবস্থায় পাইলট বলে ওঠেন, আমরা রানওয়ে ০২-এ নামার প্রস্তুতি নিচ্ছি। যে রানওয়ে নিয়ে কথা হচ্ছিল, এটিসিও তখন তা ভুলে প্লেনটিকে রানওয়ে ০২-নামতে অনুমতি দিয়ে দেয়।

এদিকে তখন ১০ কিলোমিটার দূরে থাকা সেনাবাহিনীর একটি প্লেনকে এটিসি আবার ঠিক উল্টোটিই বলছিল, ‘বাংলাদেশের প্লেনটির জন্য রানওয়ে ২০ চূড়ান্ত।’ শেষ দিকে ইউএস-বাংলার পাইলটের গলায় অস্পষ্ট স্বরে শোনা যাচ্ছিল, ‘স্যার, আমরা কি নামার অনুমতি পেয়েছি?’ কিছুক্ষণ নীরব থেকে এটিসি কন্ট্রোলারকে উচ্চৈঃস্বরে হুঁশিয়ার করে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আবারও বলছি, ঘোরাও...’

এরপর কিছুক্ষণ নীরব থাকে সব, ফের এটিসি থেকে অগ্নিসংকেত বাজতে শুরু করে। তার অর্থ, প্লেনটি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং অগ্নিনির্বাপণী সংকেত চালু হয়েছে। এরপর একজন নেপালি পাইলট প্রশ্ন করেন রানওয়ে বন্ধ কি-না, তখন এটিসির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘রানওয়ে বন্ধ’। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক অনেক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিমানটির অবতরণ স্বাভাবিক ছিলো না।

দ্য হিমালয়ান টাইমস জানিয়েছে, এরই মধ্যে নেপালের প্রধানমন্ত্রী খাদগা প্রসাদ শর্মা এ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ৭১ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ৫০ জন নিহত হয়। তবে নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, নিহতের সংখ্যা ৪৯। এদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি তা জানা যায়নি।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162