রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮ | ৮, আশ্বিন, ১৪২৫
 / জেলার খবর / বিমান বিধ্বস্তে সন্তানহারা মায়ের আর্তনাদ
গাজীপুর, ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Tuesday, 13 March, 2018 at 6:56 PM, Update: 13.03.2018 7:11:56 PM, Count : 279
বিমান বিধ্বস্তে সন্তানহারা মায়ের আর্তনাদ

বিমান বিধ্বস্তে সন্তানহারা মায়ের আর্তনাদ

একটি মাত্র সংবাদে ফিরোজা আক্তারের স্বপ্নের রাজ্য উলোটপালট হয়ে যায়। চার-দিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে আসে। বারবার জ্ঞান হারায় তিনি। জ্ঞান ফিরলেই সাত রাজার ধন একমাত্র মানিক সোনা ও নাতীর জান ভিক্ষা চান আল্লাহর কাছে। কাঁদেন আর বলতে থাকেন ‘তোমরা আমার বাজানরে আইনা দেও, আমার নাতীরে আইনা দেও, তোমাদের পায়ে পড়ি আমার মানিকরে আনো’।

সোমবার রাত থেকে এভাবেই বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন আর জ্ঞান ফিরলেই একমাত্র সন্তান ও নাতীকে চাচ্ছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নগর হাওলা গ্রামের মৃত শরাফত আলীর স্ত্রী ফিরোজা আক্তার।

সোমবার দুপুরে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় প্রাণ হারায় তাঁর একমাত্র ছেলে এফএইচ প্রিয়ক (৩২) ও প্রিয়কের একমাত্র শিশু কন্যা সন্তান তামারা প্রিয়ন্ময়ী (৩)।

বিমান বিধ্বস্তে সন্তানহারা মায়ের আর্তনাদ

বিমান বিধ্বস্তে সন্তানহারা মায়ের আর্তনাদ

বিমান বিধ্বস্তের এ ঘটনায় মূহুর্তেই সারাবিশ্ব জেনে যায় মিডিয়ার কল্যাণে। শ্রীপুরের ওই গ্রামের ৫ জন ছিলো নেপালের বিধ্বস্ত বিমানে।

মামাতো-ফোফাতো দু’ভাই পরিবার নিয়ে আনন্দ ভ্রমনে গিয়েছিলে। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সাথে সাথেই প্রিয়কের শিশু কন্যা মারা যাওয়ার সংবাদ আসে কিন্তু প্রিয়কের তাৎক্ষণিক কোনো খবর পাওয়া না গেলেও পরে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে নিশ্চিৎ হওয়া যায় প্রিয়কও পৃথিবীর মায়া ছেড়ে বাবা-মেয়ে এক সাথে পরপারে পারি জমিয়েছেন। সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই প্রিয়কের পরিবারকে দু’চোখে দেখার জন্য উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে কৌতুহলী শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন ওই বাড়িতে।

এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।

এদিকে নিহত পরিবারের পক্ষ থেকে সোহানুর রহমান সোহাগ মঙ্গলবার সকালের ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে নেপালে পৌঁছে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কথা বলে নিহত প্রিয়কের চাচাতো ভাই মো.লুৎফর রহমানের সাথে। তিনি জানান, সোহান ইউএস বাংলার প্রতিনিধিদের সাথে প্রথমে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন নিহত প্রিয়কের স্ত্রী এ্যানি, মামতো ভাই মেহেদী হাসান মাসুম ও তার স্ত্রী স্বর্ণাকে দেখেন। পরে প্রিয়ক ও তার মেয়ে তামারা প্রিয়ন্ময়ীর মরদেহ দেখিয়েছেন তাদের। কিন্তু কখন মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোন তথ্য দিতে পারেনি।

এর আগে (সোমবার) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিহত প্রিয়কের বাড়িতে আসেন শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেহেনা আকতার। তাঁর সাথে ছিলেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. সোহেল রানা। এসময় প্রিয়কের মাকে সান্তনা দেয়াসহ সরকারের পক্ষ থেকে সকল সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, জেলা প্রশাসক মহোদয় নেপালে বাংলাদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তার সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। যে কোন তথ্য পাওয়া গেলে এই পরিবারকে তাৎক্ষণিক জানানো হবে।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162